বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ঢাকার নগরায়ন

আখতার হামিদ খান : জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (টঘঋচঅ)-এর বাংলাদেশ কার্যালয় ২০১৬ সালে বাংলাদেশের নগরায়ন ও অভিবাসন নিয়ে একটি মনোগ্রাফ তৈরি ও প্রকাশ করে। এই মনোগ্রাফে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের নগরায়ন এবং অভিবাসন সম্পর্কিত বিষয়ে কতিপয় সম্প্রতি আহরিত, অথচ এখনও অনুধাবন না করা তথ্য এবং তার আলোকে কৃতবস্তুনিষ্ঠ সুপারিশ স্থান পেয়েছে। মনোগ্রাফে ব্যবহৃত তথ্য উপাত্তাদি, আদম শুমারি, গৃহস্থালি ও শ্রম শক্তি বিষয়ক জরিপ থেকে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঈপ্সিত বিবর্তন ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে এসব তথ্য ও সুপারিশ পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

১৯৭৪ সালে দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৪ ভাগ নগর এলাকায় বাস করত। ২০১১ সালে নগর এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী সার্বিক জনসংখ্যার শতকরা ২৮ ভাগে উন্নীত হয়। জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০৪১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৪.৬ কোটি থেকে ৬ কোটি পর্যন্ত বাড়বে এবং এই বর্ধিত জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ নগর এলাকায় বাস করবে। নগর এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছোট থেকে বড় শহর, বড় শহর থেকে নগর ও মহানগর এলাকা। সম্প্রতি যোগাযোগ ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণের ফলশ্রুতিতে নগর এলাকার অনেক বৈশিষ্ট্য আগের সময়ের গ্রামাঞ্চলে এমনভাবে প্রবেশ করেছে যে, দেশব্যাপী নগরাঞ্চলে লভ্য বা প্রদানীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত করার সম্ভাবনা ও দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এরূপ উত্থাপনের বস্তুনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে একথা মনে রাখতে হবে যে সমকালে বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি নগরাঞ্চলে বাস করে। নগর এলাকার সবচাইতে বেশি বিস্তৃতি ঘটেছে ঢাকায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১৯০৭ সালে ঢাকায় কলকাতার এক-দশমাংশ লোক বাস করতেন; ১৯৮০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা কলকাতার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বলে হিসাবকৃত হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার লোকসংখ্যা কলকাতার লোকসংখ্যা অতিক্রম করে যায়। ২০১৫ সালে ঢাকায় কলকাতা থেকে ৩০ লাখ বেশি লোক বাস করে বলে প্রাক্কলিত হয়েছে। ঢাকার জনসংখ্যার এরূপ বৃদ্ধির বিপরীতে এই সময়ে রাজশাহীতে লোকসংখ্যা শতকরা ২১ ভাগ কমে গেছে, বগুড়ায় শতকরা ৯১ ভাগ বেড়েছে, ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারে লোকসংখ্যা শতকরা ১৩৩ ভাগের উপরে উঠে গেছে এবং কক্সবাজারে লোকসংখ্যা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি-শতকরা ৩৩২ ভাগ। বর্তমানে ১০ লাখ বা তার চাইতে বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট নগর/শহরে দেশের শতকরা ১৮.৫ ভাগ নগরবাসীদের বাস; সকল নগরবাসীর শতকরা ১৬.২ ভাগ বাস করেন ২ লাখ থেকে ১০ লাখ জনসংখ্যা সংবলিত নগরীতে, শতকরা প্রায় ১১ ভাগ বাস করেন ১ লাখ থেকে ২ লাখ জনগোষ্ঠী সংবলিত শহরে আর শতকরা ৪৪.৪ ভাগ লোক বাস করেন ১ লাখের চাইতে কম জনসংখ্যা সংবলিত শহরে।

বাংলাদেশের নগরায়ন আঞ্চলিক নিরিখে অসম। যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর শতকরা ৩৪ ভাগ নগর/শহর এলাকায় বাস করেন। এর তুলনায় দেশের পশ্চিম ভাগের নগর এলাকায় বাস করেন শতকরা মাত্র ১৭ ভাগ। ঢাকায় রাজধানীর অবস্থান এবং চট্টগ্রামে বন্দর সুবিধার বিস্তৃতি দেশের পূর্বাঞ্চলে নগরায়নের আধিক্যের কারণ বলে বিবেচিত। দেশের যে তিনটি নগর ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে শতকরা ৩০০ ভাগের চাইতে বেশি জনসংখ্যা বেড়েছে তাদের সবকটি পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

 দেশের পশ্চিমাঞ্চলের নগরায়নের শ্লথ গতি দেশের পূর্বাঞ্চলের আপেক্ষিকতায় সেই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার নি¤œতর হওয়ার কারণে ঘটেছে। খুলনায় নগরায়নের গতি শ্লথ হয়েছে সেখানকার পাট শিল্পের স্তিমিত হওয়ার কারণে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলশ্রুতিতে কলকাতা মহানগরের সঙ্গে খুলনা ও যশোরের যোগাযোগ ছিন্ন হওয়ার কারণে এই দুই এলাকায় নগরায়নের গতি বিঘিœত হয়। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অধিকতর গতিশীল পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অসর্ম্পূর্ণতা পশ্চিমাঞ্চলের নগরায়নের গতি স্তিমিত করে। ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত হয়। ২০১৯ সালে পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও উন্নীত হবে। অবশ্য এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রবৃদ্ধির করিডরে অধিকতর বিনিয়োগ প্রসারণের কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলে নগরায়নের গতি পশ্চিমাঞ্চলের গতির চেয়ে দ্রুততর হবে।

অভিবাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মনোগ্রাফে উল্লিখিত দেশের নগরায়নের কতিপয় বৈশিষ্ট্য স্পষ্টতর করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বগুড়া, নাটোর, যশোর থেকে বহির্অভিবাসন অন্তঃঅভিবাসন হারের প্রায় সমান হওয়ায় এসব শহরে কোন নিট অভিবাসন সাম্প্রতিককালে ঘটেনি বলে লক্ষ্য করা গেছে। এর বিপরীতে গাজীপুরে সবচাইতে বেশি অন্তঃঅভিবাসন ঘটেছে এবং বরিশাল থেকে তেমনি ঘটেছে উঁচুহারে বহির্অভিবাসন। তেমনি রংপুর, ফরিদপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুর থেকে বহির্অভিবাসন অন্তঃঅভিবাসনের চাইতে বেশি হয়েছে। বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীর ক্ষেত্রে বহির্অভিবাসন সবচাইতে বেশি বলে প্রতিভাত হয়েছে। আন্তঃঅভিবাসনের ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি বাড়া লক্ষ্য করা গেছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে। ঢাকা মহানগরে দেশের সব অঞ্চল থেকে জনগণ বসতি স্থাপন বা বাস করার জন্য আসছেন। এর মধ্যে সবচাইতে বেশি সংখ্যক আসছেন ঢাকার নিকটস্থ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর ও কুমিল্লা শহর থেকে। বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী থেকেও ঢাকাতে অধিকতর আন্তঃঅভিবাসন ঘটেছে বলে বিদিত হয়েছে।

অভিবাসনের সংশ্লিষ্ট উপাত্তাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সাম্প্রতিককালে ১০-২৯ বয়োবর্গের ঢাকায় আসা অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জন পুরুষের বিপরীতে ১৬৭ জন নারীর আগমন ঘটেছে। চট্টগ্রাম জেলায় তেমনি ১৬৬ জন মহিলা অভিবাসীর বিপরীতে ১০০ জন পুরুষ এসেছেন বলে দৃষ্ট হয়েছে। আগের যুগের অভিবাসীদের মধ্যে পুরুষের প্রাধান্যের বিপরীতে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। সম্ভবত এই দুই নগর এবং এতদসংলগ্ন বর্ধনশীল এলাকায় নারীদের কাজের সুযোগ বাড়ার ফলে এই ধরনের বিবর্তন ঘটেছে। এই বিবর্তনের ফলে নারীদের কর্মসংস্থান, আয় এবং সম্ভবত সামাজিক অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা প্রদান ও নির্যাতন রোধকরণ এবং বাসস্থান এ বিশেষায়িত স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যে পর্দা প্রথার দাপট কমে যাওয়া, নারীদের বিয়ের বয়স বেড়ে যাওয়া, সন্তান ধারণের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পরিবারের আয়তন অর্থনৈতিক বিবেচনার নির্দিষ্ট হওয়া বা কমে যাওয়া উল্লেখ্য। এও বলা হয়েছে যে, নগরাঞ্চলে কর্মরত নারীদের গ্রামাঞ্চলে সময়ান্তরিক যোগাযোগের ফলশ্রুতিতে সার্বিকভাবে সমাজের পুরুষ শাসনের একপেশে অসমতা কমে এসেছে।

বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতো নগরায়ন সংশ্লিষ্ট বিবর্তন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে অনুরূপ উন্নয়নের উৎপাদক হিসেবে বিবেচ্য। এই প্রেক্ষিতে নগরায়ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন ও অনুসরণ করা ঈপ্সিত। নগরায়ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করলে প্রতিকূল আর্থসামাজিক ফলশ্রুতি পরিহার করে বিশেষভাবে পরিবেশভিত্তিক পরিবর্তন অনুকূলে রেখে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এই লক্ষ্যে সম্ভবত আমাদের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে যথার্থ নীতি ও কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পরিধি বিস্তৃত।

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নগরায়নের একাংশ- গৃহায়ন ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধাদির জন্য সরকারের বিনিয়োগ হিসেবে ২০১৫-২০২০ সালে সর্বমোট ৯৮.২ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর বাইরে বরাদ্দ রয়েছে সিটি কর্পোরেশন (১১) ও পৌরসভার (৩২৩) উন্নয়নের জন্য তাদের বরাদ্দ। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত নগরায়ন ও সংশ্লিষ্ট অবিভাসনের ক্ষেত্রে মৌল কৌশল ও বরাদ্দ প্রয়োজনের নিরিখে কতিপয় দিকে বিবেচনার অপর্যাপ্ততা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিচয়ের অনুপস্থিতি প্রকট করে তুলে। মৌল কৌশল ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই ধরনের অপর্যাপ্ততা বা অনুপস্থিতি দূরীকরণে এসব ক্ষেত্রে অধিকতর সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে কতিপয় প্রধান দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সঙ্গত মনে হচ্ছেÑ

এক. নগরাঞ্চলে গৃহায়ণের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নগর এলাকায় সকল গৃহের মধ্যে শতকরা ২৮ ভাগের কম পাকা বলে বিবৃত হয়েছে। নগর এলাকায় কাঁচা বাসগৃহ সংখ্যায় সকল গৃহের প্রায় শতকরা ৪২ ভাগ এবং আধাপাকা বাসস্থানের সংখ্যা প্রায় শতকরা ২৯ ভাগ। এর বাইরে ঝুপড়ির সংখ্যা শতকরা ১.৫৬ ভাগে ভাগ বলে বিদিত হয়েছে। সারাদেশের নগর এলাকায় মোট ১৩৯৩৫ সংখ্যক বস্তি বিদ্যমান বলে বিদিত হয়েছে। নগরাঞ্চলে সিঙ্গাপুরের পথ অনুসরণ করে গৃহায়নের জন্য স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাসমূহ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানদিগকে সংশ্লিষ্ট করে এখনই একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়ন যোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করা সঙ্গত হবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারী ও স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের জমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিক্রি না করে দীর্ঘমেয়াদী ইজারার আওতায় দেয়া অধিকতর ফলদায়ক হবে।

দুই. যে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার প্রকল্প সরকার সম্প্রতি গ্রহণ করেছে তাদের স্ব স্ব এলাকার পাশে যথাযথ স্থানে গৃহায়ন এবং সকল নগর এলাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে দেশব্যাপী অর্থনৈতিক উন্নয়নের লেজ ধরে সারা দেশে বস্তিবাসের অধঃপতনতা সৃষ্টি হবে, যা ঈপ্সিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিন. বড় বড় নগরে এবং অর্থনৈতিক জোনে যাতে উৎপাদন ও নিপুণতার প্রতিকূল যানজট এড়ানো যায় তার দিকে এখন থেকে অধিকতর দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের যানজট জেলা পর্যায়ে সকল শহরে সম্প্রতি স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, প্রকৌশলীয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে কেন্দ্র করে যাতে না সৃষ্টি হয় তার দিকে এখন থেকেই অধিকতর দৃষ্টি দিতে হবে।

চার. সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্বল্পবিত্তদের জন্য যথাযথ গৃহায়নের লক্ষ্যে এসব কর্পোরেশন কর্তৃক শেয়ার বাজারের মাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সহযোগিতায় বন্ড ভাসিয়ে যথা প্রয়োজন অর্থ এবং আহরিত অর্থ বিনিয়োগ আহরণ করা সঙ্গত হবে। এই প্রক্রিয়ায় এসব সংস্থা সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে হাতে নিতে সক্ষম হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ