মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে স্থানান্তর নতুন সংকট তৈরি করবে-জাতিসংঘ

১২ মার্চ, আল জাজিরা: জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। তিনি বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ জনমানবহীন ওই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দেওয়া উচিত হবে না। সেখানে তাদের স্থানান্তর করা হলে শরণার্থীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। গত সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আগামী এপ্রিলে ২৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর প্রেক্ষিতেই এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করলেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। সম্প্রতি ভাসানচর সফর করা ইয়াংহি লি বলেন, বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপটি আসলেই বসবাসযোগ্য কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন। শরণার্থীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের স্থানান্তরের উদ্যোগ হবে একটি মন্দ বা অসুস্থ পরিকল্পনা। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এ সভায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট নে সান লুইন বলেন, ভাসানচরে কেউ যেতে চাইবে না। একমাত্র বল প্রয়োগের মাধ্যমেই তাদের সেখানে নেওয়া সম্ভব।

এর আগে গত জানুয়ারিতেও তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। তিনি বলেন, ভাসানচরে সাইক্লোন হলে কি পরিস্থিতি তৈরি হবে তা না দেখে এবং দ্বীপটির সুযোগ সুবিধা যাচাই না করে কোনভাবেই তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো উচিত হবে না। তাড়াহুড়ো করে তাদের সেখানে পাঠানো হলে মিয়ানমারের কাছে ভুল বার্তা দেওয়া হবে। মিয়ানমার এমন বার্তা পেতে পারে যে, বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের ফেরত না নিলেও চলবে।

ইয়াংহি লি’র ভাষায়, ‘তারা (মিয়ানমার) একটি জঘন্যতম অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলে ভাবতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত মার্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ২৩ হাজার পরিবারকে (প্রতি পরিবারের চার-পাঁচজন) অর্থাৎ এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য। শিগগিরই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু হবে। আমরা প্রস্তুত। ঘর, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার সবকিছু তৈরি আছে।’ এর মধ্যেই সোমবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি।   

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)’র কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ২০১৭ সালের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বর্মি বাহিনী ও দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হাত থেকে জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই সোমবার বিষয়টি আইসিসি’তে তোলার আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ দূত। ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতি অবশ্যই আইসিসি’তে তোলা উচিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, কোনও দেশ কিংবা বিভিন্ন দেশের জোট থেকে এ বিষয়টি সেখানে তোলা যেতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত বলেন, ঘটনার শিকার মানুষদের যন্ত্রণা লাঘবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত। এ ব্যাপারে বৈশ্বিক নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে অপেক্ষমান থাকতে তাদের বাধ্য করা উচিত নয়। বিষয়টি যদি আইসিসি’তে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বিবেচনা করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ