রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানুষ রাজপথ উত্তপ্তকারী তরুণ নেতৃত্ব চায়

* এ দেশে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই -মান্না
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আজ জাতির সামনে মহাবিপদ। ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে হবে না। আন্দোলন না করতে পারলে সরে দাঁড়ান। দেশের তরুণ সমাজকে নেতৃত্ব দেন। যারা রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে। তাদের দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। আমরা ব্যর্থদের নেতৃত্ব চাই না। মান্না বলেন, লাইসেন্স ছাড়া সরকারই ক্ষমতা দখল করে আছে। এ দেশে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চেতনা বাংলাদেশের’ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। চেতনা বাংলাদেশের সভাপতি ও দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রহিমের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, বগুড়া-৪ সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, চেতনা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ৩ মাস ধরে বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। অথচ আমরা ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে বেড়াই। সময় খুবই সংকীর্ণ। বেগম খালেদা জিয়া যে অবস্থায় আছে এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মহাবিপদ। এই বিপদে আমরা ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে বেড়াবো তা চলবে না। আমরা ভালো ভালো বক্তব্য শুনতে চাই না। আমরা রাজপথ উত্তপ্ত করতে চাই। রাজপথ উত্তপ্ত করতে যা করা দরকার আমাদের নীতিনির্ধারকরা আশা করি তাই করবেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যখন আমাদের নেতা-কর্মীরা জেল জুলুম অত্যাচারে অত্যাচারিত। মামলা হামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তখন জাতীয় ঐক্য গঠন করা হলো। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো লোকদেরকে নেতৃত্ব দেয়া হল। সারা দেশের মানুষ এই জাতীয় ঐক্যের পক্ষে আসলো। তখন কেন শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেল?
তিনি বলেন, বলা হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না এটা সারা বিশ্বকে দেখানোর জন্যই নির্বাচনে যাওয়া হয়েছে। এটা তো দেখানোর কিছু নাই। যখন সারাদেশের ভোটাররা বিএনপির পক্ষে তখন আমাদের নেতারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে পারল না কেন? এই ব্যর্থতা কার? এই ব্যর্থতা জনগণের না এই ব্যর্থতা আমরা যারা নেতৃত্ব দিয়েছি তাদের। এই ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। শুধু ভালো ভালো কথা বললেই হবে না। বলতে হবে এই ব্যর্থতা কেন আসলো? এর জবাব জনগণকে দিতে হবে।
রাজপথ উত্তপ্ত করা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে রাজনৈতিক কারণে তাকে মুক্ত করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। আইনিভাবে তাকে মুক্ত করা যাবে না। অনেকেই বলেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে আইনিভাবে মুক্ত করবেন কিন্তু বর্তমানে এর ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ২৭-২৮ তারিখে যখন ঢাকায় সমাবেশ করতে চেয়েছিল। পুলিশ সমাবেশ করতে দেয় নাই। আর আমরা ভয়ে গর্তে ঢুকে গেছি। কেন আমরা সেদিন বেরিয়ে আসেনি? আমি আমার নীতি নির্ধারকদের বলবো এর ব্যর্থতা আপনাদের নিতে হবে। এর জবাব জনগণকে আপনাদের দিতে হবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে রাস্তায় নামতে হবে জানিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, গণতন্ত্র বলুন, ভোটারাধিকার বলুন, মানবাধিকার বলুন যা কিছু বলুন না কেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো কিছুই মুক্তি পাবে না।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ দেশে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই। বাসের কন্ডাক্টর যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, আর ড্রাইভার তার ওপর চাকা তুলে দেয়। ঢাকাসহ সারা দেশে যত ড্রাইভার আছে তাদের অর্ধেকের ও লাইসেন্স নাই, বলবেন কাকে? লাইসেন্স ছাড়া তো সরকারই ক্ষমতা দখল করে আছে। প্রথমে দল এরপর জোটকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে, বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর রাতে। সেদিন কি হয়েছে এটা সারা দেশের মানুষ জানে। যারা ক্ষমতায় আছেন তারাও জানেন।
মান্না বলেন, ২০১৪ সালে তথাকথিত নির্বাচনের পর মানুষ বলেছিল বিএনপি আসেনি কী করব। কিন্তু এবার সবাই নির্বাচন আসার পরে রাতের বেলা যে ভোট ডাকাতি হলো; এজন্য মানুষ এর প্রতিবাদ করছে। মানুষ ভোট দিতে যায় না এতেই বোঝা যায় তারা এই সরকারকে চায় না।
দেশের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে মান্না বলেন, একদিকে মানুষ মারা যায়, অন্যদিকে বিলাসের অট্টালিকা গড়ে। ঢাকা শহরের বড় বড় বাড়িগুলোর দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু অপরদিকে মানুষের যে কষ্ট সেগুলো তারা বলে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ