শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর একটি সাক্ষাৎকার

আবদুল হালীম খাঁ : (শেষাংস) প্রশ্ন: আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং তরুণ সমাজের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয় আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করেন?

উত্তর : আমাদের তরুণ সমাজে আমাদের জাতীয় শিক্ষা প্রচার বহুলাংশে ব্যর্থ হয়ে চলছে। তার বহু কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এই যে, আমরা বড়রা আমাদের বাস্তব জীবনের কর্ম সাধনা দিয়ে তাদের সামনে কোনো মহান আদর্শ তুলে ধরতে পারছি না। বর্তমান সমাজের যারা শাসক-হর্তাকর্তা, জনগণকে শাসন করে, দূরস্ত রাখার দায়িত্ব যতখানি, তাদের শিক্ষা ও ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি। আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষকরা পরীক্ষার নিড়ানী দিয়ে ছাত্রসমাজ থেকে যে জীবনগুলোকে বাদ দিয়ে বিদ্যালয়ের আঙিনার বাইরে ফেলে দেন, বিদ্যালয় থেকে বাদ পড়ে যাওয়া এসব তরুণদের কর্মক্ষেত্রের অন্যত্র খাটিয়ে নিয়ে তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। আমাদের সরকারের তেমন ব্যবস্থা নেই, পরিকল্পনাও নেই।

শিক্ষকরা এমন ছেলেদের বাছ দিয়ে বাদ দিয়েই খালাস, সমাজ এ ছেলেদের গাল দিয়েই খালাস। দেশ এ ছেলেদের মরতে দিয়েই খালাস।

অথচ এ শিক্ষকদের কর্তব্য পালনে অবহেলার দরুণ এতো অধিক সংখ্যায় ছেলে ফেল করে? সে শিক্ষকদের শাস্তি হয় না, তাদের প্রতি কেউ নিন্দা করে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির জন্য এই তরুণরা বেকার হয়ে সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে রয়েছে। দেশের অসংখ্য তরুণ এ কারণেই বিপদগামী হয়েছে এবং হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের সমাজপতিদের চিন্তা ভাবনা করা উচিত।

প্রশ্ন: আপনার কর্মজীবন সমাজের নানা কাজে ছড়িয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার, সমাজ সেবা- বিভিন্ন দিকে, এ সম্পর্কে আপনার অভমত কি?

উত্তর: আমি এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এদেশের আলো-বাতাসে মানুষের ভালোবাসা ¯েœহ প্রেম ভক্তি শ্রদ্ধায় উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি, কতজনের কত দানে আমি ঋণী হয়ে আছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য যখন যেদিকে যতটুকু সাধ্যানুসারে কাজ করার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: আমাদের সাহিত্যের বর্তমান বিষয় ও গতিধারা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

উত্তর: মনে হয়, বর্তমান বাংলা সাহিত্যের ধারায় সমাজ মানুষের কল্যাণধর্মী তেমন কিছু হচ্ছে না। বিজাতীয় আদর্শ প্রায় সবখানে আবর্জনার মত জমাট বেঁধে ওঠছে। জাতীয় আদর্শ বৃক্ষের চারা কোথাও গজিয়ে ওঠতে দেখা যাচ্ছে না তেমন একটা। এ অবস্থার পরিবর্তন চিন্তাশীল তরুণ লেখকরা করতে পারেন। 

প্রশ্ন: সমাজে ভালো কাজ করতে কি কখনো বাধাপ্রাপ্ত বা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন? হয়ে থাকলে তখন কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, অনেকবার অনেক কাজে বাধা প্রাপ্ত হয়েছি। বাধাদানকারী মুষ্ঠিমেয় সংখ্যার চেয়ে উৎসাহী কর্মীর সংখ্যা পেয়েছি প্রচুর। ফলে কোনো কাজই ঠেকে থাকেনি। দু’চারজনের নিন্দার দূষিত হালাকা হাওয়া চারদিকের অসংখ্য ভাই-বন্ধুদের প্রশংসা শ্রদ্ধাভক্তির ও ভালোবাসার বস্ত হাওয়ায় উঠে গেছে। আমি কর্মে এতো বেশি প্রশংসা পেয়েছি যে, অবন্ধুদের সমালোচনা কখনো মনে রেখাপাত ‘নিন্দার কাদা যদি না লাগিলো গায়’- গানটা মনে পড়েছে আর মনে মনে হেসেছি।

প্রশ্ন: স্যার, এক্ষণে অন্য রকম একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। কিছু মনে নেবেন না। শুনেছি, আপনি আর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক সাহেব পাল্লা করে অনেকবার অনেকস্থানে খেয়েছেন। একবার নাকি একটা বড় খাসি দুজনে খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছিলেন। আচ্ছা, এখন যদি কেউ আপনাকে দাওয়া দেন তবে তার কাছে কি খেতে চাইবেন?

উত্তর: আউস চালের ফেলা কেনাভাত, লাউয়ের পাতাভর্তা আর কাঁচা মরিচ দিয়ে পাকানো মাষের ডাল। ডালটা অবশ্যই খুব ঘন হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ