মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খাশোগীর সন্তানরা বাড়ি পেল

২ এপ্রিল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক পোস্ট : ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগীর চার সন্তানের প্রত্যেককে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দিয়েছে সৌদি সরকার। প্রতিটি বাড়ির দাম ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। শুধু তাই নয়, নিয়মিত মাসোহারাও দেওয়া হচ্ছে তাদের। এ বাড়ি ও মাসোহারাকে ব্লাড মানি বা খাশোগীর রক্তের দাম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের সন্তানদের মুখ বন্ধ রাখতেই সৌদি সরকারের এমন উদ্যোগ।

সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, খাশোগীর সন্তানদের মাসে ১০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারের ঘনিষ্ঠরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ হত্যাকা- নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জনসমক্ষে কী প্রতিক্রিয়া দেখান; তা নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে রিয়াদের। সেই অস্বস্তি ঢাকতেই তাদের নগদ অর্থ এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দেওয়ার এই উদ্যোগ।

খাশোগী হত্যাকা-ের বিচার শেষ হওয়ার পর নিহতের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে যেন আরও কয়েক কোটি ডলার ‘রক্তের দাম’ পায় তা নিয়েও মধ্যস্থতার খবর পাওয়া গেছে। নৃশংস এ হত্যাকা-ের নির্দেশদাতা হিসেবে বরাবরই সামনে উঠে এসেছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম। জানা গেছে, এ মধ্যস্থতায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন যুবরাজে ভাই ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত খালিদ বিন সালমান। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে; নিশ্চিতভাবে সেটি জানা যায়নি।

খাশোগীর চার সন্তানের মধ্যে মাত্র একজনই বর্তমানে সৌদিতে বসবাস করছেন। বাকিরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, খাশোগীর আমেরিকা থাকা তিন সন্তান হয়তো তাদের সম্পদগুলো বিক্রি করে দেবেন।

এদিকে খাশোগী হত্যাকা-ের বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার বার্গার। তিনি বলেন, সৌদি বিচার বিভাগের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তারা পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।

ক্রিস্টোফার বার্গার বলেন, সৌদি আরবে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাস থেকে এ হত্যাকা-ের বিচারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এর আগে এ হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সৌদি আরবের ৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল ফিরিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হলিউড ফার্ম এনডেভার ট্যালেন্ট এজেন্সি। রিয়াদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। এনডেভারকে সমৃদ্ধ করা এবং এর কাজের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে ওই তহবিল বিনিয়োগ করেছিল রিয়াদ।

ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে এনডেভার। গত বসন্তে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বেশ কয়েকজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের উন্নয়ন এবং তেলের ওপর দেশটির নির্ভরতা কমাতে চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

গত বসন্তে এনডেভার ফার্মের প্রধান এরিয়েল এমানুয়েলকে বিনিয়োগ তহবিল দিয়েছিল সৌদি আরব। এর মধ্য দিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ডিজনির প্রধান র্¤িাহী রবার্ট ইগের এবং অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস একত্রিত হয়েছিলেন। তবে গত বছরের অক্টোবরে সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগীর হত্যাকে কেন্দ্র করে রিয়াদকে এ তহবিল ফিরিয়ে দিয়েছে এনডেভার।

সংশ্লিষ্ট দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খাশোগী হত্যার প্রতিবাদে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে এনডেভার। এর আগে উবার, গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বেশ কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের অক্টোবরে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলন বর্জন করে। এমন পরিস্থিতিতে তাই খাশোগীর সন্তানদের মুখ বন্ধে উদ্যোগী হয় সৌদি আরব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ