বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

নিহত ৬ লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন ॥ হয়নি কোন মামলা

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা : রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে উপজাতি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে এই ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক অনুতোষ চাকমা জানান, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. আমির হোসেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য আল আমিন, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম, মিহির কান্তি দত্ত ও গাড়ীর হেলপার মন্টু চাকমা’র ময়না তদন্ত করা হয়েছে। অফিসিয়াল বিষয়াদি শেষ করার পর লাশগুলো পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের হাতে তুলে দিবেন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামান আধুনিক সদর হাসপাতালে যান এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।
নিহত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার মিহির কান্তি দত্তের ছেলে পিয়াল দত্ত ঘটনায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলেন, সরকারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরাগভাজন হয়েছেন তার বাবাসহ অন্যান্যরা। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, যত দ্রুত সম্ভব লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে আইন শৃংখলাবাহিনীর সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। এদিকে বাঘাইছড়ির নির্মম হত্যাকান্ডের জেরে খাগড়াছড়িতেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সকল জায়গায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন আছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে সাজেকের ৩টি কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে বাঘাইছড়িতে ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থলে ৬ জন ও হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে পোলিং অফিসার আবু তৈয়ব (৪০) মারা যান। আবু তৈয়বের লাশ এখানো আনা হয়নি।
হত্যাকারীদের কোন ছাড় নয় ------ রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নয় মাইল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক। এ সময় তিনি বলেন, এ হত্যাকান্ডের পর স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গাঁ-ঢাকা দিলেও তাদের নূন্যতম ছাড় দেয়া হবেনা। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সেনাবাহিনী কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে মন্তব্যে করে তিনি জানিয়েছেন, কোন ভাবেই সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাঁচতে পারবেনা। যেকোন মূল্যে তাদের গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে।
এসময় বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম আজম, ২৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মাহাবুবুল ইসলামসহ সামরিক পদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে একটি নির্বাচনী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ ১১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয় গত সোমবার । বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এ সহিংসতা ঘটে। এতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে সর্বশেষ ৮ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া মঙ্গলবার রাঙামাটির বিলাইছড়ির উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যা করা হয়।
পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করায় ও নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় পাহাড়ের নিরীহ মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে নিজেরাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ