মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যে হাসপাতাল যন্ত্রপাতি ধার করে আনে সেখানে কিভাবে সুচিকিৎসা সম্ভব?

গতকাল সোমবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কেনো চিকিৎসা নিতে চান না তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে গতকাল সোমবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, যে পিজি (বিএসএমএইউ) হাসপাতালে অন্য হাসপাতাল থেকে ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতি ধার করে আনে সেখানে কিভাবে সুচিকিৎসা সম্ভব? আপনারা (সাংবাদিকরা) নিজেরাই তো রিপোর্ট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন। সেই অসুস্থতার সাপোর্ট পিজি দিতে পারেনি, ল্যাব এইড থেকে যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে। তাহলে সেই হাসপাতালে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী চার বারের প্রধানমন্ত্রী কি চিকিৎসা দেবেন তাকে।
রিজভী বলেন, তার তো দ্ষ্টৃান্ত আছেই যে, চিকিৎসার মাঝখানে দেশনেত্রীকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা দরকার, যে আধুনিক যন্ত্রপাতি দরকার সেগুলো এই হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নেই। সেটা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হলো ওবায়দুল কাদেরের সময়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাব এইড থেকে যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে। আর কোনো প্রমাণ দেয়ার দরকার আছে আপনাদের কাছে। আজকে কেনো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পিজিতে যেন চান না? কারণ সেখানে কোনো চিকিৎসা নেই।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, দেশনেত্রীর পরিবার ও আমরা বার বার দলের পক্ষ থেকে বলেছি যে, দেশনেত্রীকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিন। কারণ সেখানে নানাবিধ যন্ত্রপাতি আছে যেগুলো তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপযোগী হবে কিন্তু সরকার সেই কথা শুনেনি। আওয়ামী নেতাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পরও তাদের বিদেশে পাঠাতে হয় চিকিৎসার জন্য। সেটিও আবার রাষ্ট্রীয় খরচে। অথচ বেগম খালেদা জিয়ার নিজ দেশে, নিজ খরচে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার করানোর সুযোগ নেই। শুধুমাত্র মিডনাইট ভোটের সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার তুষের আগুন ধিকধিকি জ্বালার কারনেই বেগম খালেদা জিয়ার কারান্তরালে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি পূনর্ব্যক্ত করেন তিনি। গণতান্ত্রিত ব্যবস্থা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে, কণ্ঠরোধের স্বৈরাচারি প্রাতিষ্ঠানিক রুপ ভেঙ্গে ফেলতে, মত প্রকাশের অধিকার হরণ ও সন্ত্রাসের বাতাবরণ বন্ধ করতে, বিরোধী দল শূন্য দেশ গঠনে শেখ হাসিনার একগুয়ে মনোবৃত্তির কবল থেকে বাঁচতে, গণতন্ত্রের দুর্দিন থেকে সুদিন ফেরাতে, পুলিশি আধিপত্য থেকে দেশকে বাঁচাতে, মৌলিক অধিকারের টুঁটি টিপে ধরা ছাড়াতে, বারা বার হারানো গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পরীক্ষিত অবিসাংবাদিত নেতৃত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চায়। তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
রোববার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনতে কারা কর্তৃপক্ষ সব আয়োজন করলেও বেগম জিয়া তাতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে তাকে হাসপাতালে আনা যায়নি।
নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাবেক ছাত্র নেতা মনির হোসেন, রকিবুল ইসলাম বকুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, হায়দার আলী লেলিন, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, ওমর ফারুক সাফিন, আমিনুল ইসলাম, ছাত্র দলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগকে বিজয়ী করার অনুকূলে কাজ করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আজ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো। গত রাতেও ব্যালট বাক্স ভরানো হয়েছে যার প্রমাণ পাওয়া গেলো কুয়েক মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের মাধ্যমে। ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বের হতে পারেনি। মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ডাকসু নির্বাচন সরকারেরই নীতি ও নীলনকশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা। এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আয়োজন ছাত্রলীগকে অবৈধপন্থায় বিজয়ী করার অনুকূলে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাছে সংবাদ আসছে যে, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থকরা যাতে ভোট দিতে না পারে সেজন্য পুলিশ অবিশ্বাস্য রকমের তৎপরতা শুরু করেছে। সব হলে হলে ছাত্রলীগের আতঙ্কজনকহারে মহড়া চলছে। ছাত্র লীগের ক্যাডাররা হুমকি দিয়ে হলগুলো গতরাতেই তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে। বিরোধী মতের শিক্ষকদের ডাকসু নির্বাচনের কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। এ নির্বাচনের পরিণতি নিয়ে জনমনে সংশয় গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান নাৎসীবাদী উপরিকাঠামোর মধ্যেই ২৮ বছর পর আজকে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৯ ডিসেম্ববের মধ্য রাতে ভোটের স্মৃতি ডাকুস নির্বাচনে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের তাড়িত করছে। এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।নাসীবাদী গণতন্ত্রের নানারূপ এ্ নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে প্রতিফলিত হয়েছে।
হলের পরিবর্তনে একাডেমী ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, ভোটের সময়সীমা বাড়ানোর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অগ্রাহ্য করার কথা উল্লেখ করে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ১৮ টি কেন্দ্রের জন্য টেলিভিশন মাধ্যমের চারটি ইউনিট ও প্রিন্ট মিডিয়ার দুইকে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য নির্বাচনের সঠিক সংবাদ সংগ্রহে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ আরোপ ও তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। ডিজিটাল বাংলাদেশের উল্লাসে অস্থির ক্ষমতাসীনদের রাজত্বে এমন কী দশা হলো যে, মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ আজ ডাকসু নির্বাচনের দিন সব ধরনের অনিয়মের প্রমাণ না রাখা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কমপক্ষে ৩৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাকে নজির বিহীন বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সবেক ভিপি রিজভী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ