শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ডাকসু নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভিসিকে জানিয়েছেন হলগুলোর প্রাধ্যক্ষরা।
গত সোমবার ভিসির বাড়িতে প্রভোস্ট কমিটির এক বৈঠকে এই দাবি জানানো হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। প্রাধ্যক্ষরা বলেছেন, এই নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ছিল। কোনো অভিযোগ তাদের কাছে কেউ দেয়নি।
তিন দশক পর গত ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচন হয়। এতে ভোটগ্রহণ হয় হলগুলোতে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্যানেল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোটের দাবি তুলেছে। তারা নানা কর্মসূচিও পালন করছে।
গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। স্বউদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ার কথা জানিয়ে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এই শিক্ষকরা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা খানম ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অতনু রব্বানী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সব হলে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন হলগুলোর প্রাধ্যক্ষরা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভায় বলা হয়েছে, এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কতিপয় বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার হীনপ্রয়াসে কোনও কোনও মহল লিপ্ত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অসত্য উস্কানিমূলক তথ্য পরিবেশন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলকে আহ্বান জানানো হয়।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক প্রার্থী, ভোটার-শিক্ষার্থীরা নির্বাচন চলাকালে এবং নির্বাচনোত্তর সময়ে সততা, আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের এক বিরাট কর্মযজ্ঞ আয়োজনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক ও সংযুক্ত শিক্ষকরাসহ দায়িত্বরত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এতে আরও বলা হয়, ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ধৈর্যশীল আচরণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাসহ তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রাধ্যক্ষবৃন্দ সভায় সেসবের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উপস্থিত ভোটারদের কেউ ভোট দিতে পারেনি বা কারও ভোট অন্য কেউ দিয়েছে বা কেউ ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত বা হেনস্তার শিকার হয়েছেন, এমন কোনও অভিযোগ তারা পাননি।
সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আগামী (২৩ মার্চ) শনিবার সকাল ১১টায় নবনির্বাচিত ডাকসু ও একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হল সংসদ কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ডাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বভার গ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে আলোচিত হবে।
ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ: অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের এই অধ্যাপককে ডাকসু-২০১৯ এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড.এ কে এম গোলাম রব্বানী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ