শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশে দেশে অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা

আবু হেনা শাহরীয়া : সান্তিয়াগোতে ১৮৬৩ সালের ৮ ডিসেম্বর এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দুই হাজারের বেশী মানুষ মারা যায়।  ১৮৯৩ সালের ২ আগস্ট চীনের ক্যান্টনে এক থিয়েটারে আগুন লেগে এক হাজার ৯৯৫ জন মারা যায়। ১৮৪৫ সালের ২৫ মে চীনের আরেক থিয়েটারে আগুন লেগে এক হাজার ৬৭০ জন মারা যায়। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ১৮৩৬ সালে এক অগ্নিকান্ডে ৮০০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ১৯১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ে এক অগ্নিকান্ডে ৬১৪ জন মারা যায়। ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এক অগ্নিকান্ডে হুন্ডুরাসে ৩৬০ জন মারা যায়। বাংলাদেশেও প্রায়শ: অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শতাধিক মানুষ মারা যায় বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। তবে সম্প্রতি অনেক দেশই অগ্নিকান্ড রোধে নিচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিভিন্ন দেশের অগ্নি প্রতিরোধ নিয়ে তাদের যেসব আয়োজন আছে সেগুলো নিয়েই আজকের এ আয়োজন।
আমেরিকা : আগুন প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য আমেরিকার নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস টিমে যারা কাজ করেন তাদের বলা হয় ফায়ার ফাইর্টার্স। ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী সে দেশে জরুরী অবস্থা নিয়ন্ত্রণে মোট ৫৮ হাজার ১৫০টি ফায়ারস্টেশনে ১১ লাখ ৩৪ হাজার ফায়ারফাইটার নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪৬ হাজার জন স্থায়ীভাবে চাকরীতে নিয়োজিত আছেন। আর বাকি সাত লাখের বেশী আছেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। আমেরিকার ফায়ার সার্ভিসে একই সঙ্গে অনেকগুলো ইউনিট কাজ করতে পারে। এদর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইঞ্জিন কিংবা পাম্পার ইউনিট। এরা সাধারণত উন্নতমানের পাম্প। পানির ট্যাংক এবং অন্যান্য জিনিসপত্রের সমন্বয়ে গঠিত। প্রাথমিক অবস্থায় এরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান এবং আগুনের উৎসস্থল খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
ট্রাক ইউনিট : এ ইউনিটের কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এরা ভবনের উচু স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেখান থেকে আগুনের উৎসস্তরে পানি সরবরাহ করে থাকেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে এরা দুর্ঘটনা কবলিত অংশে প্রবেশ করে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
রেস্কিউ ইউনিট : এই দলটির কাজ হচ্ছে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ওপরের টিমকে সাহায্য করা। এতে যেসব যন্ত্রপাতি দরকার যেমন, অক্সিজেন, কাটার, লাইটসহ বিভিন্ন কিছু সরবরাহ করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া। তাছাড়া এরা প্রয়োজন অনুসারে এ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করে।
স্কোয়াড : এটি একটি বিশেষ টিম। যারা বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গঠিত। এরা মূলত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য দক্ষ। আধুনিক যত যন্ত্রপাতি আছে সব কিছুই তাদের ইউনিটে রয়েছে। এছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টিম, ট্যাংকার, ব্রাশ প্যাটল, হেলিকপ্টার, এয়ার এম্বুলেন্স, ব্যাটালিয়ন চিফ সেদান, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস সুপাারভাইজরসহ আছে স্পেশাল ফায়ার ফাটটিার্স টিম। যারা বিভিন্ন অবকাঠামো, উঁচু বহুতল ভবন, ছোট গিঞ্জি পরিসর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাতে দক্ষ।
কানাডা : জরুরী অবস্থা নিয়ন্ত্রণে কানাডিয়ান ফায়ার সার্ভিসের আছে বিশেষ ব্যবস্থা। ই-ওয়ান নামের বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার করা হয় সে দেশের আগুণ নিয়ন্ত্রণের জন্য। এ গাড়ির ইঞ্জিন ব্যাপক শক্তিশালী এবং এতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পাওয়ার পাম্প লাগানো থাকে। যা দ্বারা খুব দ্রুত পানি সরবরাহ করা যায়। তাছাড়া অবস্থা ভেদে মাঝে মাঝে ড্রোন ব্যবহার করা হয়। গাড়ি ছাড়া এখানে ম্যাডিকেল ইউনিট, এ্যাম্বুলেন্স ইউনিট, রিস্কিউ টিমসহ অসংখ্য উইনটি একই সঙ্গে কাজ করে। মূলত প্রত্যেক ইউনিটের আলাদা আলাদা কার্যক্রমের কারণে কম সময়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কানাডিয়ান ফায়ার সার্ভিসে সুপার স্কুপার নামের আগুন নির্বাপক বিমানও যুক্ত আছে। এখানে প্রত্যেক ইউনিটের জন্য আলাদা আলাদা ট্রেনিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া : এখানে জরুরী অবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময় একটি বিশেষ ফোর্স সতর্ক অবস্থায় থাকে। যে কোনো ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা বদ্ধপরিকর। এখানে যেসব গাড়ি ব্যবহার করা হয় তাদের মধ্যে ‘ইসুজু এফটিএস ৭৫০’ মডেলের ক্লাস ওয়ান ট্যাংকার রয়েছে। যাতে করে দ্রুত সময়ে পানি সরবরাহ করা যায়। এছাড়া এরিয়াল পাম্পার, বিশেষ মইবাহী গাড়ি, হেভি হ্যাজম্যাট ভ্যান, হেভি রিস্কিউ ভেহিকল, ফায়ার এয়ার এবং স্পেশাল পুলিশ ফোর্স রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় মূলত চারটি ভাগে ভাগ করে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
লন্ডন : পাশ্চাত্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুসজ্জিত ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা রয়েছে লন্ডনের। আগুনসহ যেকোনো ধরণের জরুরী অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামদি সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ১২০টি পাম্প লেডার বা বিশেষ গাড়ি। যা দিয়ে শুধু পানি সরবরাহ নয়, সঙ্গে বিভিন্ন উঁচু স্থানের নিয়ন্ত্রণও নেয়া যায়। এখানে রয়েছে ৫৫টি পাম্প, হেভি ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিট, কমান্ড ইউনিট, হাই ভলিয়ম পাম্প, জরুরী গাড়িসহ ২০টি সুসজ্জিত ইউনিট।
জাপান : জাপানে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে ৪৮৯টি পাম্পার, ৩৪টি উদ্ধারকারী ট্রাক, ২৩৮টি আধুনিক এ্যাম্বুলেন্স, ৬৬টি রসায়নিক ট্রাক, ৮৬টি এরিয়াল লিডার, ৯টি ফায়ার বোট, ৯৩টি কমান্ড ইউনিট, ৭টি হেলিকপ্টার এবং অসংখ্য মোটরসাইকেল। এসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে এরা খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
হংকং : আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখানে রয়েছে হাইড্রোলিক প্লাটফর্ম। দুর্ঘটনা কবিলত স্থান থেকে যা দিয়ে আহতদের উদ্ধার করে আনা যায়। রেস্কিউ টেন্ডার, বড় দুর্যোগের সময় এটিকে ব্যবহার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ