বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

হামলার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ঘোষণাপত্র পাঠায় হামলাকারী ট্যারেন্ট

শীর্ষকাগজ ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে হামলার পূর্বে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ঘোষণাপত্র (ইশতেহার) পাঠিয়েছিল হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রভাবশালী  দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। 

প্রধানমন্ত্রী অফিসের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, গত শুক্রবার হামলার দশ মিনিট আগেই তারা হামলাকারীর পাঠানো একটি ইশতেহার পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অফিস ছাড়াও আরো ৭০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও একই ইশতেহার পাঠানো হয়। ঐ তালিকায় রাজনৈতিক নেতা, দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের কার্যালয় রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ইসলামকে ‘বর্বর ধর্ম’ বলায় অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ ব্রিটিশ ভাষ্যকার

ইসলাম ধর্মকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও লেখক মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ইসলাম ধর্মকে ‘বর্বর’ এবং ‘অ্যালিয়েন সংস্কৃত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়া সরকার তার বিরুদ্ধে দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে এই ব্রিটিশ ভাষ্যকারের বক্তৃতা করার কথা ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সরকার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রেইটবার্ট নিউজের সাবেক এই সম্পাদক সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।

এর আগে ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে নারীদের ‘পরগাছার’ সঙ্গে তুলনা করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন ব্রিটিশ এই বক্তা। চলতি মাসের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রাথমিকভাবে মিলোকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায় সরকারের জ্যেষ্ঠ মিত্ররা। পরে উদারপন্থীদের দাবির মুখে তাকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেন, ‘চরম বামপন্থী, আদিম এবং অ্যালিয়েন ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠার কারণে ক্রাইস্টচার্চের মতো হামলার ঘটনা ঘটছে।’

ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী ট্যারেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ক্যানড্যাসি ওয়েনসের দ্বারা প্রভাবিত বলে তার দেওয়া ইশতেহারে উল্লেখ করেছেন। ট্যারেন্টের এই ইশতেহারের পক্ষে সাফাই গেয়ে মিলো ফেসবুকে লেখেন, ‘নিউজিল্যান্ডে যা ঘটছে সেজন্য মিলো ইয়ান্নোপোলোসের কিছুই করার নেই। তবে প্রাণঘাতী এই হামলার জন্য বামপন্থীরা দায়ী।’

হামলার আগে ট্যারেন্টের গাড়িতে বাজছিল যুদ্ধাপরাধী কারাদজিচের স্তুতিগাথা

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে গুলি চালিয়ে নামাযরত মানুষদের হত্যাকারী ‘উগ্র ডানপন্থি’ ব্রেন্টন ট্যারেন্ট ‘চরম মুসলিমবিরোধী’ ছিলেন।

শুক্রবার আল নূর মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে তার গাড়িতে যে গান বাজছিল তা থেকেও তার মধ্যে থাকা উগ্র ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদ এবং মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

হেলমেটে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে ট্যারেন্ট আল নূর মসজিদে হামলা করতে যাওয়া থেকে শুরু করে পুরো হামলা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

১৭ মিনিটের ওই ভিডিওতে ট্যারেন্ট যখন গাড়ি চালিয়ে আল নূর মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন তখন তার গাড়িতে একটি সার্বীয় লোকগান বাজছিল। ওই গানে সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ ও তার সেনাদের প্রশংসা করা হচ্ছিল। সেইসঙ্গে গানের কথায় বসনিয়া যুদ্ধের সময় ক্রোয়েশীয় ও বসনীয় মুসলমানের অসম্মান করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বাক্যও ছিল।

নব্বইয়ের দশকে বসনীয় যুদ্ধের সময় প্রায় আট হাজার মুসলমান পুরুষ ও বালককে হত্যার অভিযোগ দোষী সাব্যস্ত হন কারাদজিচ; যা সেব্রেনিৎসার গণহত্যার নামে পরিচিত।

বসনিয়ার যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বসনীয় মুসলমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মূল ভুখ-ে এত বড় হত্যাযজ্ঞ আর ঘটেনি।

আল নূর মসজিদে হামলার পর ট্যারেন্ট নিজের গাড়িতে ফিরে আসেন; তখন তার গাড়িতে বিকট শব্দে ইংরেজি রক ব্যান্ড ‘দ্য ক্রেজি ওয়ার্ল্ড অব আর্থার ব্রাউন’র ‘ফায়ার’ গানটি বাজছিল.. ‘আই অ্যাম দ্য গড অব হেলফায়ার’।

ট্যারেন্ট গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে লনউডে অন্য একটি মসজিদে হামলা চালান এবং সাতজনকে হত্যা করেন।

আল নূর মসজিদে ৪১ জন এবং হাসপাতালে একজনসহ ট্যারেন্টের অটোমেটিক রাইফেল মুহূর্তে কেড়ে নেয় ৪৯টি প্রাণ।

গুলীবিদ্ধ আরও ৪৮ জনের চিকিৎসা চলছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’তে হামলার কারণ হিসেবে নিজের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেছিলেন।

মুছে ফেলেন ট্রাম্প

টুইটারে বরাবরই সরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনায় তার টুইট সেভাবে সরব নয়। গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পর তা নিয়ে টুইট করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই টুইটে তার নিজের একটি শব্দও ছিল না। হামলা নিয়ে কোনো নিন্দা বা হতাহত ব্যক্তিদের জন্য কোনো সমবেদনা ছিল না। শুধু ডানপন্থী একটি নিউজ সাইটের এ সংক্রান্ত খবরের লিংক পোস্ট করেছিলেন তিনি। পরে তিনি ওই টুইট মুছে দিয়ে নতুন আরেকটি টুইট করেন।

গতকাল শনিবার নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে প্রথম টুইটটি করেন। সেই টুইটে সমবেদনা প্রকাশ ছিল না, কোনো শব্দই ছিল না। আমেরিকার ডানপন্থী নিউজ সাইট ব্রেইটবার্ট নিউজের একটি খবরের লিংক পোস্ট করেন তিনি। এপির তথ্য নিয়ে হামলার খবরটি তৈরি করে ব্রেইটবার্ট নিউজ। খবরটির নিচে পাঠক মন্তব্য ছিল খুবই অশালীন, ব্যঙ্গাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ।

এখনো ওই সাইটের অনেক মন্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বা মুছে দেয়া হচ্ছে। এরপরও অনেক প্রশ্নবিদ্ধ মন্তব্য সেখানে রয়ে গেছে। হামলাকারী ব্রেনটনের হামলার ভিডিওটি মুছে দেয়ার কারণে ফেসবুককে অনেকে ‘ফ্লেইকবুক’ বলেও মন্তব্য করেছে।

ব্রেইটবার্টের নিয়মিত পাঠক হিসেবে ওই সাইটের পাঠকের মনোভাব সম্পর্কে ভালোই জানা আছে ট্রাম্পের।

টুইটটি পরে মুছে দেন ট্রাম্প। ১০ ঘণ্টা পর তিনি আরেক টুইটে হামলার নিন্দা জানান এবং নিউজিল্যান্ডের পাশে থাকার কথা জানান।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চ হামলার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ থেকে বিশ্বব্যাপী হুমকি বৃদ্ধির ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প জানান, তিনি তা মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই তা মনে করি না। আমি মনে করি, গুরুতর সমস্যা রয়েছে, এমন একটি ক্ষুদ্রগোষ্ঠী এরা (হামলাকারীরা)।’

তবে হামলাকারী মুসলিম হলে তিনি মানসিক অসুস্থতার অজুহাত তুলে বিষয়টি এমন হালকাভাবে নিতেন কি না, তা কল্পনা করাও মুশকিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

নিউজিল্যান্ডের প্রতি মুসলমানদের ভালবাসা কমবে না : আক্রান্ত মসজিদের ইমাম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম আব্দুল হালিম গতকাল শনিবার বলেছেন, হামলাসত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভালবাসা কমবে না।

এক বন্দুকধারী যখন ক্রাইস্টচার্চের ওই মসজিদে সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালাচ্ছিল তখন তিনি সেখানে নামাজের ইমামতি করছিলেন।

নিউড মসজিদের ইমাম হালিম বলেন, ‘আমরা এখনো এই দেশকে ভালবাসি।’

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, চরমপন্থীরা কখনোই আমাদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারবে না।’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের নুর মসজিদে হামলাকারী খৃস্টান জঙ্গি ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্টকে হাতকড়া পরিয়ে খালি পায়ে আদালতে হাজির করা হয়।

শনিবার স্থানীয় সময় সকালে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী এই যুবককে ক্রাইস্টচার্চ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। এ সময় হাসছিলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছেন ব্রেনটনকে। তিনি নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনের অ্যান্ডারসনস বে এলাকার বাসিন্দা।

আদালতে যখন ব্রেনটনকে হাজির করা হয়, তখন তাঁর পরনে ছিল বন্দীদের সাদা পোশাক, হাতে হাতকড়া এবং খালি পা। ডকে তাঁর ছবি তোলার সময় তিনি আলোকচিত্রীদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। তাঁর পাশেই ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আদালতে দায়িত্বরত আইনজীবী রিচার্ড পিটারস জানান, এর মধ্যে তার জামিনের কোনো আবেদন হচ্ছে না। তার নাম গোপন রাখারও কোনো আবেদন ছিল না।

তবে বিচারক পল কেলার হামলাকারী ব্রেনটনের ছবি তোলা ও ফুটেজ নেওয়ার অনুমতি দিলেও তিনি বিচার সম্পর্কিত অধিকার বজায় রাখতে ব্রেনটনের ছবি প্রকাশের সময় মুখ ঝাপসা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে ব্রেনটনের কোনো পেশার কথা উল্লেখ করা হয়নি। আদালত কক্ষে সাধারণ লোকজনকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সিনেটর অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে প্রতিবাদ

ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে রক্তাক্ত হামলার দায় মুসলিম অভিবাসীদের উপর চাপিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক তরুণ।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, শনিবার মেলবোর্নের মোরাবিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলছিলেন অ্যানিং। ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে এক তরুণ মোবাইলে ভিডিও করছিল। হঠাৎ করেই ওই তরুণ বা-হাতে মোবাইল ধরে ডান হাতে অ্যানিংয়ের মাথায় একটি ডিম ভেঙ্গে দেন।

হতবাক অ্যানিং পেছনে ঘুরেই তরুণের মুখে চড় মারতে শুরু করে। দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে লোকজন ওই তারুণকে মাটিতে চেপে ধরে; অন্য একজন অ্যানিংকে সরিয়ে নেয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং আরও ৪৮ জন গুলীবিদ্ধ হন।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ওই হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। যাকে ‘একজন উগ্র ডানপন্থি নৃশংস সন্ত্রাসী’ বলে বর্ণনা করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ওই দিন বিকালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যানিং বলেন, ওই হামলা অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে ‘মুলসলমান অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তে থাকা আতঙ্কের’ কথা বলছে।

বিবৃতিতে কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর অ্যানিং মসজিদে হত্যাযজ্ঞের জন্য নিউ জিল্যান্ডের অভিবাসন নীতিকেও দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “বরাবরের মতই, বামপন্থি রাজনীতিবীদ এবং সংবাদমাধ্যম আজ যে হামলার হয়েছে তার পেছনে অস্ত্র আইন অথবা যারা জাতীয়তাবাদী মনভাব ধারণ করে তাদের দায়ী করতে ব্যস্ত হয়ে যাবে। যদিও এ সবই ফালতু কথা।

 “আজ নিউ জিল্যান্ডের সড়ক রক্তে রঞ্জিত হওয়ার আসল কারণ তাদের অভিবাসন নীতি। যে নীতি মুলসমান ধর্মান্ধদের আশ্রয় প্রার্থনা করতে প্রথম পছন্দের দেশ হিসেবে নিউ জিল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয়।”

কড়া ভাষায় অ্যানিংয়ের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন, “অভিবাসী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে সিনেটর অ্যানিং যে মন্তব্য করেছেন তা আতঙ্কজনক এবং কুৎসিত। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের মনভাবের কোনো স্থান নেই। নিজের মন্তব্যের জন্য তার সত্যিই লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নয় ।”

শুক্রবারের বিবৃতির জন্য অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার পার্লামেন্টে তিরস্কার প্রস্তাব তুলবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ