বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

বিজ্ঞানের আলোকে মানুষের প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা

মোল্লা মোকছেদ আলী : মহান সৃষ্টিকর্তা আসমান, জমিন এবং এর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুরই স্রষ্টা। তিনি মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুকে মানুষের খেদমতে নিয়োজিত রেখেছেন। আসমান এবং জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুর প্রতি সৃষ্টিকর্তার একটি হুকুম আছে। সৃষ্ট জগত সৃষ্টিকর্তার এই হুকুম পুরা করার মাধ্যমেই মানুষের খেদমত করে চেেলছ। সৃষ্টিকর্তার এই হুকুমের চুল পরিমাণও বাইরে যাওয়ার কারও ক্ষমতা নাই। সৃষ্টিকর্তার এই হুকুম বস্তু জগতের অণু পরমাণু থেকে শুরু করে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, প্রাণিজগতের ক্ষুদ্রতম প্রাণী ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে নীল তিমি, মৎসকুল, পক্ষীকুল, বৃক্ষরাজি, মাটি সব কিছুর উপর বিরাজমান। আমি এই যে লেখা লিখছি এই লেখার কালির উপর সৃষ্টিকর্তার হুকুম আছে। এই কালিটি হচ্ছে কার্বন নামক মৌলিক পদার্থ। এই কার্বনের পরমাণুর উপর সৃষ্টিকর্তার হুকুম। আমি লেখার সময় ‘র’ এর নিচে যে ফোটা দিচ্ছি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন এই ফোঁটায় কার্বন পরমাণু আছে সাড়ে চারশত কোটি। তাহলে এক পৃষ্ঠায় কত কার্বন পরমাণু, একটি বইয়ে কত, আর পৃথিবীতেই বা কতটি কার্বন পরমাণু আছে। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে প্রতিটি পরমাণুর উপর সৃষ্টিকর্তার একই হুকুম। এদের প্রতিটি পরমাণুতে থাকবে ছয়টি প্রােটন, ছয়টি ইলেকট্রন। প্রোটন থাকবে কেন্দ্রে, ইলেকট্রন থাকবে বাইরে। বাইরে থাকার হুকুম আবার প্রথম কক্ষপথে ঘুরবে দুটি এবং দ্বিতীয় কক্ষপথে ঘুরবে চারটি। একটি পরমাণুরও ক্ষমতা নাই এই আইনের বাইরে যাওয়ার। বাইরে যেতে পারলে কালি আর কালি থাকতো না। এমন কোন পদার্থে পরিণত হত যা আমাদের উপকার না করে হয়তো ক্ষতি করে বসতো। আমরা যে পানি ব্যবহার করি তার এক গ্লাস পানিতে থাকে অসংখ্য পানির অণু। পানির একটি অণুতে থাকে দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু। একটি অক্সিজেন পরমাণুর থাকে দুইটি হাত আর একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর থাকে একটি হাত। প্রতিটি পানির অণুর প্রতি সৃষ্টিকর্তার হুকুম হলো একটি অক্সিজেন পরমাণু তার দুটি হাত দিয়ে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর হাত ধরবে এবং পানির একটি অণু হবে। এখানে অক্সিজেনের বলার সুযােগ নেই যে আমি হাইড্রোজেনকে ধরবো না আর হাইড্রোজেনের বলার সুযোগ নেই যে আমি অক্সিজেনের সঙ্গে মিশবো না। যদি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু ইচ্ছামত চলতে পারতো তাহলে দেখা যেত হাইড্রোজেন গ্যাস হয়ে আকাশে উড়ে গেছে এবং অক্সিজেন গ্যাস হয়ে গ্লাসের তলায় জমা হয়ে আছে।
উপগ্রহ, গ্রহ এবং নক্ষত্র যথাক্রমে চাদ, পৃথিবী এবং সূর্য। মহান সৃষ্টিকর্তার সুনির্দিষ্ট হুকুম মেনেই এরা মানুষের খেদমত করছে। চাঁদ তার গতি এবং আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাত্রে মানুষকে দিক এবং সময়ের নির্দেশনা দেয়। পূর্ণ চাঁদ পূর্ব আকাশে থাকে সন্ধ্যা রাতে, মধ্য আকাশে থাকে মধ্য রাতে, পশ্চিম আকাশে থাকে ভোর রাতে। অর্ধ পূর্ণ চাঁদ পূর্ব আকাশে থাকে মধ্য রাতে, মধ্য আকাশে থাকে ভোর রাতে। কাস্তের মতো চাঁদ পশ্চিম আকাশে থাকে সন্ধ্যা রাতে আর পূর্ব আকাশে থাকে ভাের রাতে। এটা মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে চাঁদের প্রতি হুকুম। চাঁদের এই হুকুম পালন করার কারণেই একজন মানুষ রাত্রে ঘুম থেকে জেগে বা বেহুশ অবস্থা থেকে হুশ হয়ে যদি চাদের দিকে তাকায় তাহলে মানুষটি সহজেই দিক এবং সময় জেনে নিতে পারে। পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। এটা সৃষ্টিকর্তার নির্ধারণ করা দূরত্ব। পৃথিবী এবং সূর্য উভয়ই চলন্ত অবস্থায় আছে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বেধে দেওয়া মধ্যকার দূরত্ব পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই। দূরত্ব একই থাকার কারণে আমরা সূর্য থেকে কাক্সিক্ষত তাপমাত্রা পেয়ে থাকি। যদি তারা পরস্পর নিকটবর্তী হতে পারতো তবে উচ্চ তাপে আমরা মারা যেতাম আবার যদি পরস্পর দূরে সরে যেতে পারতো তবে আমরা ঠান্ডায় মারা যেতাম। পৃথিবী তার সৃষ্টির শুরু থেকে আপন অক্ষের উপর চব্বিশ ঘন্টায় একবার ঘুরছে। এই চব্বিশ ঘন্টা সময় সৃষ্টিকর্তার নির্ধারণ করা। পৃথিবীর দ্রুত বা আস্তে ঘােরার কোন সুযােগ নাই। যদি দ্রুত বা আস্তে ঘুরতে পারতো তাহলে কখনো দিন রাত মিলে হতো ২০ ঘন্টা আবার কখনো হতো ২৮ ঘন্টা ফলে আমাদের ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড সব উল্টা পাল্টা হয়ে যেত। উল্টা পাল্টা হয়ে যেত আমাদের চব্বিশ ঘন্টার কার্যক্রম। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে একবার ঘুরছে। এ সময়টাও সৃষ্টিকর্তার বেধে দেয়া। এক্ষেত্রেও পৃথিবীর ঘোরার কোন স্বাধীনতা নাই। যদি থাকতো তবে সময়সূচী এবং আমাদের কার্যক্রমে একই রকম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। পৃথিবী যখন সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তখন কিছুদিন উত্তর গোলার্ধের দিকে হেলে কিছুদিন দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে হেলে ঘুরে। পৃথিবী উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে হেলে দুলে ঘােরে এটাও সৃষ্টিকর্তার হুকুম। পৃথিবী হেলে দুলে ঘোরার মাধ্যমে ঋতুর পরিবর্তন ঘটায় এবং মানবজাতিকে এক এক ঋতুতে এক এক ধরনের ফল মূল শাক সবজি উপহার দেয়। যদি পৃথিবীর সোজা হয়ে ঘোরার ক্ষমতা থাকতো এবং ঘুরতো। তাহলে ঋতুর পরিবর্তন হতো না এবং আমাদের সারা বছরই একই রকম ফল মুল খেতে হতো। প্রাণী জগতের ক্ষুদ্রতম প্রাণী ব্যাকটেরিয়া। প্রকৃতিতে এক চা চামচ উর্বর মাটিতে ব্যাকটেরিয়া থাকে ১০-১৫ লক্ষ। আর ব্যাকটেরিয়া থাকে সমস্ত পৃথিবীর মাটি পানি এবং বায়ুতে। তাহলে পৃথিবীতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কত? কিন্তু প্রতিটি ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টিকর্তার হুকুমে মানুষের খেদমত করে চলেছে। একটি ব্যাকটেরিয়ারও ক্ষমতা নেই সৃষ্টিকর্তার হুকুমের বাইরে যাওয়ার। এদের কেউ মানুষকে দুধ থেকে দই বানিয়ে খাওয়ায়, কেউ মরা জীবজন্তু পঁচিয়ে পরিবেশকে সুন্দর রাখে, কেউ বায়ুমন্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন মাটিতে সংবন্ধন করে, কেউবা পাট গাছ থেকে পাটের আঁশ ছাড়ায়। মানুষ দই বানানোর সময় কিছু পুরাতন দই একটি পাত্রের তলায় রাখে। তারপর পাত্রটিতে দুধ রাখে দই বানানোর উদ্দেশ্যে।
প্রথমে যে পুরাতন দই রাখা হয় তাতে থাকে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি সুনির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করে নির্দিষ্ট সময় পরে দুধকে দইয়ে পরিণত করে। মানুষ আবার এই দইয়ের কিছু অংশ পরে আরেকটি পাত্রে রাখে। এই দইয়েও থাকে ব্যাকটেরিয়া যারা আগের পাত্রে দই তৈরি করেছে। অতঃপর এই পাত্রে দুধ রাখে দই বানানোর উদ্দেশ্যে। ব্যাকটেরিয়াগুলি একই সময় পর ঠিক একই ধরনের দুই বানিয়ে মানুষকে দেয়। দ্বিতীয় পাত্রে এসে ব্যাকটেরিয়া বলতে পারে না যে গত পাত্রে ২৪ ঘন্টা কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি আমাদের দুই দিন বিশ্রাম নিতে হবে অথবা পূর্বের পাত্রে যেভাবে কাজ করেছিলাম এপাত্রে সেভাবে কাজ করতে পারবোনা। আমাদের যার যার ইচ্ছামত কাজ করবো। যদি বিশ্রাম নিতে পারতো তবে প্রথম পাত্রে দই বানাতে একদিন লাগলে পরের পাত্রে লাগতো তিন দিন এবং যেমন খুশি তেমন করে কাজ করার সুযোগ থাকলে একই ধরনের দই হতোনা। এমন একটা কিছু হতো যা হয়তো মানুষের খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়তো। এভাবে ব্যাকটেরিয়ার যে দলকে সৃষ্টিকর্তা যে কাজ করার জন্য নিয়োজিত রেখেছেন সে কাজ থেকে চুল পরিমাণও এদিক সেদিক করার সুযোগ তারা পায় না। একটি পুকুরের মাছের কথা যদি চিন্তা করি তাহলে দেখবো এরাও সৃষ্টিকর্তার হুকুমেই পালিত হচ্ছে এবং মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুকুরে সাধারণত রুই, কাতলা, মৃগেল, বাইন এ মাছগুলো থাকে। কাতলা মাছ থাকে পানির উপরের স্তরে, রুই মাছ থাকে মাঝের স্তরে, মৃগেল মাছ থাকে কাদার উপর এবং বাইন মাছ থাকে কাদার ভিতর। এদের খাদ্যও আলাদা আলাদা, এটাও সৃষ্টিকর্তার হুকুম। এই হুকুমের বাইরে যাওয়ার কারও সুযোগ নাই। সৃষ্টিকর্তার হুকুম মেনে চলে বলেই আমরা একই পুকুরে বিভিন্ন রকম মাছ চাষ করতে পারি। তাদের বাসস্থান এবং খাদ্যের কোন সমস্যা হয় না। পুকুরের বাইরে যে সমস্ত মাছ আছে তারাও সৃষ্টিকর্তার হুকুমের আওতায় থেকে আমাদের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা যদি পক্ষীকূলের দিকে তাকাই, বাবুই, চড়–ই, কাক, কোকিল, পেঁচা, মাছরাঙা, ঘুঘু, চিল, শকুন এদের প্রত্যেকের বাসস্থান, খাদ্য, আচরণ সুনির্দিষ্ট। একটি অন্যটির বাসস্থান, খাদ্য বা আচরণ গ্রহণ করতে পারে না। সৃষ্টিকর্তার দেয়া বিধান মানতে বাধ্য বলে প্রত্যেকেই মানুষের খেদমত করে চলেছে। বাবুই থাকে তালগাছে, চড়–ই থাকে অট্টালিকায়, কাক খায় পচা জিনিস, কোকিল খায় বটের ফল, পেঁচা খায় পােকামাকড়, মাছরাঙা খায় জ্যান্ত মাছ, ঘুঘু খায় শস্য কণা, চিল শকুন খায় নোংরা পঁচা জিনিস। এটা সবার জন্য সুনির্দিষ্ট। যদি নিয়মের কিছু পরিবর্তন হয় তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কোকিল চালাক কাক বোকা। কোকিল কাকের বাসায় ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটায়। কাক কোকিলের ন্যায় চালাক হলে কী হতো? কোকিল বাসা তৈরি করতে পারে না। সুতরাং কোকিল বাচ্চা ফোটানোর বাসা না পাওয়ায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিত। কোকিল বিদায় নিলে বটগাছের ফলের বিস্তার না ঘটায় বটগাছও বিদায় নিত। ফলে আমরা মানুষ বটগাছের ছায়া এবং অক্সিজেন পেতাম না। কাক যদি মাছ খাওয়া শুরু করতো তাহলে মাছরাঙা এবং মানুষের খাদ্যের অভাব দেখা দিত আর কাক যে নোংরা জিনিস খায় তা আমাদের চারপাশে জমা হয়ে আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতাম।
বৃক্ষরাজি আমাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজনীয় তিনটি জিনিস তথা অক্সিজেন, খাদ্য এবং পানি সরবরাহ করে। বৃক্ষ যে কারখানায় মানুষের জন্য খাদ্য এবং অক্সিজেন প্রস্তুত করে বিজ্ঞানীরা সেই কারখানার নাম দিয়েছেন ক্লোরোফিল। এই কারখানায় যে প্রক্রিয়ায় খাদ্য এবং অক্সিজেন প্রস্তুত হয় বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন সালোকসংশ্লেষণ। ক্লোরোফিল নামের এই কারখানার সংখ্যা কত? যদি বৃক্ষরাজি দিয়ে কলম বানানো হয় এবং সাগরের পানি দিয়ে কালি বানানো হয় তারপর যদি কারখানার সংখ্যা গুণে গুণে লেখা হয় তবে কালি কলম শেষ হয়ে যাবে কারখানার সংখ্যা শুনে শেষ করা যাবেনা। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ছোট একটি পাতায় থাকে কোটি কোটি ক্লোরোফিল নামের এই খাদ্য ও অক্সিজেন প্রস্তুতির কারখানা। তাহলে একটি গাছে কতটি কারখানা, একটি বাগানে কতটি, বাংলাদেশে কতটি আর পৃথিবীতে কতটি কারখানায় সৃষ্টিকর্তা মানুষের জন্য খাদ্য এবং অক্সিজেন প্রস্তুত করছেন।
প্রতিটি কারখানার কার্যক্রম একই। প্রতিটি কারখানায় একই সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটছে এবং প্রতিটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একই ধরনের উৎসেচক কাজ করছে। সৃষ্টিকর্তার এই অসংখ্য খাদ্য এবং অক্সিজেন তৈরির কারখানায় না আছে ভাংচুর, না আছে কর্মবিরতি, না আছে ধর্মঘট। সৃষ্টিকর্তার হুকুমেই চলছে অবিরাম মানুষের জন্য খাদ্য এবং অক্সিজেন প্রস্তুত। গাছ মূল থেকে যে পানি শোষণ করে সেই পানির এক অংশ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বাষ্প আকারে বাতাসে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে এই জলীয় বাষ্প থেকে হয় বৃষ্টি। এই বৃষ্টি থেকে আমরা যে পানি পাই সেই পানি প্রাকৃতিক পানির মধ্যে সবথেকে বেশি বিশুদ্ধ। সৃষ্টিকর্তা প্রাণী জগতের সদস্যদের খাদ্য, বাসস্থান, আচরণ যেমন মানুষের খেদমতের জন্য সাজিয়েছেন তেমনি বৃক্ষরাজির অবস্থান। দেহের আকৃতি ফলের প্রকৃতি মানুষের খেদমতের জন্য সাজিয়েছেন। তাল এবং নারিকেল দুইটি গাছের আকৃতি এবং ফল প্রায় এক রকম। এ গাছ দুটি সৃষ্টিকর্তা কীভাবে মানুষের খেদমত উপযোগী করেছেন একটু দেখা যাক। প্রথমত গাছ দুটির ফল অত্যন্ত বড়। গাছ থেকে ফল মানুষের মাথায় পড়লে ভয়ানক বিপদ ঘটে। তাই সৃষ্টিকর্তা গাছ দুটির শাখা প্রশাখা সৃষ্টি করেন নাই। নারিকেল গাছ যেহেতু উপকূলীয় অঞ্চল অর্থাৎ নদী সমুদ্রের তীরে ভালো জন্মায় এই জন্য নারিকেল ফলকে পানিতে ভাষার উপযােগী করেছেন আবার নারিকেল যদি কেউ গাছ থেকে না পাড়ে তবে মাতৃগাছে থাকা অবস্থায়ই নারিকেলের নতুন চারা গজায়। যাতে মানুষ যদি নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল না পাড়ে তবে পানিতে পড়ে একা একা ভাসতে ভাসতে যেখানে মাটি পাবে সেখানে গিয়ে নতুন গাছের জন্ম দিয়ে মানুষকে নারিকেল খাওয়াতে পারে। আবার তাল যেহেতু পানিতে ডুবে যায় তাই নদী থেকে দূরবর্তী এলাকায় তাল ভালো জন্মায়। আতা আর বেল একই রকম ফল। বেল গাছে যদি আতা হতো তাহলে আমরা কোনদিন আতা খেতে পারতাম না। আমরা খাওয়ার আগেই কাকে খেয়ে ফেলতো। বেল গাছ যেহেতু কাঁটাযুক্ত, সহজে বেল গাছ থেকে বেল পাড়া যায় না তাই বেল গাছে বেল হয়। আর বেল পাকলে তাতে কাকের দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। মাকাল ফল এবং আম একই রকমের দুটি ফল। যদি গাছ দুটি একই থেকে ফল দুটির পরিবর্তন ঘটতো তবে ভয়ানক বিপদ ঘটতো। মাকাল ফল এমন একটি ফল যা দেখতে সুন্দর কিন্তু কোনকাজে লাগে না। এমনকি পশু পাখিও এদের ছুঁয়ে দেখে না। এটি যদি আম গাছে ধরতো তাহলে এর বীজের বিস্তরণ ঘটতোনা। ফল গাছের নিচে পড়ে সেখানেই মাটিতে মিশে যেত এবং এই গাছ পৃথিবী থেকে বিদায় নিত। ফলে মানুষ অক্সিজেন পেত না। কিন্তু মাকাল ফল গাছ হচ্ছে লতানো উদ্ভিদ যেটি একস্থান থেকে অন্য স্থানে শাখা প্রশাখা তৈরির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অন্যের সাহায্য ছাড়া এরা নিজেরাই নিজেদের বীজের বিস্তার ঘটাতে পারে। মাকাল ফল গাছে আম ধরলে গাছ লাগাতো একজন এবং অল্প সময়ে গাছ অন্যের বাগানে চলে গিয়ে ফল ধরতো। ফলে অন্যে ফল খেয়ে যেত এবং ঝগড়া ফ্যাসাদ ঘটত। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা নিজেই বৃক্ষরাজিকে আমাদের কল্যাণে এমনভাবে সাজিয়েছেন যা মানুষ হাজার হাজার বছর চিন্তা করেও সাজাতে পারতো না।
মানুষের খেদমতে মহান সৃষ্টিকর্তা মাটি বিভিন্ন স্তরে সাজিয়েছেন। মাটির স্তর বিন্যাস হলো প্রথম হিউমাস, তারপর কাদা, তারপর বালি তার নিচে থাকে অভেদ্য স্তর। এই স্তরের নীচে পানি আর নামতে পারে না। এই স্তর বিন্যাসের কারণে বর্ষাকালে যখন বৃষ্টি হয় তখন বৃষ্টির পানির অনেকটা মাটিতে পড়ে হিউমাস কাদা এবং বালি অতিক্রম করে অভেদ্য স্তরে গিয়ে জমা হয়। বাকিটা ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে গড়িয়ে নদীতে পড়ে সাগরে যায়। এই স্তর বিন্যাসের সুবিধা হলো পতিত সমস্ত পানি নদীতে না যাওয়ায় বন্যার মাত্রা কম হয় আর যে পানিটা মাটি চুষে নেয় ঐটার একটি অংশ সরাসরি উদ্ভিদ শোষণ করে বাকিটা বালির স্তর দ্বারা পরিশ্রুত হয়ে অভেদ্য স্তরের উপর জমা হয় যা পরে উদ্ভিদ শিকড় দিয়ে এবং মানুষ নলকূপের সাহায্য ব্যবহার করতে পারে। সৃষ্টিকর্তার করা এই স্তর বিন্যাসের সামান্যতম পরিবর্তন হলেই মানুষের বিপদ ঘটতো। যদি অভেদ্য স্তরটি মাটির উপর হতো তাহলে বৃষ্টির সমস্ত পানি গড়িয়ে নদীতে পড়তে এবং বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতো আর অভেদ্য স্তরের উপর পানি জমা হতো না ফলে শুকনার সময় প্রয়োজনে উদ্ভিদ এবং মানুষ পানি পেত না। আবার হিউমাসের পর বালি তারপর কাদা তার নিচে অভেদ্য স্তর রাখা হতো তবে বালি দ্বারা পানি পরিশ্রুত হলেও পরবর্তীতে কাদার সাথে মিশে অভেদ্য স্তরের উপর ময়লা পানি জমা হতো ফলে আমরা আর মাটির নীচে পরিষ্কার পানি পেতাম না।
মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন অতিসামান্য। তাছাড়া প্রবন্ধও অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে তাই এখানেই শেষ করছি। পরম করুণাময় ও দয়ালু মহান সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের তাকে চেনার তৌফিক দান করেন। আমিন।
লেখক : সহকারী শিক্ষক (জীব বিজ্ঞান), খুলনা জেলা স্কুল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ