বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পাটশ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিক কর্মকর্তাদের তিন মাসের বেতন ও সাধারণ শ্রমিকদের ১০ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। শ্রম অধিদফতরের সভাকক্ষে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান।
 শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আট ঘণ্টার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। এদিকে, বকেয়া বেতনের আশ্বাসে চলমান ধর্মঘট স্থগিত করেছেন পাটকল শ্রমিকরা।
শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১৭ মের মধ্যে পে-ফিক্সেশন হবে। ১৮ মে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী শ্রমিকদের পে-স্লিপ ইস্যু হবে। শ্রমিকদের আরও যেসব দাবি আছে তা নিয়ে আগামী ৮ মে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে।
বৈঠকের আরও উপস্থিত ছিলেন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মো. নাছিম, ২০টি পাটকলের শ্রমিক নেতাসহ অন্যরা। এদিকে, আজকের বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়ায় পাটকল শ্রমিক নেতারা ধর্মঘটসহ সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থবরাদ্ধ, বদলী শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোধসহ বকেয়া মজুরি প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে।
সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে এক যোগে ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে পাটকলের শ্রমিকরা। কিন্তু আজকের বৈঠকের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করলেন পাটকল শ্রমিক নেতারা।
এদিকে খুলনা অফিস জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘটসহ সব কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে পাটকল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহকারী সম্পাদক ও খুলনাঞ্চলের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুরাদ হোসেন জানান, রাতের বৈঠকে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় চলমান ধর্মঘটসহ সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল ১০ সপ্তাহ’র মজুরি প্রদান এবং আগামী ১৮ মের মধ্যে মজুরি কমিশন শ্রমিকদের হাজিরা খাতায় লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি দাবির বিষয় নিয়ে আগামী ৮ মে মন্ত্রণালয়ে আবার বৈঠক হবে এবং সেখান থেকে অবশিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালে সোমবার রাতে ঢাকা শ্রম অধিদফতরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। এছাড়া বিজেএমসির চেয়ারম্যান, পরিচালক, পাটকল শ্রমিক লীগ নেতা ও সিবিএ-ননসিবিএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থবরাদ্ধ, বদলী শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোধসহ বকেয়া মজুরি প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে এক যোগে ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে পাটকলের শ্রমিকরা। কিন্তু আজকের বৈঠকের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করলেন পাটকল শ্রমিক নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ