শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

আবাহনী রূপগঞ্জ ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ, আবাহনী লি: ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। মোহামেডানকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টেবিলে নিজেদের অবস্থান সমৃদ্ধ করলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আবাহনী ৫ উইকেটে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে আর শেখ জামালকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২৯ রানে হারিয়ে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক। টানা তিন ম্যাচ জিতে চতুর্থ পর্ব শুরুর আগ পর্যন্ত আবাহনীর সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল মোহামেডান। কিন্তু গতকাল মোহামেডানের জয়রথ থামলো রূপগঞ্জে। অধিনায়ক নাঈম ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও তরুণ জাকির আলির চমৎকার ফিনিশিংয়ে  মোহামেডানকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টেবিলে নিজেদের অবস্থান সমৃদ্ধ করলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সমান চার  খেলায় মোহামেডানের প্রথম পরাজয়ের বিপরীতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এটা তৃতীয় জয়। এর আগে আবদুল মজিদের সেঞ্চুরি আর নাদিফ চৌধুরীর অনবদ্য হাফসেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৯৫ রানের বড় স্কোর গড়েও শেষ হাসি হাসতে পারল না মোহামেডান। প্রথম তিনটি ম্যাচই  মোহামেডান জিতেছিল রান তাড়া করে। এবারের লিগে আজই প্রথম আগে ব্যাট করতে নেমে বড়সড় স্কোরই গড়েছিল রকিবুল হাসানের দল। শেষদিকে শ্রীলংকার অলরাউন্ডার চতুরঙ্গ সিলভা হাত খুলে খেলে (৯ বলে ২৩) মোহামেডানকে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে দেন। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে এগিয়েছে মোহামেডান। ১৪২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে নাদিফ চৌধুরীকে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়েন আবদুল মজিদ। ওই জুটিই মূলত বড় সংগ্রহে ভিত গড়ে দেয়। ১২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ১০৭ রান করে মোহাম্মদ শহীদের শিকার হন মজিদ। নাদিফকেও তুলে নেন এই পেসারই। ৪৭ বলে ৪টি করে চার ছক্কায় ৬৪ রান করেন নাদিফ। ৪৯ নাম্বার ওভারে উইকেটে গিয়ে চতুরঙ্গ এক পর্যায়ে ৪ বলে ৩ ছক্কা আর ১ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বসেন শহীদকে। তখন মনে হচ্ছিল, মোহামেডান তিনশো পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় অলরাউন্ডার ঋষি ধাওয়ান শেষ ওভারে দু’টি ওয়াইড করার পরও মাত্র দেন ৪ রান। এটাই মোহামেডানকে পিছিয়ে দেয়। ২৯৬ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে ধাক্কা  খেলেও (৪০ রানে ২ উইকেট) পরে সেটা দারুণভাবে সামলে নেয় রূপগঞ্জ। তিন নাম্বারে নামা মুমিনুল হক করেন হাফসেঞ্চুরি (৫৪ বলে ৫৫)। তারপরও ১২২ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল রূপগঞ্জ। সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ৯৯ রানের ম্যাচ জেতানো এক জুটি গড়েন নাঈম ইসলাম আর ঋষি ধাওয়ান। ৫১ রানে ধাওয়ান ফেরেন। তবে অধিনায়ক নাঈমকে যখন মোহামেডান রানআউটের ফাঁদে ফেলেছে, তখন জয় থেকে মাত্র ৪ রান দূরে রূপগঞ্জ। ৯২ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৮৫ রান করেন নাঈম। ২৬ বলে হার না মানা ৩৪ রানে জাকের আলি দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। দিনশেষে যতকথা আবদুল মজিদ (১০৭), নাদিফ চৌধুরী (৬৪), মুমিনুল হক (৫৫), নাঈম ইসলাম (৮৫), ঋষি ধাওয়ান (৫১), জাকির আলি (অপরাজিত ৩৪); এই ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। কেউ হয়তো আমলে আনছেন না শেষ ওভারে ঋষি ধাওয়ানের ওই কিপটে বোলিংয়ের কথা।৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ শহীদের দেয়া ২৩ রানের পর ঋষি ধাওয়ান যদি ৪ রান না দিয়ে ১২-১৪ রান দিয়ে বসতেন, তাহলে খেলার চালচিত্র ভিন্ন হতে পারতো। তখন শেষ ওভারে রূপগঞ্জের ৪ রানের বদলে দরকার পড়তো ১৫-১৬ বা তারও বেশি, কে জানে তখন কি হতো! তাই মোটা দাগে লিখে দেয়াই যায়, রূপগঞ্জ অধিনায়ক নাঈম ইসলামের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠলেও জয়ের পেছনে গত বছর আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলা ঋষি ধাওয়ানেরও অবদান কম নয়।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামে জয় আবাহনী লি:। আবাহনী ৫ উইকেটে হারিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে। আগে ব্যাট করে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০৩ রান তুলতে পারে শাইনপুকুর। এই রান তাড়া করতে গিয়েই ৪৮.৩ ওভার খেলতে হয়েছে আবাহনীকে। শাইনপুকুরের ব্যাটসম্যানদে মধ্যে কেউ হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি। ৫৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় গড়া আফিফ হোসেনের ৪৮ রানের ইনিংসটাকে তবু ওয়ানডের সঙ্গে মানানসই বলা যেতে পারে। বাকিদের মধ্যে যারা টুকটাক রান পেয়েছেন তাদের স্ট্রাইকরেট পঞ্চাশের ঘরে। তৌহিদ হৃদয় ৭৪ বলে ৩৯, ধীমান ঘোষ ৪২ বলে ২২, সোহরাওয়ার্দি শুভ ৪৩ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। যে ইনিংসগুলো আসলে দলের পুঁজি বড় করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। আবাহনীর মোসাদ্দেক হোসেন ৪০ রান খরচায় নিয়েছেন ৩টি উইকেট। ২টি করে উইকেট নাজমুল ইসলাম আর রুবেল হোসেনের। লক্ষ্য মাত্র ২০৪ রানের। আবাহনীও ব্যাট করতে নেমে ধুঁকল। লক্ষ্য ছোট হওয়ায় তাদের অবশ্য ওত তাড়াহুড়ো ছিল না। তারপরও জয় তুলে নিতে খেলতে হলো শেষ পর্যন্ত। ভারতীয় ওপেনার ওয়াসিম জাফর ১০৬ বলে ৪ বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৭৬ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫২ বলে খেলেন ৪২ রানের ইনিংস। ৫৭ বলে ৩৩ রান করেন সৌম্য সরকার। শাইনপুকুরের শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচায় নিয়েছেন ৩টি উইকেট।

দিনের অপর ম্যাচে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংক ২৯ রানে হারায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। জোড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের আয়ত্ত্বে নিয়ে নিয়েছিল প্রাইম ব্যাংক। শেখ জামাল ব্যাটিংয়ে নামার পর পায় বৃষ্টি বাধা। পরে জামালকে নতুন লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয়। সেটাও ধরতে পারেনি তারা। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচটি ২৯ রানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক। এনামুল হক বিজয়ের ১০১ আর অভিমান্যু ঈশ্বরের ১৩৩ রানের দুটি ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৪৪ রান তুলেছিল প্রাইম ব্যাংক। ছয় নাম্বারে নেমে আরিফুল হকও  খেলেন ৩২ বলে ৬৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। জবাব দিতে নামা শেখ জামালের ইনিংস চলার সময় বৃষ্টির বাধা আসলে ৩৭.১ ওভারে তাদের লক্ষ্য দেয়া হয় ২৩৬ রানের। জামাল ৪ উইকেটে ২০৬ রানে থেমেছে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করে নাসির হোসেন। নুরুল হাসান  সোহান অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। এছাড়া ২৬ রান করেন ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন। প্রাইম ব্যাংকের নাহিদুল ইসলাম ৫১ রান খরচায় নেন ২টি উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ