মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

শিক্ষাঙ্গনে বন্ধ হয়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি  -বললেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় গণভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদের নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত ১০ বছরে অস্ত্রমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করেছে সরকার, শিক্ষাঙ্গণে বন্ধ হয়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী ধারা ফিরিয়ে আনতে ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ডাকসু নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিতদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে । বাংলা ট্রিবিউন।

 এসময় ডাকসুকে কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

গত ১১ মার্চ প্রায় ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ডাকসু নেতাদের আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

আশাকরি তোমরা একত্রে থেকে তোমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ডাকসু নির্বাচনে জয়ী ভিপি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ সকল ছাত্রনেতারা গতকাল শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান। এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিন্দন জানান। 

প্রধানমন্ত্রী জয়ীদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে আমি বলেছি, নির্বাচন হোক। তবে, কোন অস্ত্রের আওয়াজ, বোমার আওয়াজ যেন না হয়। নির্বাচন হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ীদের অভিনন্দন জানাই। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশাকরি তোমরা একসঙ্গে থেকে তোমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবে। 

 শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো। সেনাসমর্থিত সরকারগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররাজনীতিকে বিতারিত করেছিলো। ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সন্ত্রাসের পথে ধাবিত করেছিলো। গণতন্ত্রের চর্চা ছাত্রদের করতে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আমলের ডাকসুর কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে থাকতে পারে নি। তাদের ছাত্রদলের ক্যাডাররা মারপিট করেছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করেছে। এতে সাধারণ ছাত্রছাত্রী মারা গেছে। তিনি বলেন, গত দশ বছরে আমরা ক্যাম্পাসে কোন বোমাবাজি, গোলাগুলি করতে দেইনি। এতে ছাত্রলীগের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তারা পড়ালেখায় মনোনিবেশ করেছে। সুস্থ রাজনীতি করেছে বলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিলো। কোন ক্লাস বন্ধ হয়নি, সেশন জট হয়নি। ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খালেদা জিয়া ঘোষণা করলেন যে, আওয়ামী লীগকে শায়েস্তা করতে আমার ছাত্রদলই যথেষ্ট। কিন্তু আমি ছাত্রলীগের হাতে কলম তুলে দিয়ে বলেছিলাম, অসি’র চেয়ে মসি’র জোর বেশি। তিনি বলেন, ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করা যায় না।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখন আজিমপুর স্কুলে পড়ি, তখন আমরা দেয়াল টপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ দেখতে যেতাম। আন্দোলনে যোগ দিতাম। তোমরা কেন করবে না। তোমাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আন্দোলন হবে, সে যে কোন আন্দোলন হোক। ভিসির বাড়িতে হামলা কেন? তিনি বলেন, ভিসির বাড়ি হামলা করা হলো, ভাঙচুর করা হলো, লুট করা হলো। এখানে বাইরের অনেক লোক মিশে গেলো। তাই বলবো তোমরা আন্দোলন কর, তবে পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলন করো। যাতে তোমাদের আন্দোলনে অন্য কোন সুযোগ সন্ধানিরা মিশে দেশের জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে। এসময় শেখ হাসিনা বলেন, আমরাও তো আন্দোলন করেছি, আমরাতো ভিসির বাড়ি ভাঙিনি। ভিসির বাড়িতে হামলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরো বলেন, তোমরা আন্দোলনের নামে যে পরিবেশ সৃষ্টি করলে, মধ্যরাতে মেয়েরা হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এলো। যদি তাদের কোন ক্ষতি হতো তোমরা আন্দোলনকারীরা কোন সমাধান দিতে পারতে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ