বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

মসজিদে হামলাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে -নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় বন্দুকধারীর নাম উচ্চারণ না করার অঙ্গীকার করে মঙ্গলবার বলেছেন, এ হামলাকারীকে ‘আইনের সর্বোচ্চ সাজা’ ভোগ করতে হবে।
তিনি পার্লামেন্টের এক বিশেষ অধিবেশনে বলেন, ‘সে নিউজিল্যান্ডের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ সাজা পাবে।’
জাসিন্ডা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে পার্লামেন্টে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, ‘তার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পক্ষে সে অনেক কিছু ভাবতে পারে। কিন্তু সে কুখ্যাতি ছাড়া আর কিছুই পায়নি। এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি।
সেই সন্ত্রাসীর নাম ‘কখনো উচ্চারণ করবেন না’
গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে আর্ডেন বলেছেন, “সে তার সন্ত্রাসী কর্ম থেকে অনেক কিছু চেয়েছিল, এর একটি কুখ্যাতি- এই কারণেই আমাকে কখনো তার নাম উচ্চারণ করতে শুনবেন না আপনারা।”
গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী এক জঙ্গীর হামলায় ৫০ জন নিহত ও বহু লোক আহত হয়।
এ ঘটনায় স্বঘোষিত শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদী জঙ্গী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্টের (২৮) বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নির্বিচার ওই হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর রাজধানী ওয়েলিংটনে প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন বলেন, “আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, তাদের নাম নিন যারা এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তার নাম নয় যে তাদের প্রাণ নিয়েছে।
 “সে একজন সন্ত্রাসী। একজন অপরাধী। সে একজন চরমপন্থী।” পার্লামেন্টের এই বিশেষ বৈঠকে আর্ডেন ‘আসালামু অলাইকুম’ বলে সবাইকে সম্ভাষণ জানান।
ক্রাইস্টচার্চের বন্দুকধারীর মতো রেকর্ডকরা ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও শেয়ারিং আটকানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মগুলোকে আরও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শুধু লাভ করবে কিন্তু কোনো দায়দায়িত্ব নিবে না, তা হতে পারে না বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
হামলাকারীর বিরুদ্ধে ‘নিউজিল্যান্ডের আইনের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা হবে’ বলে পার্লামেন্ট সদস্যদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
আগামী শুক্রবার ফের আরেকটি জুমার নামাজের দিন এবং হামলার ঘটনারও এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার দিন, একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের সবাইকে এদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের শোকের কথা মনে রেখে চলার অনুরোধও জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।  
শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক ডকুমেন্টেশনের ধীর গতির জন্য এ পর্যন্ত নিহত কারও দাফন করা যায়নি। ওই দিন যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, তুরস্ক, কুয়েত, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও অন্যান্য দেশের লোক রয়েছেন।
আরও প্রাণঘাতী করার জন্য খুনি তার ব্যবহৃত সামরিক ধরনের অ্যাসাল্ট রাইফেলগুলো সংস্কার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি অবৈধ নয়।

পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে
ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলার পর প্রথমবারের মতো অধিবেশনে বসেছে নিউজিল্যান্ড পার্লামেন্টে। দেশটির নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের অধিবেশন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন পার্লামেন্টে তার ভাষণে ক্রাইস্টচার্চ হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও একাত্মতা প্রকাশ করেন। একই সাথে ওই ঘটনার হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে বাধা দিতে গিয়ে নিহত হওয়া নাঈম রশিদের আত্মত্যাগের বিষয়টিও স্মরণ করেন।
পার্লামেন্ট ভাষণে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারগুলো অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবে। অবশ্য তিনি পুরো ভাষণে কোথাও হামলাকারীর নাম উল্লেখ করেননি।
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিশেষ পার্লামেন্ট অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এদিন মুসলিম রীতিতে সালাম দিয়ে ভাষণ শুরু করেন তিনি। ক্রাইস্টচার্চ হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুসলিমদের প্রতি সম্প্রীতি জানিয়ে জাসিন্ডা এ পদক্ষেপ নেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী প্রবণতা পাওয়া গেছে। ট্যারান্ট মনে করে ‘মুসলিমদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি করা উচিত এবং শ্বেতাঙ্গরা ‘গণহত্যার শিকার।’ এর আগে গত শনিবার (১৬ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চ শহর পরিদর্শনে যান জাসিন্ডা। সেখানে মুসলিম ও শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ওইদিন ইসলামী রীতিতে মাথায় কাপড় দিয়ে রাখতে দেখা যায় জাসিন্ডাকে। তখনও বলা হয়েছিল, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মাথায় কাপড় দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী।
নিউজিল্যান্ডবাসীও এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন। ফুল দেয়ার স্থানগুলো ভরে গেছে। ফুলের সঙ্গে রয়েছে সমবেদনা জানিয়ে লেখা চিরকুটও।

নিউজিল্যান্ডের হামলায় আমাকে দুষতে ওভারটাইম করছে মিডিয়া : ট্রাম্প
নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলী চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে একহাত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘নিউ জিল্যান্ডের ভয়াবহ হামলার জন্য আমাকে দোষারোপ করতে ফেক নিউজ মিডিয়া ওভারটাইম করছে। এটি প্রমাণে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। খুবই অদ্ভূত!’
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলী চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। এর আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে হামলাকারী। এতে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের এই নৃশংস খুনি দাবি করে, শ্বেতাঙ্গরা গণহত্যার শিকার এবং সে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের নতুন প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মুসলমানদের জন্য একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানায় হামলাকারী।
হামলার পর এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ কোনও সমস্যা নয়। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হত্যাযজ্ঞ নিয়েও টুইটারে একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। তবে তাতে মুসলিম শব্দটি পর্যন্ত উল্লেখ করেননি তিনি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘মসজিদের ভয়াবহ হত্যাকা-ের ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমার সহমর্মিতা ও শুভ কামনা রইলো। নিরপরাধ মানুষ সংজ্ঞাহীন হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র যতটুকু সম্ভব নিউ জিল্যান্ডের পাশে আছে। ঈশ্বর সবার সহায় হোন!’
এ টুইটে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ’ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করায় সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এরমধ্যেই নতুন করে টুইট করে সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ