বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ দিনভর বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা -সংগ্রাম

# আজ আবার সড়কে অবস্থান সকাল থেকে
স্টাফ রিপোর্টার : এক বছরও পেরোল না। গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে নিরাপদ সড়ক’র দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনে শামিল ছিলেন তিনিও। কিন্তু সড়ক আর নিরাপদ হলো না, সেই আন্দোলনের পর অনেক ‘আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি’ মিললেও বছর গড়ানোর আগেই সড়কে প্রাণ হারাতে হয়েছে আবরার আহমেদ চৌধুরীকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কুড়িল এলাকার প্রগতি সরণির নর্দ্দাতে সুপ্রভাত পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, আবরার তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সদরঘাট থেকে গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস আবরারকে চাপা দেয়। তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবরারের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে তিনিও সেই দাবিতে শামিল হয়ে ২ আগস্ট দুপুরে প্রোফাইল পিকচারে সংযুক্ত করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ শ্লোগান। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তুলে ধরার পাশাপাশি সেসময় এই আন্দোলন ঘিরে সংবাদমাধ্যমের অনেক প্রতিবেদন এবং ছবিও শেয়ার করেন আবরার।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার সেই আবরারই সড়কে প্রাণ হারানোয় প্রগতি সরণির নর্দ্দা-কুড়িল চৌরাস্তার মাঝামাঝি সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে নামেন তার সতীর্থরা। এতে সড়কের দুইপাশে দেখা দেয় যানজট। বন্ধ হয়ে যায় বাড্ডা-কুড়িল বিশ্বরোড সড়কে যান চলাচল। আবরার নিহতের ঘটনায় বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবরোধে বিমানবন্দর থেকে বাড্ডা হয়ে রামপুরা-গুলিস্তান রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনাস্থলে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই আশ্বাস উপেক্ষা করে সেখানে অবস্থান নেন। আবরার গত বছরের আগস্টে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে শুরু হওয়া নজিরবিহীন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
জেব্রা ক্রসিংয়ে আবরারকে ধাক্কা দেয় বাসটি
যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন প্রগতি সরণিতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিয়ম মেনেই পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত স্থান জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আবরারের বন্ধুরা বলছেন, অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই বাসটি আবরারকে ধাক্কা দেয়। তিনি দুটি বাসের মাঝখানে পড়ে যান। পরে সুপ্রভাত বাসের নিচে চাপা পড়েন। আবরার নিয়ম মেনে নির্ধারিত জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন।
ঘটনার পর একজন পথচারী বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ছেলেটি নিয়ম মেনেই রাস্তা পার হচ্ছিল। কিন্তু সুপ্রভাত বাসের চালক অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপাররত আবরারকে প্রথমে ধাক্কা ও পরে চাপা দেয়। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি আবরারকে খানিকটা টেনেও নিয়ে যায়।
আবরার নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুড়িল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ছয়টি জায়গায় অবস্থান নিয়ে দিনভর প্রতিবাদ জানায়। তাঁদের সঙ্গে বেসরকারি নর্থ সাউথ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারু মানুষ সড়কে অবস্থান নেয়। এর ফলে এই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
মেয়রের আশ্বাসেও সরেনি শিক্ষার্থীরা, বাসে আগুন
আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর নদ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হন। তার আশ্বাসেও শিক্ষার্থী রাস্তা ছাড়েননি। মেয়র চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয় মেয়রের কাছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল, সিটিং সার্ভিস বন্ধ, স্টপেজের ব্যবস্থা করা, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা, বসুন্ধরা গেইটে ফুটওভার ব্রিজের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করা।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে মেয়র আতিকুল বলেন, “৭ দিন হল আমি দায়িত্ব নিয়েছি।  আমি মেয়র নই, ভাই হিসেবে বলছি আমাকে সময় দেন।”
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে ‘যৌক্তিক’ উল্লেখ করে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা আমার সাথে থাকলে আমি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলব।  বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়মের ভেতরে আনা হবে।  ঢাকা সিটিতে ছয়টি কোম্পানির বাস চালানো হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সমাধান করব।”সুপ্রভাত বাসের চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। দুই-তিন মাসের মধ্যে নিহত আবরারের নামে বসুন্ধরা গেইটে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে  বলেও জানান তিনি। এরপর মেয়র রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাদের তোপের মুখে এক পর্যায়ে সেখান থেকে চলে যান মেয়র।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, শিক্ষার্থী  নিহতের ঘটনায় আন্দোলনে রাজপথে নামে সহপাঠিরা। মেয়রের আশ্বাসের পরও তারা সড়ক ছাড়েনি। আন্দোলন অব্যাহত থাকায় তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় তাদের ফাঁসাতে ভিন্ন কৌশল নেয়া হয়। এক পরিবহন শ্রমিক নিজেই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ওই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। 
জানা যায়, আন্দোলন চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিক সুপ্রভাত বাসেরই এক হেলপার হঠাৎ করে এসে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিইউপি  ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। তারা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন। পরে শ্রমিকের আগুন লাগানোর বিষয়টি ধরা পড়লে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়।
এদিকে বাসে আগুন দেয়া ওই শ্রমিককে ধরতে গেলে পুলিশ কৌশলে তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পানি এনে বাসের আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।
দিনভর বিক্ষোভের পর সড়ক ছাড়ল শিক্ষার্থীরা
নদ্দায় বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় সড়ক থেকে সরে গেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সেখানে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে আঘাত করা হলে ‘দাতভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এরপর সন্ধ্যার ৬টার কিছুক্ষণ আগে এদিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
তাদের পক্ষে মাইশা নূর নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় তারা সড়ক অবরোধ উঠিয়ে নেবেন। আজ বুধবার সকাল ৮টায় আবার সড়কে অবস্থান নেবেন। সহপাঠীদের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেইটে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এই শিক্ষার্থী বলেন, “বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেইটে আবরারের নামে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, যার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।” এছাড়া বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানান মাইশা নূর।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির এই শিক্ষার্থী বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এখানে রাজনৈতিক উপস্থিতির কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই না।”
ছাত্র বিক্ষোভে ভিপি নূর
নদ্দায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে আঘাত করা হলে ‘দাত ভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে। বিকাল পৌনে ৫টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানকে নিয়ে সেখানে যান নূর। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলনে রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়েছে। “ছাত্রসমাজকে সচেতন থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচালে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আঘাত করা হলে ছাত্রসমাজ দাতভাঙা জবাব দেবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র নুরুল হক নূর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে প্রথম কাতারে ছিলেন। ওই আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি।
গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয়ী হন তিনি।
সেই ঘাতক বাসের নিবন্ধন বাতিল
সুপ্রভাত পরিবহনের যে বাসের চাপায় আবরার নিহত হয়েছেন, সেই বাসের নিবন্ধন বাতিল করেছে বিআরটিএ। ওই  ছাত্রের মৃত্যুর পর সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ এই সিদ্ধান্ত জানায়।
বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, “দুর্ঘটনাজনিত কারণে মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৪৩ ধারা মোতাবেক ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নং বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।” বিআরটিএর এই সিদ্ধান্তের ফলে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি আর সড়কে চলতে পারবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর জন্য ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নং বাসটির বেপরোয়া গতিকেই দায়ী করেছে বিআরটিএ।
বনানীতে চিরনিদ্রায় আবরার
নিহত ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বনানী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে বেলা দেড়টার দিকে মিরপুর সেনানিবাসে বিইউপি এডিবি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আবরার আহমেদের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী, বিইউপির ভিসি মেজর জেনারেল মো. এমদাদ-উল বারী, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, আবরার আহমেদের সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আত্মীয়-স্বজন জানাজায় অংশ নেন। পরে দাফনের জন্য আবরারের মরদেহ বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ