বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

মংলা বন্দরের নৌ-বহরে যুক্ত হলো উদ্ধারকারী জাহাজ ‘এম টি সুন্দরবন’

এম টি সুন্দরবন

 

খুলনা অফিস : মংলা বন্দরের নৌ-বহরে যুক্ত হয়েছে ‘এম টি সুন্দরবন’ নামে অত্যাধুনিক একটি টাগ (সাহায্যকারী/উদ্ধারকারী) জাহাজ। মালয়েশিয়া থেকে এটি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে বন্দরের ৭ নং জেটিতে এসে নোঙর ফেলে। 

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, ‘৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মালয়েশিয়া থেকে এম টি সুন্দরবন নামের টাগ জাহাজটি আনা হয়েছে। জাহাজটি পূর্ব মালয়েশিয়ার শিবু এলাকায় নির্মাণ করা হয়। ৪২ টন ক্ষমতাসম্পন্ন এ টাগ জাহাজ নির্মাণ করেছে মালয়েশিয়ার কাইবুক শিপ ইয়ার্ড। নবনির্মিত জাহাজে কোনও ধরণের ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল কিনা তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য দুই মাস আগে বন্দরের আমার নেতৃত্বে একটি টিম মালয়েশিয়ায় যাই। সবরকম আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জাহাজটি মংলা বন্দরে আনা হয়।’

তিনি আরো বলেন, পূর্ব মালয়েশিয়ার শিবুর কাইবুক শিপ ইয়ার্ডে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে। সিএন্ডএফ এজেন্ট, শুল্কসহ আনুসঙ্গিক আরো সাত কোটি টাকা খরচ হয়েছে জাহাজটি বন্দরে আনতে। দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ উদ্ধার, বন্দর চ্যানেলে মার্কিং ও লাইটিং বয়া স্থাপন এবং বয়া ও জেটিতে বিদেশি জাহাজ বাঁধার ক্ষেত্রে এ জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জাহাজটির সক্ষমতা (ক্যাপাবিলিটি/নড়ষষধৎফ ভঁষষ) ৪০ টন।

বন্দর ব্যবহারকারী ইউনিক মেরিটাইম লি. ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বদিউজ্জামান টিটু এবং নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, ‘উদ্ধারকারী এ টাগ জাহাজটি আরও আগেই কেনার দরকার ছিল। দেরিতে হলেও কর্তৃপক্ষ টাগটি সংযোজন করায় বন্দরে জাহাজ আনা নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবো।’

এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, ‘এম টি সুন্দরবন দিয়ে বন্দর চ্যানেলের সার্বিক অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হবে দুর্ঘটনাকলিত জাহাজ ও নৌযান।’

তিনি বলেন, টাগ বোট হলো এক ধরনের সহায়ক জলযান। এটি মংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জাহাজটি বড় জাহাজ তীরে ভেড়ার ক্ষেত্রে, বন্দরে আসা কোনো বড় জাহাজ বালচরে আটকে গেলে বা ঘুরতে না পাড়লে সেসব জাহাজ সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের অন্তত আটটি টাগ বোট প্রয়োজন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে নৌবহরে আরো টাগ বোট যুক্ত করা হবে।

খুলনায় শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে 

নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব-২০১৯ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খুলনার করোনেশন হল নাট্য নিকেতনের নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, দেশে থেকে প্রায় নাটক হারিয়ে যেতে বসেছে। এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে মানসম্মত নাটক তৈরি করতে হবে। নাটকের মাধ্যমে সমাজের ভাল এবং খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে পারে। তিনি বলেন, খুলনা জেলা শিল্প-সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। এই সুনাম আমাদের ধরে রাখতে হবে। একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি সে দেশের পরিচয় বহন করে। শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ও প্রতিভার বিকাশে জেলা শিল্পকলা একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন নাট্য নিকেতনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান বাবলু এবং খুলনা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ব মো. হুমায়ুন কবীর ববি। স্বাগত জানান জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা।

মঙ্গলবার খুলনার চারটি সংগঠনের চারটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকগুলো হলো: কবর, ঈগলের ডিম, নতুন মুক্তিযুদ্ধ এবং ঘাতক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ