শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে নিজেই ফেঁসে গেলো

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : জীবনে অনেক রকমের ঘটনাই শোনা যায়, ঠিক এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে নাটোরের সিংড়ায়। প্রলোভনে পড়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি। পুলিশের তদন্তে মামলায় উল্লেখিত ঘটনার কোন মিল না থাকায় আসামীদের আটক করেনি পুলিশ। তবে থেমে নেই সেই জাহাঙ্গীর। মিথ্যা মামলায় আসামীদের আটক করাতে জন্ম দিলেন এক নাটকের। অবশেষে নিজেই গ্রেফতার হয়েছে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন তিনি।

পুলিশ, স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর। গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ আসছে। সাইফুল নামের এক ইলেকট্রেশিয়ানের সাথে কিছু টাকার বিনিময়ে কাজ করেন জাহাঙ্গীর। বাড়ি প্রতি কাজের বিনিময়ে টাকা পায় সে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সময় নকুল ও সুশীল নামের দু’জন ব্যক্তির একটি পুকুর বেধে যায়। জাহাঙ্গীর তাদের পুকুরের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চায় কিন্তু তারা রাজি নয়। বার বার গ্রামবাসী বসেও কোনো সুরাহা হয়না। একদিন জাহাঙ্গীরের মাথায় কে বা কাহারা আঘাত করে, পরে হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করালে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিছুদিন পরে গ্রামের কিছু লোক তাকে বলে যে, নকুল ও সুশীলের সাথে তোর ঝামেলা তাদের বিরুদ্ধে মামলা কর। তাদের কথা মত গত ২৮/০২/১৯ তারিখে সে নাটোর কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে একটা মামলা দায়ের করেন। সিংড়া থানা পুলিশ তার ওপর হামলাকারীদের নামের সাথে ঘটনার সত্যতা পায়না, আসামীরাও গ্রেফতার হয়না। এক পর্যায়ে সে একটা নাটকের জন্ম দেয়। কয়েকজন তাকে উসকানি দেয় যে, তুই তোর শাশুড়ির বাড়িতে চুরি করে তাদের ফাঁসিয়ে দে। ঘটনার দিন গত বুধবার রাতে (১৩/০২/১৯) তারিখে একটা চুরির ঘটনা সে ঘটালো। জাহাঙ্গীর থাকে একই গ্রামে শাশুড়ির বাড়িতে। শাশুড়ি লাইলি বেগম (৬৫) তার নাতনী জান্নাতীকে নিয়ে তার বাড়ির একটি ঘরে থাকে এবং পাশের ঘরে থাকে জামাই জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও মেয়ে রেখা বেগম (২৮)। ঘটনার দিন রাতে খাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে যায়। পরে রাত্রী প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে দুইজন লোক লাইলি বেগমের ঘরে প্রবেশ করে। তারা লাইলি বেগমের নাতনী জান্নাতীর গলা থেকে সোনার চেইন নেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু তার চিৎকারে তারা চেইন নিতে পারেনি। তবে লাইলি বেগমকে কিলঘুষি মেরে কানের লতি ছিড়ে ৪ আনা ওজনের সোনার রিং নিয়ে যায়। পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার জামাই জাহাঙ্গীরের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নকুল ও সুশীলকে ফাঁসানোর জন্য তাদেরসহ কয়েকজনের নাম বলে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে উপরিউক্ত ঘটনার বর্ণনা দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই শফিকুর রহমান আসামী জাহাঙ্গীরের বরাত দিয়ে ঘটনাটির বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের শাশুড়ি লাইলি বেগম সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে, বাঁকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ