বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মান নিশ্চিত না হয়ে আর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেবে না সরকার -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার মান নিশ্চিত না হয়ে যত্রতত্র আর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেবে না সরকার। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর ফলে কমেছে মাতৃমৃত্যুর হার, হ্রাস পেয়েছে শিশুমৃত্যুও। সরকারের হিসাব বলছে, মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। তার মধ্যে নুন নুন রোগ আর সংক্রামকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকছে মানুষ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোগীদের সেবায় চিকিৎসকদের আরো যত্নবান হওয়ার তাগিদ দিয়ে, সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলেন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধন করে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো পাঁচদিনব্যাপী জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সপ্তাহ। ‘স্বাস্থ্যসেবা অধিকার, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ এ স্লোগানে স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হতে পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও জিপগাড়ি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আশাদুল ইসলাম।
স্বাস্থ্য খাতে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। বিশেষায়িত নার্স গড়ে তোলার পাশাপাশি নার্সিং সেবায় শুধু বিজ্ঞান নয় যাতে যেকোনো বিষয়ে পড়ালেখা করে আসতে পারে সেবিষয়েও ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে কতজন ছাত্র, কতজন শিক্ষক এবং শিক্ষার মানটা কতটুকু হবে। সেসব বিবেচনা করেই করা হবে। আমাদের কিছু কিছু অভ্যাস আছে, একটা জিনিস যখন শুরু হয় সবাই সেটা করতে থাকে। সেভাবে যত্রতত্র করতে দেওয়া যাবে না, মানসম্মত হতে হবে। শিক্ষাদানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বৃহত্তর প্রচারণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জনসাধারণের পুষ্টিকর খাবার ও সুষম খাদ্য গ্রহণের জন্য একটি বৃহত্তর প্রচারণা চালানো জরুরি। আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে মানুষ বিভিন্ন রোগে প্রভাবিত না হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরো গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সব মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার ক্লিনিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এবং এখান থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৬-০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্লিনিকগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই বুনিয়াদি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রসবকালীন সময়ের জন্য দক্ষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকার আইসিটি ব্যবহার করে ‘স্বাস্থ্য বার্তা’ নামে কল সেন্টারের মাধ্যমে টেলি মেডিসিন সেবা চালু করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কারণে দেশের গড় আয়ু ৬৬ দশমিক ৮ বছর থেকে বেড়ে ৭২ বছর ছাড়িয়েছে এবং মাতৃমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৪৮ থেকে কমে ১ দশমিক ৭২ (প্রতি হাজারে) এবং শিশু মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০-এ ৪১ থেকে কমে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বর্তমানে প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী বাজেট থেকে অটিস্টিকসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা এ সময় অটিস্টিকদের কল্যাণে তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগের ব্যাপক বিস্তার ঘটায় এসব রোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ