শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

কবিতা

তারুণ্যের করিডোরে

মনি খন্দকার

 

তারুণ্য এক লাগামহীন দুরন্ত অশ্ব - সর্বত্র মানেনা ব্যাকরণ

কখনো পাহাড় ভাঙ্গা ভুল করেও ভাবে সমুদ্রে বাঁধ দিচ্ছে।

কেউ পাথর স্তুপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়- অনেকে বিবর্তনের ব্রীজ দেয়

নিজেকে রক্ষার এ এক মহার্ঘকাল- মহাদেশের সমান ব্যাপ্তিময়।

যেমন এখানে কৃষ্ণ দ্রোহে বিপন্ন হতে পারে আগামীর বিমান

বাজ্যিক ক্ষুধা মেটাতে কেউ যত্রতত্র হানা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়

কিংবা পারিপার্শ্বিক নষ্টের সংস্পর্শেও জাহাজ হারায়,

অনেকে নিজেকে গড়ার প্রচেষ্টা ফেলে অন্যের ষ্টিয়ারিং ধরে সক্ষম খোয়ায়

তারুণ্য  প্রত্যেকের জীবনেই অমূল্য ঘড়ি- দেখে চাবি দিতে হয়।

শিশুবেলা ও বার্ধ্যকের ভুল সেভাবে হৃৎপিন্ডে দেয় না হানা-

সবখানে খায়না তিযক দৃষ্টি শুধরিয়ে তবু রিপু করা যায়, কিন্তু হায়!

তারুণ্য একবার ছিঁড়ে গেলে সহজেই সেলাই নেয় না মেশিন,

তাই এই মূল্যবান কাল প্রতিশব্দ অঙ্ক কষে চলতে হয়।

চায়ের দাওয়াত, বিরানীর আপ্যায়ন, ফাস্টফুড কিংবা  কোল্ড ড্রিংক

যাই হোকনা কেন সক্ষম লিভারের গতিবিধি মেনে চলা উত্তম।

চায়ের মধ্যে ছেকারিং বিরানী বাসী কিনা দেখে খাওয়া

খাদ্যে জীবাণু থাকলে আগামী হবে তার দূষিত স্বাস্থ্যের কারণ।

তারুণ্য সকলের জন্য - সব চোখে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন

স্বীয় রাস্তায় কিভাবে চলছে? কোথায় সম্মুখে যানবাহন।

 

আমি এক মুগ্ধ শ্রোতা 

সুজিত হালদার 

 

এখানে এলে প্রকৃতির নিখাঁদ ভালোবাসা

আমাকে হাতছানি দেয় ডেকে নেয়

আবহমান বাংলার ছায়া সুনিবিড় নিসর্গ 

গোধূলী রঙ নিয়ে হেঁটে বেড়ায় পথে ঘাটে 

ফসলের মাঠে পাখির কলতানে

জীবন্ত হয়ে ওঠে জীবন নগর সভ্যতা 

এ যেন আশ্চর্য মায়ায় নাচতে থাকে 

প্রাণের স্পন্দন অপরাহ্নের শরীর 

মুখরিত সন্ধ্যায় সময়ের তরঙ্গে 

এখানে পুকুরের ডাঙ্গায় ঝোপঝাড়ে

পাখিরা গান করে মনের মাধুরী ঢেলে 

সুখ নেচে ওঠে অনন্য ভাবনায় নির্ঝর অনুরাগে

যে চোখে দেখি সর্ষেফুল হলুদ গাদা 

যে চোখ থাকে তোমার মায়ায় আবদ্ধ  

সে চোখ প্রকৃতির মতো কথা কয় ভালোবাসে

ভালোবাসে কলাবতী শিহরণ দেয় মনে

বলতে পারো আমি তোমার ফেলে যাওয়া 

সোনালী স্বপ্ন গোছাই- মুগ্ধ শ্রোতার মতো

যে স্বপ্ন টানে প্রকৃতির জাদুকরী স্পর্শে

গ্রামের অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে

যার মূল মন্ত্রের পটভূমি তুমি আমার সত্ত্বা

আমার সারা জীবনের সঞ্চিত ভালোবাসা

তোমাকে দিয়ে যাই সরল বিশ্বাসে

হে প্রকৃতির মানুষ তোমার বিশুদ্ধ ভালোবাসার 

আমি এক মন্ত্র মুগ্ধ শ্রোতা।

 

 

দূরে কোথাও অজানা অন্ধকারে 

হাসান নাজমুল

(কিশোরী নুসরাতকে নিবেদিত)

 

দূরে কোথাও অজানা অন্ধকারে

সরে গেছে সেই শহর;

যার কোলজুড়ে

ছিল প্রশান্তির প্রেম,

ওখানে মানুষ ছিল সবাই

অমিত্র ছিল না কেউ;

পাখিদের শান্ত আওয়াজে-

ভরে যেত মনের পৃথিবী,

সেই শহরকে ডাকতাম ‘শান্ত শহর’ বলে,

নব শহরের আগমনে

আজকে সরে গেছে সেই শহর;

নতুন শহরে কোথাও হৃদয় নেই

নেই নুসরাত, তনু;

মানুষের চোখে তাকাতেই

ভেসে ওঠে ধর্ষকের ছবি!

প্রাসাদের বুকগুলো 

আগুনে ঝলসানো শুধু,

শান্ত শহর আজকে সরে গেছে

দূরে কোথাও অজানা অন্ধকারে।

 

আল মাহমুদ স্মরণে

মুন্সি আব্দুল কাদির

 

তব বিদায়ে সূর্যটা আজ আঁধার ঘেরা

তব বিদায়ে চোখের জলে খানিক টেরা

তব বিদায়ে আকাশ আজি গোমড়া মুখে

তব বিদায়ে কাঁদছে সবাই দহন দুখে ।

 

এই বাংলায় আসলে তুমি তিতাস তীরে

মুখ চেনা যায় অনেক লোকের অনেক ভিড়ে

এই বাংলায় খুঁজলে তুমি মায়ের নোলক

তোমায় পেয়ে ধন্য এ দেশে ধন্য ধূলোক ।

 

আজকে তুমি পাড়ি দিলে প্রভুর ডাকে

মিষ্টি মধুর কত কথা রাখলে ফাঁকে

তোমার নামে দুচোখ ভিজা দেশান্তরে

তোমায় ছেড়ে পুড়ছে হৃদয় মন্বন্তরে ।

 

তুমি ছিলে সঠিক পথে আশার দিশা

তোমায় নিয়ে কাঁটত তিমির রাত্রি নিশা

জ্ঞানের তপন করব তপন দেশের আশা

আনলে স্বাধীন আনলে ভাষা সবার ভাষা ।

 

 

মৌনতার কোলাহল

ঊষার মাহমুদ

 

পিচ ঢালা জনশূণ্য পথ এক,

 কালো রঙের বিষন্নতা নিয়ে বয়ে চলে নদীর মতো;

পথ ফুরায়না আমার।

ওইতো পাহাড়ের ওপাশে আকাশ নেমেছে!

একটা আকাশইতো চাই আমার, একলা আকাশ। 

যতোই এগিয়ে গ্যাছি ততোই পিছিয়ে গেছো তুমি

যেতে যেতে একত্রিশ বসন্ত সামনে নিয়ে থেমে গ্যাছি,

যেখানা পথ থেমে গেছে নদী সামনে নিয়ে 

জলের দেয়ালে শূণ্যতার অট্রহাসি, আমি ঠাই দাঁড়িয়ে নাও সামনে নিয়ে।

পানিকৌড়ির লালচোখে থেমে আছে নদী..!

স্বপ্নদলের মিছিল ভেঙে  মৌনতার কোলাহল

জলে ভাসা কলমিলতার মতো এক জীবন অপূর্ণতা মহাকালের পথে

 অথচ, তোমার আত্মজীবনীর কোন পৃষ্ঠায় অস্তিত্ব নেই আমার

প্রেমিক হতে গিয়ে বরংবার হয়েছি তোমার ঘৃণার শিরোনাম ।

 

কত রাত জেগেছো

মুহাম্মদ ইসমাঈল

 

কত রাত জেগেছো

কত স্বাদ ও সাধ ত্যাগ করেছো

জীবন চলার পথে কত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছো

জীবনের কাছ থেকে এত প্রাপ্তির আশা করোনি

মহান প্রভুকে খুশি করার জন্য যে পথে হাঁটছো

সে পথ বড়ই পিচ্ছিল

এখানে টিকে থাকা বড়ই কষ্ট

যারা ঈমানের বলে বলিয়ান

তারাই একমাত্র টিকে থাকে

তারাই বেঁচে থাকে এ জগতে নয়তো পরজগতে ॥

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ