বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

হিন্দু সন্ত্রাস শব্দের আমদানি করে কংগ্রেস হিন্দুদের অপমান করেছে -----মোদি

২ এপ্রিল, ইন্টারনেট : ভোটের প্রচারে হিন্দুত্ববাদকে ফের অস্ত্র হিসাবে গ্রহণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সোমবার মহারাষ্ট্রের ওয়ার্দায় জাতীয় কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, হিন্দু অধ্যুষিত আসনে প্রার্থী দিতেই ভয় পাচ্ছে কংগ্রেস।’ আমেথির পাশাপাশি কেরলের মুসলিম অধ্যুষিত ওয়ানাড কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল গান্ধী। নাম না করে তাকে এভাবে খোঁচা দিলেন মোদি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দের আমদানি করে কংগ্রেস আসলে হিন্দুদের অপমান করেছে।

নরেন্দ্র মোদি হিন্দুত্বের পথ ধরলেও সেই পথ দিয়ে যাননি রাহুল গান্ধী। বরং যুব সমাজের মন জয়ে কর্মসংস্থানকে হাতিয়ার করেছেন। টুইট করে রাহুল লিখেছেন, ‘বিভিন্ন সরকারি বিভাগে এই মুহূর্তে ২২ লাখ শূন্যপদ রয়েছে। ক্ষমতায় এলে ৩১ মার্চ, ২০২০ এর মধ্যেই সেগুলি পূরণ করব।’

জানা গেছে, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভারতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সেভাবে সফল নয় নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। ক্রমশ বাড়ছে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা। ফলে যে যুবক সমপ্রদায় ‘মন্দির-মসজিদ’ ভুলে উন্নয়নের আশায় মোদিকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা কিছুটা বিরক্ত। এনডিএ সরকারের এই ব্যর্থতাই কাজে লাগাতে চাইছেন রাহুল। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, রাফালে বা জিএসটি’র মতো বিষয় ছেড়ে কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কথা রাহুলের কাছে তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টারা। ভোটারদের মন জয়ে তার উদ্দেশ্য কতটা কাজে আসবে তা বোঝা যাবে আগামী ২৩ মে।

এদিকে, এদিন মহারাষ্ট্রের ওয়ার্দায় নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘কংগ্রেস হিন্দুদের অপমান করেছে। সাধারণ মানুষ তাদের শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দলের (কংগ্রেস) নেতারা হিন্দু প্রধান কেন্দ্রে প্রার্থী দিতেই ভয় পাচ্ছেন।’ মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও বিস্ফোরণের পর ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দ ব্যবহার শুরু হয়। মোদি এ দিন দাবি করেন, ‘কংগ্রেস হিন্দু সন্ত্রাসবাদ শব্দের ব্যবহার করেছে। শান্তিপ্রিয় হিন্দুদের সন্ত্রাসবাদী বলছে। জনসভায় মোদির প্রশ্ন, একটাও ঘটনা দেখাতে পারবেন, যেখানে হিন্দু সন্ত্রাসের প্রমাণ মিলেছে।

নরেন্দ্র মোদির ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, সমপ্রদায়ের বিভাজন তাদের লক্ষ্য নয়, সকলেই এক দেশের সন্তান। সকলেই ভারতবাসী। কংগ্রেসের অভিযোগ, লোকসভা ভোটের প্রচারে বিজেপির প্রচারে অন্যতম হাতিয়ার মেরুকরণ তথা কট্টর হিন্দুত্ববাদ। সোমবার মোদি হিন্দুত্বের লাইন উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসকে হিন্দু বিরোধী প্রমাণের চেষ্টা চালিয়েছেন।

আমার মন্তব্যকে জাতীয় অঙ্গনে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

এদিকে, লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সে ব্যাপারে জানান, এই ইশতেহারে মানুষের চাহিদাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর আগের ঘোষিত ন্যায় প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন রাহুল।

তিনি আগেই বলেছিলেন, নির্বাচনে কংগ্রেস বিজয়ী হলে দেশের সবচেয়ে গরিব ২০ শতাংশ মানুষ বছরে ৭২ হাজার টাকা করে পাবে।  

ইশতেহার প্রকাশের পর রাহুল বলেন, এই ইশতেহারে মানুষের চাহিদাকে সম্মান করা হয়েছে, মতামতকে  গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর কোনো কৃষক যদি ঋণ মেটাতে না পারে, তাহলে ফৌজদারি মামলা হবে না। তাকে জেলেও যেতে হবে না। ইশতেহার  প্রকাশের সময় রাহুলের পাশে ছিলেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। 

রাহুল গান্ধী আরো বলেন, বছর খানেক আগে যখন আমরা ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম তখনই আমি বলেছিলাম অসম্ভব কোনো কথা ইশতেহারে রাখা হবে না। কারণ এমনিতেই প্রতিদিন আমাদের এত মিথ্যা কথা শুনতে হয়।  ইশতেহারে বলা হয়েছে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে  ২২ লাখ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া একশ দিনের কাজের সংখ্যা আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের জন্য আলাদা বাজেট করার কথা  বলা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, এখন  দেশে আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে। আর তা থেকে রক্ষা পেতে শকি থেরাপি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী  ভালো দিনের কথা বলেছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে চৌকিদারই চোর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ