শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হলে অর্থনীতিতে অশনি সংকেত দেখা দিবে

মোঃ জাহিদ : গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্প, কল-কারখানা ও পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়বে, বিপর্যস্ত হবে জনজীবন। অর্থনীতিতে অশনি সংকেত দেখা দিবে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন  যৌক্তিকহারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। জনমনে প্রশ্ন যারা গ্যাস আমদানি করে তারাতো এ খাতে লোকসান দেয় না বরং লাভজনক অবস্থানে আছে। তাহলে কেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বললেন  যৌক্তিকহারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে? ওনার কথাতো সাধারণ জনগণের পক্ষে যায়নি। সেটি গেছে মুষ্টিমেও কয়েকজন ব্যবসায়ীর পক্ষে। ওনার এমনভাবে কথা বলা উচিত যাতে করে সাধারণ জনগণের পক্ষে তথা দেশের পক্ষে তার মতামত যায়। আমি মনে করি উনি যদি দেশকে ভালোবেসে থাকেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে থাকেন তবে অবশ্যই দেশের জনগণের পক্ষে কথা বলবেন আমার বিশ^াস। সব কোম্পানি লাভ করছে, এখানে সরকার ভর্তুকী দিচ্ছে না। দাম বাড়লে শিল্প-কারখানা অচল হয়ে যাবে, পরিবহন খাতে অরাজকতা দেখা দিবে, গ্যাসের দাম বাড়লে আন্দোলনে যাবে বিএনপিসহ অনেক  রাজনৈতিক দল। এতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল ১১ শতাংশ। ২০১৫ সালে বাড়ানো হয়েছিল ২৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ১১ শতাংশ, এবার বিতরণ কোম্পানগিুলো ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির আবেদন করেছে। পেট্রো বাংলার পরিচালক (অর্থ) হারুনর রশিদ বলেন, দেশীয়  তেল গ্যাস আহরণে সেভাবে কাজ না হওয়ার বিষয় বলেন দক্ষ লোকবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সাগরের তেল গ্যাস আহরণে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নেই। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো সরকার বলছে উন্নয়ন আর উন্নয়ন হচ্ছে, এতো উন্নয়নের পরও কেন  এই ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরী করা যাচ্ছে না। দেশ স্বাধীন হলো ৪৮ বছর । এখনো আমরা তেল গ্যাস আহরণের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরী করতে পারিনি। তাহলে কবে আমরা দক্ষ জনবল তৈরী করব? দেখতে দেখতে ৪৮ টি বছর পার হয়ে গেল বাংলাদেশের জনগণের জীবন থেকে। তাহলে সাধারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে আর কত বছর পর দক্ষ জনবল তৈরী হবে? এটা সরকার জনগণের সামনে বলতে হবে। দেশে যদি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে সব  ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম হবে। দক্ষ জনবলতো তৈরী হবে না বরং যারা দক্ষ তারা অদক্ষ পরিণত হবে। দুর্নীতির কারণে জ¦ালানির দাম বাড়ছে ভোক্তাদের এই অভিযোগের বিষয়ে জ¦ালানি বিভাগের যুগ্মসচিব জহির রায়হান বলেন “দুর্নীতি অনেকের মজ্জাগত দোষে পরিণত হয়েছে”। তাহলে উনার কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এক্ষেত্রে দুর্নীতি আছে। যারা এই সেক্টরের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়না কেন? তার মানে প্রশাসন একটা ব্যর্থ প্রশাসন। এর জন্য জনগণ কেন কষ্ট পাবে? প্রশাসনের এই ব্যর্থতার দায়ভার কে নেবে? দুর্নীতি দমন কমিশন বিএনপিসহ বিশদলীয় জোটের নেতাদের দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে পারে এই ক্ষেত্রে পারে না কেন? ২ কোটি টাকার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে দিন অতিবাহিত করছে। আর দুদক সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ধরতে পারছে না কেন? 

বিজিএমইএ জানায়, দেশে মোট উৎপাদিত গ্যাসের মাত্র ১৬.৬৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয় শিল্প খাতে। বাংলাদেশে মোট গ্যাস সরবরাহের আনুমানিক ৭-৮ শতাংশ হয় পোশাক খাতে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতে শিল্পে গ্যাসের মূল্য বর্তমানে প্রতি ঘনফুট ৭.৭৬ পয়সা  থেকে বাড়িয়ে ১৮.৪ পয়সায় উন্নতি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী শিল্পখাতে গ্যাসের মূল্য ১৩২ শতাংশ বাড়বে। এদিকে বিশ^ বাজারে পোশাকের দাম না বাড়লে ও প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ হারে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সময় মোট উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাস পেলেও তা অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত। আবার যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করছি তার চেয়েও বেশি বিল পরিশোধ করছি। অর্থাৎ গ্যাস ব্যবহার না করে তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে বাতাসের মূল্য দিচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ইভিসি মিটার চেয়ে আসছি, যাতে চাপ অনুযায়ী গ্যাসের দাম দিতে পারি। ২/ ৩ বছরেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি আমাদের ইভিসি মিটার দিতে পারেনি। বিকেএমএইএর ভারপ্রপ্ত সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে আমরা কি করব? গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য তিতাস গ্যাস ও বিইআরসিতে কিছু ঘাপটি মারা লোক আছেন যারা আমাদের কথা চিন্তা করেন না। তারা একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিতে চান। বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারণে এমডিজি অর্জন হয়েছে। এখন এসডিসি অর্জন আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশ বস্ত্র কারখানা সমিতির সভাপতি  মোঃ আলী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে প্রতি কেজি সূতার উৎপাদন খরচ ৭.৭২ পয়সা বা ৯ সেন্ট হারে বাড়বে। যেখানে বর্তমান স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রতি কেজি সূতায় ৩০ টাকা করে ভর্তূকী দিতে হবে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে বস্ত্রখাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে একাধিক প্রভাব পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ