শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

গণভোটেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান

সত্যরাজ দাস : ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত মহারাজা হরি সিংই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। মূলত এই হিন্দু রাজার কারণেই ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর আজ অশান্ত ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার থেকে বঞ্চিত। এমন কোনদিন নেই যেদিন স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরীদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে না জম্মু-কাশ্মীরের রাজপথ। ভারত বিভাজনের অন্যতম মানদন্ড ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হবে। সে মানদন্ডে কাশ্মীর পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় যৌক্তিক ও সঙ্গত ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভারত বিভাজনের সময় সে মানদন্ড রক্ষা করা হয়নি। 
ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন এই অজুহাতে কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং কাশ্মীরকে ভারতের হাতে তুলে দেন। ফলে এক সময়ের স্বাধীন রাজ্য কাশ্মীর পরাধীন হয়ে পড়ে। সে থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীকার আদায়ের দাবিতে অগ্নিগর্ভ। ফলে অগণিত স্বাধীনতাকামী প্রাণ হারাচ্ছেন ভারতীয় বাহিনীর হাতে। কিন্তু থেমে নেই স্বাধীনতা সংগ্রাম। সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরীদের স্বাধীনতা সংগ্রাম যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে তা একটা যৌক্তিক পরিণতির দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন, এই শর্তে লর্ড মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন। ২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ভারত বিষয়টি জাতিসংঘেও উত্থাপন করে। জাতিসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত  এই প্রস্তাবে সম্মত হয়। কিন্তু ৭ দশক অতিক্রান্ত হলেও ভারত কাশ্মীরীদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রশ্নে জাতিসংঘের প্রস্তাবমত গণভোটের আয়োজন করেনি। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি আজও পাশ কাটিয়ে এসেছে। কাশ্মীরীরাও তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ফিরে পাননি। এই ইস্যুতে দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দফায় দফায় যুদ্ধ সংঘঠতি হলেও সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। মূলত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তারপর থেকে দুটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। আর এসব যুদ্ধ হয়েছিল কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কোন সমাধান আসেনি।
কাশ্মীর যুদ্ধ : ১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একে কাশ্মীর যুদ্ধ বলা হয়ে থাকে। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ মূলত কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। তখন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। সে সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত করে। ভারত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে, পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চল দুটির ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।
কচ্ছ যুদ্ধ : ১৯৫৬ সালে দ্বন্দ্বটির সূচনা হয়। পরে ১৯৬৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানী সীমান্তরক্ষীরা ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পাহারা দিতে শুরু করে। ১৯৬৫ সালের ৮ এপ্রিল উভয় দেশই ‘কচ্ছ’ অঞ্চলে একে অপরের সীমান্ত চৌকির ওপর আক্রমণ চালায়। প্রথমে শুধু উভয় দেশের সীমান্ত পুলিশরা এ সংঘর্ষে জড়িত হয়। পরে খুব দ্রুত উভয় দেশের সশস্ত্রবাহিনীও জড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৫ সালের জুনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসন দেশ দু’টিকে সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি করান। তিনি বিরোধটির নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ১৯৬৮ সালে ট্রাইব্যুনালের রায়ে পাকিস্তান দাবিকৃত ৩,৫০০ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি লাভ করে।
কার্গিল যুদ্ধ : ১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে কাশ্মীরের কার্গিল জেলায় ভারত ও পাকিস্তানে মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি ফৌজ ও কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে ডি ফ্যাক্টো সীমান্তরেখা হিসেবে পরিচিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়লে এ যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। যুদ্ধ চলাকালীন ও যুদ্ধের পরে পাকিস্তান এ যুদ্ধের দায় সম্পূর্ণ কাশ্মীরী স্বাধীনতাপন্থী যোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। তবে ফেলে যাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট জানা যায়, পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীও এ যুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। শেষে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।
পুলওয়ামা সংকট
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের জম্মু-শ্রীনগরের হাইওয়ের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরাতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪৯ ভারতীয় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) নিহত হয়। ভারতীয় মিডিয়ার সূত্রমতে, আদিল দার নামে ২১ বছরের এক কাশ্মীরী তরুণ এ আত্মঘাতী হামলায় আত্মহুতি দেন। কাশ্মীরী স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনকারী সংগঠন জৈশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ১৯৮৯-তে সামরিক অভিযানের পর থেকে এটিই হচ্ছে স্বাধীনতাকামীদের সবচেয়ে বড় হামলা।
মূলত এই ঘটনার মাধ্যমে ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলীতে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া কাশ্মিরি স্বাধীনতা আন্দোলন নতুনমাত্রা লাভ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত আড়াই বছরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বুলেটে নিহত হয়েছে প্রায় ৬২৩ জন কাশ্মীরী যোদ্ধাসহ নারী, শিশু ও কিশোর। কিন্তু কাশ্মীরীদের আজাদী আন্দোলন স্তিমিত হয়নি বরং তা আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিককালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাথে প্রধানত সংশ্লিষ্ট রয়েছে কাশ্মীরের শিক্ষিত তরুণরা। আগের মুজাহিদিনের চেয়ে এরা অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী। এসব তরুণের সংখ্যা আগের তুলনায় অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। এই সশস্ত্র তরুণরা ব্যাপক জনসমর্থনও পাচ্ছেন। আসলে ১৯৮৯ সাল থেকে এদের প্রতি জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। সেই সাথে বাড়ছে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী জন-আন্দোলনের তীব্রতাও। কাশ্মীরে ভারতের প্রতি আস্থাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা যত বাড়ছে, ভারতবিরোধী মনোভাবের তীব্রতা তেমনটি বাড়ছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানিও বাড়ছে। বিষয়টি নিরাপত্তাবাহিনীকেও চিন্তিত করে তুলছে। সরকার ততোধিক শক্তি প্রয়োগ করে কাশ্মীরীদের দমন করতে চাইছে। এতে পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু ভারত সরকার কাশ্মীর সমস্যার শেকড় জানতে দিচ্ছে না ভারতবাসীকে।
কাশ্মীরীরা কোন মুসলিম দেশের কাছে থেকেও দরকারি সাহায্য পাচ্ছে না!
ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনার জেরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারত এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তারা পাকিস্তানের ভেতরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হতাহত করেছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, তারা এসব হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি পুলওয়ামার ঘটনার পর স্বাধীনতার দাবিতে কাশ্মীর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জম্মু-কাশ্মীরে। স্বাধীনতাকামীদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর নির্যাতনে ফের ফুঁসে উঠেছে গোটা জম্মু-কাশ্মীর। চারদিকে প্রতিরোধের ডাক। এতে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীও। এরই মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আবারও শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ক্ষমতাসীন বিজিপি সরকার। পরিস্থিতির যত দ্রুত অবনতি হচ্ছে তাতে মনে হয় ভূস্বর্গ কাশ্মীরের আজাদী খুবই অত্যাসন্ন!
এদিকে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও শামিল হয়েছেন। যা স্বাধীনতা সংগ্রামে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেয়েদেরও স্বাধীনতার জন্য স্লোগান দিতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে পাথর ছুঁড়তে দেখা যাচ্ছে। যা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সহিংস বিক্ষোভকালে পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে মেয়েদের দেখা যাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যা কাশ্মীর পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণহীনতার প্রমাণ দেয়।
পরিস্থিতি যত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরের উপর ভারতীয় প্রভাব ক্রমেই শিথিল হচ্ছে। এতে কাশ্মীর ভারতের হাতছাড়া হওয়ার সমূহ সম্ভবনাও দেখা দিয়েছে। এ কথারই প্রতিধ্বনি করেছেন সাবেক মূখ্যমন্ত্রী ও আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ। তিনি এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভারত “কাশ্মীর হারাচ্ছে”। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ভারতের উচিত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা। পাকিস্তান, স্বাধীনতাকামী, মূলধারার রাজনৈতিক দল, কাশ্মীরের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়  এবং কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে “সামরিক নয় বরং একটি রাজনৈতিক পথ” খুঁজে বের করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করা। মূলত কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই পাক-ভারত সম্পর্কটা বেশ শীতল পর্যায়ে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা বারবার যুদ্ধে লিপ্ত হলেও এতে কোন সমাধান আসেনি বরং এ জন্য উভয় পক্ষকেই অনেক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ মূলত সমস্যা সমাধানে মোটেই সহায়ক হয়নি বরং উভয় দেশের মধ্যে তিক্ততায় বৃদ্ধি করেছে। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরা। মূলত ২০১৬ সালের জুলাই থেকেই কাশ্মীর নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের তরুণ নেতা বুরহান ওয়ানি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পর কাশ্মীরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। আর এ বিক্ষোভে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হন। ফলে কাশ্মীর উপত্যকা আবারও অশান্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মীর। ভারত সরকার কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এতে কোন ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতাকামীরা ভারতের শর্তযুক্ত আলোচনার প্রস্তাবকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়তই স্বাধীনতাকামীদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরীরের রাজপথ। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত দফায় দফায় যুদ্ধেও লিপ্ত হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টেও ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জম্মু কাশ্মীর ভারতের অংশ নয় এমনই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জম্মু কাশ্মীরের হাইকোর্ট। সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী এ ঘোষণা দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, ‘Kashmir is not part of India and thus can not be amalgamated in India. Under the article of 370 constitution, Kashmir is an autonomous area’.
এ রায়ের ফলে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারা মাতৃভূতিকে স্বাধীন করার নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে হুররিয়াত নেতা শিব্বির আহমদ শাহ্ বলেন, বিভক্তির আগেও কাশ্মীর ভারতের ছিল না। এখনো ভারতের অংশ হতে দেবো না।
সম্প্রতি পুলওয়ামার ঘটনা কাশ্মীর পরিস্থিতিতে আবারও অশান্ত ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারত তার প্রতিশোধ স্বরূপ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়ে অনেক হতাহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে ভারতীয় দাবিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বরং বিশ্ব গণমাধ্যম এসব দাবিকে অতিরঞ্জন বলেই জানিয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেও পাকিস্তানও ভারতের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা ভারতে ২টি জঙ্গী বিমান ভূপাতিত, কয়েকজন পাইলট নিহত ও একজন আটকের দাবির অনুকূলে প্রমাণও দেখিয়েছে। ফলে আবেগের বশবর্তী হয়ে ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে গিয়ে নিজেরাই ব্যাকফুটেই পড়েছে বলেই সামরিক বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন। ফলে বিষয়টির সামরিক সমাধান নয় তা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ, অতীতে কোন যুদ্ধই এক্ষেত্রে কোন সুফল এনে দিতে পারেনি। তাই এক অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতায় উভয় পক্ষেই বলা হয়েছে যে, তারা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না বরং তারা  এ বিষয়ে শান্তিপূর্ণ পন্থায় অগ্রসর হতে চায়। যদিও উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও শেষ হয়নি।
অতীত অভিজ্ঞতা ও সার্বিক দিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে যুদ্ধ বা সংঘাতের মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বরং পরষ্পর আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আর কাশ্মীর সমস্যার সমাধান রয়েছে জাতিসংঘের প্রস্তাবমত গণভোটের মধ্যেই। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছেই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ