মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রথমধাপের উপজেলায় আ’লীগ ৫৭ জন ও স্বতন্ত্র ২৩ চেয়ারম্যান নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৫৭ জন এবং স্বতন্ত্র ২৩ প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দলটির ৫৭ জনের মধ্যে ১৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড় সদরের মো. আমিরুল ইসলাম, আটোয়ারীর মো. তৌহিদুল ইসলাম ও তেঁতুলিয়ার কাজী মাহমুদুর রহমান। কুড়িগ্রাম সদরের মো. আমান উদ্দিন আহম্মেদ, চিলমারীর শওকত আলী সরকার, ভুরুঙ্গামারীর মো. নুরুন্নবী চৌধুরী, নাগেশ্বরীর মোস্তফা জামান ও উলিপুরের মো. গোলাম হোসেন মন্টু।
নীলফামারীর ডোমারের তোফায়েল আহমেদ, ডিমলার মো. তবিবুল ইসলাম ও সৈয়দপুরের মো. মোখছেদুল মোমিন। লালমনিরহাট পাটগ্রামের মো. রুহুল আমীন বাবুল, হাতীবান্ধার মো. লিয়াকত হোসেন ও কালীগঞ্জের মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। সিরাজগঞ্জের চৌহালীর মো. ফারুক হোসেন, রায়গঞ্জের ইমরুল হোসেন ও শাহজাদপুরের মো. আজাদ রহমান।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের মো. মোস্তাকিম ম-ল ও কালাইয়ের মো. মিনফুজুর রহমান। নাটোরের সিংড়ার মো. শফিকুল ইসলাম, বড়াইগ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও লালপুরের মো. ইসাহাক আলী। রাজশাহীর তানোরের মো. লুৎফর হায়দার রশীদ, পুঠিয়ার জি এম হিরা বাচ্চু, দুর্গাপুরের মো. নজরুল ইসলাম, গোদাগাড়ীর মো. জাহাঙ্গীর আলম, চারঘাটের মো. ফকরুল ইসলাম ও বাগমারার অনিল কুমার সরকার।
সুনামগঞ্জ ছাতকের মো. ফজলুর রহমান, দোয়ারাবাজারের আব্দুর রহিম, তাহিরপুরের করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ সদরের মো. খায়রুল হুদা ও শাল্লার চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। হবিগঞ্জের চুনারঘাটের মো. আবুল কাশেম চৌধুরী ও আজমেরীগঞ্জের মো. মুর্ত্তুজা হাসান।
হবিগঞ্জের লাখাইয়ের মো. মুশফিউল আলম আজাদ, জামালপুরের ইসলামপুরের এস এম জামাল আব্দুন নাছের ও বকশীগঞ্জের আব্দুর রউফ তালুকদার। নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর গোলাম কিবরিয়া জব্বার, মোহনগঞ্জের মো. শহীদ ইকবাল, মদনের মো. হাবিবুর রহমান ও কলমাকান্দার মো. আব্দুল খালেক।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত যারা
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরা হলেন- পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মো. ফারুক আলম, সিরাজগঞ্জ সদরের রিয়াজ উদ্দিন, কাজীপুরের মো. খলিলুর রহমান সিরাজী ও উল্লাহপাড়ার শফিকুল ইসলাম শফি। জয়পুরহাট সদর উপজেলায় এস এম সোলায়মান আলী ও পাঁচবিবি উপজেলায় মো. মনিরুল শহিদ ম-ল, নাটোর সদর উপজেলার মো. শরিফুল ইসলাম রমজান।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মো. লায়েব উদ্দীন ও মোহনপুর উপজেলার মো. আব্দুস সালাম, জামালপুর সদর উপজেলার মো. আবুল হোসেন, সরিষাবাড়ি উপজেলার মো. গিয়াস উদ্দিন পাঠান, মেলান্দাহ উপজেলার মো. কামরুজ্জামান ও মাদারগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রউফ তালুকদার, নেত্রকোনা সদর উপজেলার মো. তফসির উদ্দিন খান ও কেন্দুয়া উপজেলার মো. নূরুল ইসলাম।
স্বতন্ত্র নির্বাচিত যারা
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ জন। তারা হলেন- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের আব্দুল মালেক, কুড়িগ্রামের রাজারহাটের জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী, রৌমারীর শেখ আব্দুল্লাহ ও রাজিবপুরের মো. আকবর হোসেন হিরো।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের শাহ্ মো. আবুল কালাম বারী, লালমনিরহাট সদরের মো. কামরুজ্জামান সুজন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মো. নূরুল ইসলাম ও তাড়াশের মো. মনিরুজ্জামান।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের মো. আব্দুস সালাম আকন্দ, নাটোরের বাগাতিপাড়ার মো. অহিদুল ইসলাম ও গুরুদাসপুরের মো. আনোয়ার হোসেন। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ফারুক আহমদ, দিরাইয়ের মো. মঞ্জুর আলম চৌধুরী, ধর্মপাশার মোজাম্মেল হোসেন রুকন ও বিশ্বভরপুরের মো. সফর উদ্দিন। হবিগঞ্জের মাধবপুরের এস এফ এ এম শাহজাহান, সদরের মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, নবীগঞ্জের মো. ফজলুল হক চৌধুরী ও লাখাইয়ের মো. মুশফিউল আলম আজাদ। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের মো. সোলায়মান হোসেন ও বকশীগঞ্জের আব্দুর রউফ তালুকদার। নেত্রকোনার বারহাট্টার মুহাম্মদ মাইনুল হক ও দুর্গাপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস আরা।
হাইকোর্টের নির্দেশে চেয়ারম্যান পদে নীলফামারী সদর ও জলঢাকা উপজেলার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হয় ১০ মার্চ।
৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৭৮ উপজেলায় ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনে ২৮টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘পরবর্তীতে এগুলোর তারিখ নির্ধারণ করে আমরা পুনর্নির্বাচন করব। তবে প্রথম বা দ্বিতীয় প্রার্থীর মধ্যে ভোট প্রাপ্তির সংখ্যা অনেক বেশি হলে পুনর্নির্বাচনের দরকার হবে না। কাছাকাছি হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।’
২৮টি কেন্দ্রই কেন স্থগিত হয়েছে, তা তদন্ত করে ইসি দেখবেন বলেও জানান হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যেসব কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে, তার প্রত্যেকটি কেন্দ্র কেন বন্ধ হয়েছে, সেটা আমরা তদন্ত করে দেখব। ইতোমধ্যে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কী কারণে কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার প্রয়োজন হয়েছে, এগুলো তদন্ত করা হবে। এরজন কে দায়ী, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, যেই হোক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
১০ মার্চ ভোট শুরুর আগেই তিন উপজেলার ভোট স্থগিত করে ইসি। এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই উপজেলাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে নিরপেক্ষ হওয়ার আশা ছিল না বলেই স্থগিত করা হয়েছে।’
যেসব উপজেলায় ভোট আগেই স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের সময় কিংবা অন্য কোনো সময় ভোট নেয়া হতে পারে বলেও জানান ইসি সচিব।
অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় কয়েকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান ইসি সচিব।
হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা যত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করে থাকি, তাদের কিন্তু একদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন। আমরা সবচেয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দিই। কোনো কোনো কর্মকর্তা তাদের নৈতিকতা হারিয়ে ফেলে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে সে কাজ করতে চায়। এগুলো নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু এগুলো কঠোরভাবে দমন করি। আপনারা দেখেন, গতকাল কয়েকজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা যে কেউ করুক না কেন, সেই দায়ভার তাকে দায়িত্ব নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ