বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী বহরে গুলীর ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত -সিইসি

চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী বহরে গুলীর ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কেন ঘটনা ঘটলো সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল না। দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ বুঝে এ হামলা ঘটিয়েছে। পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 
সিইসি কেএম নুরুল হুদা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতকর্তা ছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ নিরাপত্তাবাহিনী ভোটের দায়িত্বে ছিল। কিন্তু বহরে একাধিক গাড়ি ছিল। সামনে বিজিবির গাড়ি ছিল। কিন্তু পেছনের গাড়িটি হামলার শিকার হয়েছে। সেখানকার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ। বহরে নিরাপত্তা বাহিনীর যে গাড়ি ছিল, সেটি সামনে চলে গিয়েছিল। পেছনের গাড়িটির সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সে সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়ে দ্রুত চলে যায়।
বহরের পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ছিল না। সে সুযোগে হামলাকারীরা আক্রামণ করেছে কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে কেএম নুরুল হুদা বলেন, পেছনের গাড়িতে সশস্ত্র পুলিশ ছিল। তারাও হামলার শিকার হয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল না বলে তিনি জানান।
পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সংঘাতে লিপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেয়। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সিইসি চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান।
চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বর্তমানে ১০জন আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার রাতে আহত অবস্থায় ১৮ জনকে তিনটি হেলিকপ্টার যোগে সেখানে আনা হয়। আনার পথে মো. তৈয়ব আলী নামে এক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মারা যান। মঙ্গলবার সকালে গুরুতর আহত সাতজনকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জনের মধ্যে তিনজনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনে বাঘাইরহাট ও মাচালং ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাঘাইছড়ি ফিরছিলেন ওই দুটি কেন্দ্রে দায়িত্ব¡ পালন করা কর্মকর্তারা।
তাদের বহনকারী দুটি গাড়ি দীঘিনালা বাঘাইছড়ি সড়কের নয় কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছানোর পর পাশের পাহাড় থেকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা করে। ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড় অশান্ত। নির্বাচনকে ঘিরে সেটি আরও বেড়ে যাবে এমনটাই আশংকা করা হচ্ছিল। সম্প্রতি চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম পাহাড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেন। এর মধ্যে আবারও হামলা ঘটনা ঘটলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ