মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় সভাপতিত্ব করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের সংশোধিত এডিপিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ১ হাজার ৯১৬টি প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তাসহ সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকায়।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশোধিত নতুন এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়। এতে পরিকল্পনামন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দেশজ সম্পদের লভ্যতা, বৈদেশিক অর্থায়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এ সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি বলেন, অনুমোদিত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের ৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৬৬০ কোটি টাকা। সুতরাং ১ হাজার ৯১৬টি প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তাসহ সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকায়।
উল্লেখ্য, অর্থবছরের শুরুতে এডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশোধিত এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, আইসিটি’র উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহায়ক প্রকল্প, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ অর্থবছর সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মূল এডিপির আকার ছিল (স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বরাদ্দ ছাড়া) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। তা থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা অংশে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, সংশোধিত এডিপির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ