সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

আনোয়ারায় ১২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব কোরিয়ার

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ১২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত একটি কোম্পানি ইস্টওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (ইডবিউপি)। ইতিমধ্যে সে অনুযায়ী নীতিমালা অবলম্বন করে তারা সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।
 আমদানি করা তরল গ্যাসচালিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে দ্বৈত জ্বালানি হিসেবে তেল ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে ইডবিউপি।সবদিক চিন্তা ভাবনা করে তারা জায়গা নির্ধারন করেছেন আনোয়ারা। তারা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে আগ্রহী তা সরকারকে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রতিটি ৬০০ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটের এ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিল্ড অন অপারেট (বিওও) পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় কোরিয়ান কোম্পানিটি। কেন্দ্রটি স্থাপনকারী কোম্পানিই এটি নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। কোরিয়ান এই কোম্পানিটি প্যাসিফিক এনার্জি ও ফরচুন এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে কেন্দ্রটি করার জন্য লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। বর্তমানে এই কোম্পানিটির ১১ হাজার ১৮৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মতো কেন্দ্র রয়েছে। কোম্পানিটি তাপ (কয়লা) ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভিজ্ঞ। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, জামাইকা, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশকিছু দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে কোম্পানিটি। তবে এই প্রজেক্টের জন্য এলএনজির সরবরাহ কী করে আসবে তা এখনো প্রস্তাবে বলা নেই। সরকার বলছে, যারা এ ধরনের কেন্দ্র করতে চায় তাদের শুধু কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না, জ্বালানির সংস্থানও করতে হবে। কিন্তু কোরিয়ান কোম্পানিটি এলএনজির সংস্থানের বিষয়ে কিছু বলেনি। সরকারের এই মহাপরিকল্পনায় শুরুতে ৫০ ভাগ কয়লা এবং অন্যান্য জ্বালানিতে বাকি ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা আছে। তবে এই পরিকল্পনা সংশোধন করে এলএনজিতে ১৫ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একই ক্ষমতার একটি এবং সামিট গ্রুপ দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের একটি এলএনজিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর বাইরে ভারতীয় রিল্যায়েন্স কোম্পানি ৭৫০ মেগাওয়াট এলএনজিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ কর্রপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে তিন হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট থেকে যাচ্ছে। সংকট কাটাতে গত বছর থেকে ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন (এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর) ক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। টার্মিনালটি ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করছে। এলএনজি টার্মিনালটি সর্বোচ্চ দৈনিক ৫২০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করছে। টার্মিনালটি নির্মাণ করেছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এপ্রিল এর মাঝামাঝি থেকে আরও একটি একই ক্ষমতার এলএনজি টার্মিনালের উৎপাদনে যাওয়ার কথ। টার্মিনালটি নির্মাণ করছে দেশের সামিট গ্রুপ।
 পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে বলা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। এই গ্যাস আমদানির পাশাপাশি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে অনেক কোম্পানিই আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা আস্তে আস্তে তাদের প্রস্তাব গুলি যাচাই-বাছাই করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ