সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

৯ দফা মেনে নেয়ায় পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিত

খুলনা অফিস : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি, গ্রাইচুইটি, পিএফ’র টাকা প্রদানসহ বাকি দাবি পূরণের বিষয়ে ৭ এপ্রিল সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। সোমবার ঢাকায় বিজেএমসি’র সাথে শ্রমিক নেতাদের দফায় দফায় ৯ ঘন্টার বৈঠক শেষে গভীর রাতে এসব সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর আগে ১২ মার্চ একই দাবিতে ২৪ ঘন্টার ধর্মঘট পালন করে শ্রমিকরা।
জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া মজুরি কমিশন, গ্রাইচুইটি, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কটে কাঁচা পাট কিনতে না পারায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে উৎপাদনে ধস নেমেছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। অবিলম্বে ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা-যশোর অঞ্চলের ২৬ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত করে শ্রমিকরা।
সোমবার বিজেএমসির চেয়ারম্যানের ডাকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক লীগ, সিবিএ ননসিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক হয়। প্রথম দফা বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় নেতৃবৃন্দ আরও দু’দফা বৈঠক করে কর্মসূচি অব্যহত রাখে। পরে রাত ১০টার দিকে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ নাছিম শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে পুনরায় বৈঠক করেন। বৈঠকে আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়ে একটি পত্র প্রদান করেন। যে কারণে পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত করেছে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা-যশোর অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা অঞ্চলের শ্রমিক লীগের নেতা মো. মুরাদ হোসেন জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত বিজেএমসির শ্রমিক কার্যালয়ের বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। রাত ১০টায় পুরনায় বৈঠকে আশ্বাস পাওয়ায় ধর্মঘটসহ সকল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন বলেন, দাবি আদায়ের টানা আন্দোলন কর্মসূচির মাঝে বিজেএমসির সাথে সোমবার দফায় দফায় দীর্ঘ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বকেয়া মজুরিসহ বাকি ৮ দফা দাবি ৭ এপ্রিল দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে পূর্ব ঘোষিত ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।
পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে পাটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পাটকলে সময়মতো কাঁচাপাট ক্রয়, পুরানো মেশিনারিজে বিএমআরই, পাটপণ্যের বহুমুখি উৎপাদন ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, মজুরি কমিশন কার্যকর ও প্রতি সপ্তাহের মজুরি প্রতি সপ্তাহে প্রদানসহ ৯ দফা দাবিতে ৭ দিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ, সিবিএ ননসিবিএ পরিষদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ