বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

রংপুর সরকারি কলেজ : শহীদ মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস ঝুঁকিপূর্ণ 

গোলাম মোস্তফা আনছারী : প্রায় দু’শ বছর আগে নির্মিত রংপুর সরকারি কলেজের শহীদ মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস। বামনডাঙ্গা কালীধামের জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর জমিদার বাড়ি। এখন এই পুরনো ভবন জরাজীর্ণ দশা। দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে অনেক আগেই। গজিয়ে উঠেছে নানা জাতের গাছ। ছাদের কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে ছাদের রড। চারিদিকে যেন ভুতুড়ে পরিবেশ। তবুও ভবনটি এখনও ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় আট বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভবনটিকে দুই দফায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এমনকি ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ নয় বলে রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হলেও ভবনটিতে থাকছেন ৫০ জন শিক্ষার্থী। অথচ ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে সামান্যতম দুর্যোগেই যে কোনো সময় ভবন ধসে ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা।

ছাত্রাবাসে বসবাসকারী ছাত্র মাহমুদুল হাসান, রাজীব হোসেন, জয়, মামুন বলেন, মেসে থাকার খরচ বেশি। সেই খরচ চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ না থাকায় আমরা অন্য জায়গায় যেতে পারছি না। জানা যায়, প্রায় দু’শ বছর আগে পায়রা চত্বরের অদূরে এক একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয় বামনডাঙ্গা কালীধামের জমিদার গুরু পরণে ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয় শহীদ মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস। শুরুতে ছাত্রাবাসে ৫০ জন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এখন কিছু কক্ষের অবস্থা এতটাই খারাপ ও নাজুক যে সেগুলোতে আর কোনোভাবেই থাকার অবস্থা নেই। অন্য কক্ষগুলোতে ঝুঁকি নিয়েই কোনো রকমে বসবাস করছেন ৫০ জন ছাত্র।

ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে কলেজের পক্ষ থেকে এখানে ছাত্রদের থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও নিজ দায়িত্বে সেখানে থাকছে বেশ কিছু ছাত্র। মানবিকতার দিকটি বিবেচনা করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, কলেজের পাশেই টিনশেড দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে ছেলেরা থাকে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দোতলায় দুটি রুম ভালো আছে বলে জানানোর পর সেখানেই থাকে ছাত্ররা। এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এদিকে গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর শতাধিক ভবন ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকার প্রথমেই রয়েছে এই মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস। ২০১১ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দুই দফায় ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দুটি রুম সিলগালা করে দেয়। ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ নয় বলে রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব। রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কানিজ উম্মে নাজমা নাসরিন বলেন, ছাত্রাবাসের জমিটি চিরস্থায়ীভাবে রংপুর সরকারি কলেজের নামে করে নেওয়া এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ