শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ্ ডে-২০১৯

প্রতি বছর ২০  মার্চ “ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ্ ডে” সারা বিশ্বে পালিত হয়ে থাকে।  বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক ডেন্টাল সার্জন এ দিনটি পালন করে থাকেন। এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস যার মাধ্যমে সবাইকে জানানো হয় স্বাস্থ্যবান মুখের লাভ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে। ২০১৯ সালের “ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ্ ডে” ক্যাম্পেইন বা কার্যক্রমের থিম বা বিষয় হলো ‘‘Say Ahh : Act on Mouth Health’ ’ আপনার মুখের স্বাস্থ্যের যতœ নিন আপনার মুখ ও শরীরের সুরক্ষার জন্য। এই আহ্বান প্রত্যেক মানুষকে উদ্দীপনা দেয় সবাই যেন মুখের স্বাস্থ্যের যতœ নেয় এবং এটি সার্বিক স্বাস্থ্যের সেইফ গার্ড। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মুখের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অধিকাংশ মুখের রোগের ক্ষেত্রেই অন্যান্য শরীরের রোগের সাথে একই ধরণের রিস্ক ফ্যাক্টর বিদ্যমান থাকে। হৃদরোগ ইতিমধ্যেই শীর্ষ ঘাতক ব্যাধি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে যা মাড়ি রোগের সাথে সম্পৃক্ত। সম্প্রতি জরিপে দেখা গেছে মাড়ি রোগের ব্যাকটেরিয়া ইসোফেজিয়াল ক্যান্সার বা টিউমারের সাথে সম্পৃক্ত। মাড়ি রোগের মাধ্যমে যদি “ভিরিড্যানস্ স্ট্রেপটোকক্কাই”  ব্যাকটেরিয়া রক্ত প্রবাহে সংক্রমিত হয় তাহলে হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মাড়ি রোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা করবেন না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় পেরিওডন্টাল রোগে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় বা দেখা যায় তার মধ্যে ষ্টেপটোকক্কাস স্যানগুইস বা স্যানগুইনিস হার্টে সংক্রমিত হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস দেখা দিতে পারে। স্টেপটোকক্কাস স্যানগুইনিস সুস্থ মানুষের মুখে বিদ্যমান বিশেষ করে ডেন্টাল প্ল্যাকে বিদ্যমান থাকতে পারে। তাই মাড়ি রোগের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত পেরিওডন্টাইটিসের ক্ষেত্রে দাঁত নড়ে যায়। কিন্তু দাঁত বেশী নড়ে গেলেই সেটি পেরিওডন্টাইটিসের কারণে হয়েছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। আর এ ক্ষেত্রে পেরিওডন্টাইটিস ভেবে দাঁত তোলাও ঠিক নয়। রোগীদেরও দাঁত নড়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারকে এসে বলা উচিত নয় যে দাঁত ফেলে দেওয়ার জন্য। কারণ পেরিওডন্টাইটিস ছাড়াও মাড়ির ক্যান্সারের কারণে দাঁত নড়ে যেতে পারে। এছাড়া রক্তনালীর টিউমার হেমানজিওমা হলেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দাঁত ফেলে দিলে বড় ধরণের সমস্যা যেমন অঝোর ধারায় রক্তপাত হতে পারে। মোট কথা টিউমার, সিস্ট এবং অন্য কারণেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। মাড়ি রোগ বা মাড়ির পাশে আলসার বা ঘাঁ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।  এসব বিষয়ে রোগীদের সচেতন করে তোলাই হবে ওরাল হেলথ্ ডে  এর লক্ষ্য। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো লিভারের রোগের সাথে পেরিওডন্টাল রোগের যোগসূত্র রয়েছে। লিভারের রোগে অনেক সময় মুখে প্রচন্ড দূর্গন্ধ হয়ে বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। পেরিওডন্টাইটিস এর সাথে লিভারের রোগ যেমন নন এলকোহলিক লিভার ডিজিজ, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়, অর্থাৎ এসব রোগের অবস্থার অবনতি ঘটে থাকে। মুখের অভ্যন্তরে কোন সার্জারির পর রক্তপাত বেশি হতে পারে লিভারের রোগে। কোয়াগুলোপ্যাথির জন্য সামান্য আঘাতে মাড়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রনিক লিভার ডিজিজে দাঁত ও মাড়িতে সবুজ দাগ এবং এনামেল হাইপোপ্লাসিয়া দেখা যেতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাসের  কারণে মুখের ক্যান্সার ও সারভাইক্যাল ক্যান্সার হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাস টাইপ-১৬ কে মুখের ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসাবে গণ্য করা হয়। মুখকে নিয়ে ভাবুন, মুখ আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যকে নিয়ে ভাববে। মনে রাখবেন মুখগহ্বরকে অবহেলা করে কখনই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য ভাল রাখা সম্ভব নয়। 

-ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার, মিরপুর, ঢাকা।  মোবাইল : ০১৮১৭৫২১৮৯৭

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ