মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন প্রথমবারের মত ৮ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। তবে কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যে হিসাব করেছে, তাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। সেই সঙ্গে এবার বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর গত অর্থবছর বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৭৫১ ডলার।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেন তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে গত জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করার পর থেকেই নতুন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলে আসছিলেন, প্রবৃদ্ধির হার এবারই আট শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর তা ৮ শতাংশের ঘরে পৌঁছাতে সময় লাগলো মাত্র তিন বছর।
অর্থমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়াবে প্রায় ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৩১.৫৭ শতাংশ বিনিয়োগে আসছে বলে এই হিসাবে ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর এই হার ছিল ৩১.১৩ শতাংশ। এবারের বিনিয়োগের মধ্যে সরকারি খাতের অবদান ৮.১৭ শতাংশ, আর বেসরকারি খাত থেকে ২৩.৪০ শতাংশ আসছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির প্রত্যেকটা খাতেই আমাদের প্রবৃদ্ধি ভালো। আমাদের রফতানি বেড়েছে, বিনিয়োগ বেড়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বেড়েছে। মূল যেসব খাত, সবগুলোই আমাদের বেড়েছে। সেজন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধি ভালো।
কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও কয়েকটি খাতে তা বেড়েছে। এ বিষয়ে মুস্তফা কামাল জানান, কৃষির প্রবৃদ্ধি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ১১ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত অর্থবছর ইন্ডাস্ট্রিতে (শিল্প) প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ অর্থবছরে তা ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত অর্থবছর ম্যানুফ্যাকচারিং ছিল ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ অর্থবছর তা ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। সেবা (সার্ভিস) খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল গত অর্থবছর ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ অর্থবছর তা কমে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ