মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

গ্যাস রফতানি করলে বাংলাদেশকে বিপদে পড়তে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা হুমকি স্বরুপ। আগামী ২০২২-২০২৩ সাল নাগাদ বাংলাদেশের গ্যাস উৎপাদনে ধ্বস নামবে। তাই গ্যাস মজুদ না করে রফতানি করলে বাংলাদেশকে বিপদে পড়তে হবে। গ্যাস রফতানির সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশর জন্য মস্তবড় ভুল সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। আর এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে পলিসি লেভেল থেকে। 

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ এনার্জি কো-অপারেশনঃ পলিসি ইস্যুজ অ্যান্ড অরিয়েন্টেশন্স’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। সেমিনারে বাংলদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে করনীয়, সম্ভবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করা হয়।  

বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমানের সভাপশিতেত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কে ভারদ্বাজ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস. ডি. মুনি, প্রফেসর মুচকুন্দ দুবে, বাংলাদেশ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্নাল এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার এর সম্পাদক মোল্লা এম আমজাদ হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আব্দুস সালেক, বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) পরিচালক রফিকুল ইসলাম। 

বক্তব্য রাখেন , ব্রাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট অধ্যাপক ড. ইজাজ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইনাম, সাবেক কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ, এছাড়াও  বাংলাদেশ ও ভারত থেকে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞগন, বিদেশী মিশন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বাংদেশ থেকে রফতানি করার জন্য হিউজ গ্যাস নেই। পাইপ লাইন দিয়ে গ্যাস রফতানি করার আইডিয়া হবে মারত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে সার্ভে করে ভারতের বিশেষজ্ঞ দলের উচিত হবে বাংলাদেশকে এ উদ্যোগের যথার্থতা যাচাই করা। বাংলাদেশের কাছে যে রফতানি করার মতো গ্যাস নেই সেটা বাপেক্সের সাথে বসে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ভারত-বাংলাদেশের কাজ হবে কাউকে মিস গাইড করা নয়। উপযুক্ততা যাচাই করে পরস্পর সহযোগিতার মানুষিকতা তৈরি করা।

অধ্যাপক সাহাব ইনাম খান বলেন, এনার্জি কো-অপারেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাপ্লাই সিস্টেম সাসটেনেবল কি-না তা যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে দু’দেশের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যদি এটা করা যায় তাহলে দু’দেশের সম্পর্ক আরও উন্নতি হবে। একই সাথে পাওয়ার সেক্টরেরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। 

রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাতে হলে এনার্জির বিকল্প নেই। দু’দেশের সহযোগিতায় এনার্জি খাতের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের অর্থনীতিরও উন্নতি ঘটবে। এছাড়া দেশে বিদ্যুত সাশ্রয়ী টেকনোলজি বেজড কারখানা গড়ে তুলতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ