মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ উর্বরা : শক্তি হ্রাস

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : কাজিপুর উপজেলার সর্বত্র জমিতে কৃষকরা অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছে। এতে জমির উৎপাদন শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। কাজিপুর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার প্রায় ৩০০ টি গ্রাম গঞ্জের ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকরা গোবর সার প্রয়োগ করছে না বললেই চলে। গোবর সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিমাত্রার রাসায়নিক সার। একারণে জমিতে অম্লতা ও লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মাটি হারাচ্ছে পানি ধারণের ক্ষমতা। এছাড়া জমিতে বেড়ে যাচ্ছে নানা প্রকার বিষাক্ত পদার্থ। জমির সর্বোৎকৃষ্ট সার গোবর তাও জ্বলানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জ্বালানির সংকটের কারণে গ্রামের গরীব শ্রেণীর মানুষ সারের পরিবর্তে গোবরকে ঘুটে বানিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। অপরদিকে এলাকার মৎস্যজীবীরা গোবরকে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। রাসায়নিক সারের  মূল্য বৃদ্ধি হলে ও কৃষক তা অতিমাত্রায় প্রয়োগ করছে। এছাড়া কৃষির অন্যান্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি,  হালের বলদ ও সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থার অভাবেও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার যেসব এলাকায় ডিপটিউবয়েলের সাহায্যে চাষাবাদ করা হচ্ছে। সে এলাকার আবাদি জমি ক্রমশঃ উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। এ ব্যাপারে  বরইতলা গ্রামের কৃষক ফজলার রহমানকে গোবর সার প্রয়োগ সম্পর্কে জিঞ্জাসা করলে তিনি জানান আামার গরু নেই বলে গোবর সার জমিতে ব্যবহার করতে পারছি না। কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান জ্বালানি সংকটের দরুণ গোবরকে ঘুটে বানিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, জমিতে বছরে অন্তত একবার জৈব সার অর্থাৎ গোবর সার দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে জমির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে ফসল ভাল হয়। কিন্তু গোবর সারের সংকটের কারণে তা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এভাবে সারা বছর কৃষকরা রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে জমির ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ