শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

লাউয়ের পুষ্টিগুণ

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক দর্জি খাবার তৈরি করে রাসূলুল্লাহ (সা:)কে দাওয়াত দিলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা:) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা:)-এর সামনে রুটি এবং ঝোল যাতে লাউ ও গোশতের টুকরো ছিল, পেশ করা হলো। আমি নবী (সা:)কে দেখতে পেলাম, পেয়ালার কিনারা থেকে তিনি লাউয়ের টুকরা খোঁজ করে নিচ্ছেন। সে দিন থেকে আমি সব সময় লাউ ভালোবাসতে থাকি। (সহিহ বুখারি ২০৯২ সহিহ মুসলিম ৫২২০, আল হাদিস সফট)

আমাদের দেশে সবজি হিসেবে লাউয়ের ব্যবহার খুব বেশি। লাউকে কমবেশি সবাই পছন্দ করে। লাউ সাধারণত শীতকালে বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে সারা বছরই লাউ পাওয়া যায়। শীতকালে লাউয়ের চাষ বেশি হয় বলে দামও খুব কম থাকে। লাউ খেতে আল্লাহর রাসূল সা: পছন্দ করতেন। সাহাবা রা: পছন্দ করতেন। আমরাও লাউ খেতে পছন্দ করি। কিন্তু লাউয়ের ঔষধি গুণ সম্পর্কে তেমন ধারণা আমাদের নেই। লাউয়ের ঔষধি গুণ সম্পর্কে ধারণা থাকলে লাউয়ের প্রতি আকর্ষণ আরো বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

১. পাকস্থলীর রোগ : লাউ দেখতে আমাদের পাকস্থলীর মতো। তাই পাকস্থলীর রোগ নিরাময়ে লাউ খুবই কার্যকর। লাউ গ্যাস্ট্রিক, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমশক্তি বৃদ্ধি, ক্ষুধামন্দা নিরসনে কার্যকর। লাউয়ের বীজে প্রচুর জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়ামসহ আরো খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান ডায়রিয়া পরবর্তী পাকস্থলীর ক্ষয় সারাতে খুবই উপকারী। পাকস্থলীর সমস্যা দূরীকরণে সবজি হিসেবে ৮০-১০০ গ্রাম এবং বীজ আধা কাপ পরিমাণ খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত লাউ খেলে পেটের বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে থাকতে পারি।

২. মূত্রথলির রোগ : লাউ দেখতে যেমন আমাদের পাকস্থলীর মতো, তেমনি তা দেখতে আমাদের মূত্রথলির মতো। তাই আমাদের মূত্রথলির বিভিন্ন রোগে লাউ উপকারী। লাউ মূত্রথলির প্রদাহ নিরসনে এবং মূত্রবর্ধনে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে লাউয়ের শাস রান্না করে অথবা এক-দুই কাপ পরিমাণ জুস করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৩. অতিরিক্ত পিপাসায় : লাউয়ের রসের সাথে লেবুর রস একত্র করে শরবতের মতো পান করলে দ্রুত পিপাসা নিবারণ হয়ে যায়।

৪. জন্ডিস রোগে : লাউয়ের রসের সাথে এর পাতার রস, সেই সাথে আখের রস অথবা গুড়সহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৫. কোষ্টকাঠিন্যে : বৃহৎ অন্ত্রে বুলেটের মতো শক্ত মল, বেরুতে চায় না। কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি এ ক্ষেত্রে লাউয়ের ডাঁটা ও পাতার রস তিন-চার চা-চামচ করে পাঁচ-ছয় দিন সকালে বাসি পেটে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়।

৬. অম্ল : অম্লের সাথে কোষ্টকাঠিন্য থাকলে ফলের অভ্যন্তরীণ অংশের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে উপরোক্ত সমস্যা দূর হয়ে যায়।

৭. পিত্ত ও শ্লেষ্মাজনিত জ্বর : পিত্ত ও শ্লেষ্মাজনিত জ্বর সাথে শরীরে জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব থাকলে লাউ আগুনে ঝলসে নিংড়িয়ে রস বের করতে হবে। এই রসের সাথে প্রয়োজন মতো মধু মিশিয়ে নিয়মিত কয়েক দিন সেবন করলে ওই রোগ সেরে যাবে।

৮. বিদগ্ধাজীর্ণ : সকালে মুখে তিক্ত হয়ে থাকে, দাঁত অপরিষ্কার হয়ে থাকে দাঁতে আস্তরণ পড়ে যায়। এ অবস্থায় লাউ পাতার শরবত খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়।

৯. পায়োরিয়া : লাউ ঝলসিয়ে রস মুখে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকতে হবে। এভাবে কয়েক দিন করলে পায়োরিয়া রোগ ভালো হয়ে যায়।

১০. দূষিত ক্ষত : কোনো ক্ষত দূষিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় লাউ ঝলসানো রস দিয়ে ক্ষতস্থান ধৌত করলে ক্ষতের দোষ নষ্ট হয়ে যায়।

১১. চেহারার লাবণ্য : চেহারার রূপ বাড়াতে কতই না চেষ্টা, বিশেষ করে মেয়েদের। এ জন্য প্রতিদিন এক টুকরো লাউয়ের সাদা অংশ নিয়ে চেহারায় ঘষতে হবে। লাবণ্য ফিরে আসবে এবং বৃদ্ধি পাবে।

১২. মেছতা : চেহারায় মেছতা দাগ। লোকসমাজে যেতে লজ্জাবোধ হয়। এ জন্য চিন্তার কারণ নেই। এক টুকরো লাউ আগুনে ঝলসে নিয়ে প্রতিদিন একবার করে মেছতার দাগে ঘষতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যে দাগ সেরে যাবে। তা ছাড়া চেহারায় ছোট কালো দাগ থাকলে তাও সেরে যাবে।

১৩. শ্বেতি : শ্বেতি পড়া শুরু হয়েছে। দেরি না করে প্রতিদিন একবার করে লাউফুল শ্বেতির ছোট ছোট দাগে ঘষে দিন। শ্বেতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

১৪. চোখের ছানি : চোখে ছানি পড়া শুরু হয়েছে। দেরি না করে লাউফুলের সাদা পাঁপড়ি অংশটা নিয়ে কচলিয়ে এক ফোঁটা রস প্রথম দিকে দুই দিন পরপর এবং পরে একদিন পর পর চোখে দিতে হবে। ছানি পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে লাউফুলটা একটু গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

-মুন্সি আবদুল কাদির

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ