মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রতারণার মাধ্যমে খুলনা ও দৌলতপুরের ট্রাস্ট ব্যাংকের সাড়ে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ

খুলনা অফিস : ট্রাস্ট ব্যাংকের দৌলতপুর শাখায় ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি এর সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ব্যাংকের দৌলতপুর ও খুলনা শাখার ৬ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার বাদি ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন সহকারী পরিচালক মামলাটি তদন্ত করছেন। এর আগে দৌলতপুর থানায় মামলাটি হয়, পরে তা তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২৭ ডিসেম্বর মধ্যকার পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের দৌলতপুর ও খুলনার কয়েকজন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও সেটি সঠিক বলে উল্লেখপূর্বক নগদ ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ সময় গ্রাহকের অজান্তেই ১৮টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ঋণ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আল-আমিন এন্টারপ্রাইজ, এফজিএএম এন্টারপ্রাইজ, রহমানিয়া ট্রেডার্স, সামিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নওশীন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মাহদি কনসট্রাকশন, তাজ ট্রেডার্স, বিএল ট্রেডিং কর্পোরেশন, আলম কনসট্রাকশন, সনি ইন্টারন্যাশনাল, সালাম এন্টারপ্রাইজ, কাজী রাসেল এন্টারপ্রাইজ, এনএসআর এন্টারপ্রাইজ, শেখ বাণিজ্য ভান্ডার, অন্নি এন্টারপ্রাইজ, শেখ কনসট্রাকশন এবং রিয়াদ এন্ড লাবিব এন্টারপ্রাইজ।
এদিকে ব্যাংকের হেড অফিসের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এরূপ অপরাধের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৬ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের নামে সৃজিত ঋণের ৫ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৯১ টাকা ব্যাংকের নিজস্ব ফান্ড হতে পরিশোধ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ব্যাংকটির ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে চলতি বছরের ১৯ মার্চ দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর ২৯)। মামলার ধারাগুলো হল-৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৬৮/৪৭১/১০৯ পেনাল কোড-১৮৬০।
মামলার আসামিরা হলেন-ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও উপ-ম্যানেজার শেখ তৌহিদুল ইসলাম, বিএল ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী দিপংকর মন্ডল লিটন, ব্যাংকের এফএভিপি ও দৌলতপুর শাখা ম্যানেজার শারমিন আক্তার সুমী, জুনিয়র অফিসার শারমিন জামান ও জুনিয়র অফিসার মো. মেহেদী হাসান, ব্যাংকের ইভিপি ও খুলনা শাখার ম্যানেজার তানভীর হোসেন এবং খুলনা শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার খাইরুল হাসান মিয়া।
মামলার বাদি এবং ট্রাস্ট ব্যাংক দৌলতপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের কর্মচারীদের এই জালিয়াতি ধরা পড়ার ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের ফান্ড থেকে সৃজিত ঋণের বড় একটা অংশ পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর গত ১৯ মার্চ দৌলতপুর থানায় এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩০৯ টাকা উদ্ধার দেখানো হয়েছে। যার পরিমাণটিতে পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহম্মদ দায়ের করা মামলাটির সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, এজাহারের কপি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারাই তদন্ত করবেন। দুদক খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া বলেন, এজাহারের কপি সম্প্রতি পেয়েছি। তদন্তও শুরু হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গ্রাহকদেরকে না জানিয়ে পে-অর্ডারে ঋণ প্রদান করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানার পর ব্যাংকে আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, আমাদের কোন সমস্যা হবে না। যারা আত্মসাতের ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ