শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

আইন ও আইনের শাসন

ইবনে নূরুল হুদা : সংবিধানের ১৫২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আইন’ অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি। আবার ১১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আপীল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রীম কোর্টের যে কোন বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধঃস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় হইবে।’ অতএব ‘আইন’ বলতে অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি এবং উচ্চ আদালতের রায়কে বোঝানো হয়।
অধ্যাপক হর‌্যাল্ড এর মতে, ‘আইন হলো মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রণবিধি, যা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বলবৎ করা হয়’। আইনবিদ স্যামন্ডের ভাষায়, ‘আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা’। তাই আইন হলো প্রচলিত এমন কিছু প্রথা, রীতি, নীতি ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণীত এমন কিছু নিয়ম-কানুন যা একটি রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী নিজেদের উপর অবশ্য পালনীয় বলে স্বীকার করে।
গণমানুষের অধিকারের সুরক্ষা, সমাজ-রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে সুবিচার নিশ্চিত করতে গণমুখী আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। কিন্তু আইন যখন সর্বজনীন না হয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির অনুষঙ্গ হয় তখন তা আইনী বৃত্তের বাইরে গিয়ে কালাকানুনে রূপ নেয়। বস্তুত কোন সমাজ-রাষ্ট্রে যখন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকে তখন সে সমাজ-রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং সে জাতির পতনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। হযরত আলী (রা.) এর ভাষায়, ‘রাজ্যের পতন হয় দেশ থেকে সুবিচার উঠে গেলে, কারণ সুবিচারে রাজ্য স্থায়ী হয়’।
সুশাসনের মানদ-ই হচ্ছে আইনের শাসন। আইনের শাসন  রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিবিশেষ, যেখানে সরকারের সকল কর্মযজ্ঞই সংবিধিবদ্ধ নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়। ব্যবহারিক ভাষায় আইনের শাসনের অর্থ, সরকার সবসময় আইন অনুযায়ী কাজ করবে, যার ফলে রাষ্ট্রের যেকোন নাগরিকের কোনো অধিকার লঙ্ঘিত হলে সে তার প্রতিকারের সুযোগ পাবে। মোট কথা, আইনের শাসন তখনই বিদ্যমান থাকে, যখন সরকারি ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অনুশীলন সাধারণ আদালতের পর্যালোচনাধীন হয়।
আইনের শাসনের প্রেক্ষাপট জাতিরাষ্ট্র  ভেদে অভিন্ন নয়। ইংল্যা-ে যেসব সাধারণ নীতির মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত হয়েছে তার অধিকাংশই সেখানকার নাগরিকদের আদালতে উত্থাপিত বিভিন্ন মামলার রায়ের ফল। এ ছাড়া ম্যাগনা কার্টা (১২১৫), দ্য পিটিশন অব রাইটস (১৬২৮) এবং বিল অব রাইটস (১৬৮৯)-এ ইংরেজ জাতির স্বাভাবিক অধিকারসমূহ ঘোষিত ও রক্ষিত হয়েছে। ইংরেজদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, ব্যবহারবিধি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশের দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অধিকার সম্পর্কে ইংরেজদের সচেতনতা গড়ে উঠেছে। যা সুশাসন বা আইনের শাসনের মানদণ্ড হিসেবেই বিবেচিত।
ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা এবং প্রিভেনটিভ ডিটেনশন অ্যাক্টের কারণে আইনের শাসন মোটেই অবারিত হয়নি। পাকিস্তানে গৃহীত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনতন্ত্রে ‘বিল অব রাইটস’এর  বৈশিষ্ট্যময় কোনো বিধিবিধান ছিল না। প্রথম ও দ্বিতীয় গণপরিষদে বেশকিছু সাধারণ অধিকারের নীতি গৃহীত হয়েছিল। যেমন-সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার; সুযোগ ও মর্যাদার সমতা; চিন্তা, মতপ্রকাশ, সংগঠন, আন্দোলন করার স্বাধীনতা; বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা; নাগরিক স্বাধীনতা; জীবন যাপনের অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পদের মালিকানা রক্ষার স্বাধীনতার নীতি।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানও গৃহীত হয় যে, গ্রেফতারের কারণ যথাশীঘ্র সম্ভব জানানো ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে না। এছাড়া, আটক ব্যক্তিকে তার আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। ১৯৬২ সালের সংবিধানেও অনুরূপ বিধান গৃহীত হয়। ফলে ধরে নেয়া যায় যে, পাকিস্তানের সীমাবদ্ধ শাসন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
কারণ, ব্রিটিশ শাসনামলে আরোপিত অনেক নিবর্তনমূলক বিধিনিষেধ পাকিস্তান আমলেও অব্যাহত ছিল যা। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার অধীনে, নির্দিষ্ট স্থানে সভা-সমাবেশ ও মিছিলে নিষেধাজ্ঞা, সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ সৃষ্টিতে প্ররোচনা দানের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সংবাদপত্রের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত ছিল। নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুতর বিধিনিষেধগুলো আরোপিত হয় ‘সিকিউরিটি অব পাকিস্তান অ্যাক্ট’এর মাধ্যমে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিল অব রাইটস’এর অনেক বিষয় অনুরূপ ও সাধারণ বৈশিষ্ট্যসহ গৃহীত হয়। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ পাকিস্তানের সংবিধান (১৯৫৬ ও ১৯৬২) এবং ভারতের সংবিধান থেকে ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রদত্ত অধিকারসমূহ ছিল মর্যাদা, সুযোগ লাভ ও ধর্মীয় অধিকারের সমতা; আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নাগরিকের সমতা; ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বাঁচার অধিকার সুরক্ষা; অযৌক্তিক গ্রেফতার বা আটক, বিচার বা দণ্ড থেকে সুরক্ষা; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে ঔপনিবেশিক আমলের সে ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যাতে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান, সকল শ্রেণির মানুষ একটি অভিন্ন আইনের অধীন-যে আইন কার্যকর হবে সাধারণ আদালতের মাধ্যমে; জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে সে আইনের প্রয়োগ হবে সমান। ২৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিক কোনোরূপ বৈষম্যের শিকার হবে না। কিছু সীমাবদ্ধতাসহ সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের ৪২(১) অনুচ্ছেদে। একইভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এবং সংবিধান অনুমোদনের পূর্বে গৃহীত প্রথম তফশিলে উল্লিখিত ৪৭(২) অনুচ্ছেদে কতিপয় মৌলিক অধিকারের অবাধ সুযোগ সঙ্কুচিত করা হয়।
১৯৭২ সালের সংবিধানে এমন কোনো বিধান ছিল না যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহকে সঙ্কুচিত করে। কঠোর কোনো রক্ষাকবচ এবং জরুরি অবস্থা জারি, যার ফলে মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিত হয়ে যায় এবং আদালতসমূহ মৌলিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, সেরকম কোনো বিধান না থাকায় দেশে সীমিত শাসন ও আইনের শাসনের ধারণা বেশ কার্যকর ও যুৎসই-ই ছিল বলে মনে করা হয়। এতে স্পষ্টতই প্রমাণ হয় যে, একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদের সংবিধান প্রণেতাগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধই ছিলেন। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির বিধান সংযুক্ত করা হয়। তার সাথে যুক্ত হয় নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং আরও কয়েকটি নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ।
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এ নিবর্তনমূলক আটকের বিধান ও কতিপয় গুরুতর অপরাধের শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে দ্রুত বিচারের বিধান করা হয়। ১ থেকে ১৪ ধারা পর্যন্ত বিনাবিচারে আটক, বিনা পরোয়ানায় সর্বোচ্চ ১২০ দিন আটক এবং এ আইনবলে গঠিত উপদেষ্টা বোর্ডের সুপারিশক্রমে আটকাদেশের মেয়াদ আরও বৃদ্ধির বিধান সৃষ্টি করা হয়। যদিও তাত্ত্বিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে ১২০ দিনের বেশি সময় আটক রাখার বিধান ছিল না, তবু বাস্তবে সরকার সহজেই একই ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেফতার করতে এবং আরও ১২০ দিন আটক রাখতে পারত।
বস্তুত, সকল আইনই গণমুখী হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং আইনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যও তাই। সঙ্গত কারণেই যেকোন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার সর্বজনীন আবেদনের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা জরুরি। যে আইন গণমুখী নয় সে আইন কালো আইন হিসেবে বিবেচিত। আর তা প্রণীত হয় শাসকগোষ্ঠী বা শ্রেণি বিশেষের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য। যেমনটি হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা ও ‘প্রিভেনটিভ ডিটেনশন এক্ট’, পাকিস্তান আমলে ‘সিকিউরিটি অব পাকিস্তান এক্ট’, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’, সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন, The Newspaper (Announcment Of declaration) Act-1975 এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের উপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ, ২০০০ সালের ‘জননিরাপত্তা আইন’ এবং সর্বসাম্প্রতিক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’।
যেহেতু এসব আইনের সাথে জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খুবই গৌণ তাই এসব আইন কালাকানুন হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে। তাই প্রতিটি জাতিরাষ্ট্রে যেমন আইনের শাসন কার্যকর থাকা জরুরি, ঠিক তেমনিভাবে প্রণীত আইনগুলোও গণমুখী হওয়া দরকার। আইন যদি নাগরিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হয় তাহলে আইনের শাসনও অপশাসন ও দুঃশাসনের হাতিয়ার হতে বাধ্য। সে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা  বোধহয় মহাপ্রলয়ের প্রহরই গুণছি।  
কালাকানুনগুলো প্রণীত হয় সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রতিকূলে। ঔপনিবেশিক শাসনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তা একই সূত্রে গাঁথা। প্রচলিত সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে যখন শাসকগোষ্ঠী তাদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের নামে কালাকানুন প্রণয়ন করেছে। চলেছে গণনিবর্তন। কিন্তু তার উপর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে আইনের শাসনের তকমা। 
নিকট অতীতে জনগণের উপর অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য কালাকানুন প্রণীত হলে এখন সে অবস্থার  আরও অবনমন ঘটেছে। এখন শুধু কালাকানুন দিয়েই শ্রেণি বিশেষ তৃপ্ত থাকতে পারছে না। তাই আইনের শাসনের নামে আইনের অপপ্রয়োগ, বেআইনী কাজকে আইনের প্রলেপ লাগানো এবং আইন অমান্যের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে সংবিধান প্রদত্ত গণমানুষের অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বিভিন্ন কালাকানুনের মাধ্যমে, অপর দিকে আইনের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। ফলে রাষ্ট্রের সফলতা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে সরকারের কার্যকারিতা নিয়েও।
বহুদলীয় গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মূলনীতি। সে মতে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে রাজনৈতিক দল গঠন, রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন। কিন্তু আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দেয়ার অভিযোগটা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ না থাকলেও এসব ক্ষেত্রে এনকাউন্টারের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনা কারো অজনা নয়। নানা ছলছুতায় গণমানুষের বাকস্বাধীনতাও প্রায় অবরুদ্ধ। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সকল শ্রেণির নাগরিকের ভোটাধিকার থাকলেও সর্বসাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে যা হয়েছে বা হচ্ছে তা দেশ ও জাতির জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয় বরং ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করার অভিযোগ জোরালো ভিত্তি পেয়েছে। সদ্য ডাকসু নির্বাচনও সে অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। আমাদের দেশে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে যে ক্রান্তিকাল চলছে তা সুনামগঞ্জের প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক তারা মিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, পাটকল শ্রমিক জাহালম ও দিনমজুর শুক্কুর শাহ’র মত নিরপরাধ লোকদের দীর্ঘ কারাবাসের ঘটনা  থেকেই প্রমাণিত।
আমাদের দেশে ভঙ্গুর আইনের শাসনের যাত্রাটা সর্বসাম্প্রতিক না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতাটা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সঙ্গত কারণেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের ১১৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০২তম স্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মধ্য আয়ের ৩০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২২তম। আইনের শাসন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা দি ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এর রুল অব ল ইনডেক্স প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। যা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য মোটেই সম্মানজনক হয়নি। আইনের শাসন হলো এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে নাগরিক বাধ্যতা, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজের ভিত্তি নির্মাণ করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনানুগ প্রতিষ্ঠানের  মাধ্যমে কার্যকরী করা হয়। আইন জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে প্রধান সামাজিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই আইনের শাসনই আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল লিখেছিলেন, ‘আইনের শাসন যেকোন ব্যক্তি শাসনের চেয়ে ভাল’।
inhuda71@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ