বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকট ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকট চরমে ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা। ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে একজন করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফার্মাসিষ্ট, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ থাকলেও জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ছাড়া অন্য চার পদে কোন জনবল নাই। ফলে ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসক, জনবল, আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ এবং পানি সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো থেকে কাংখিত সেবা পাচ্ছেনা স্থানীয় এলাকাবাসী। জানা গেছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃক পরিচালিত ৫টি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো হলো পাথরডুবি, তিলাই, জয়মনিরহাট, পাইকেরছড়া ও আন্ধারীঝাড় কেন্দ্রে ফার্মাসিষ্ট নেই, পাইকেরছড়া কেন্দ্রে নেই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, তিলাই কেন্দ্রে নেই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও নিরাপত্তা প্রহরী, পাথরডুবিতে নেই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা। তিলাই, আন্ধারীঝাড় ও পাইকেরছড়া কেন্দ্রে নেই পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ। জয়মনিরহাট কেন্দ্র ব্যতীত বাকি কেন্দ্রগুলোতে নেই আসবাবপত্র। কোয়াটারগুলোর বেহাল অবস্থা হওয়ায় কোন স্টাফ কোয়াটারে থাকেন না। তিলাই ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শীকা সুফিয়া খাতুন জানান এই কেন্দ্রটির আবাসিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় এখানে থাকা সম্ভব নয়। জয়মনিরহাট কেন্দ্র ব্যতীত কোন স্টাপ কোয়ার্টারে বসবাস করেন না বলে স্থানীয় এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে। অপর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একজন করে মেডিকেল অফিসার ফার্মাসিষ্ট ও একজন পিয়ন থাকার কথা থাকলেও সোনাহাট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন লোকই নাই। শাহিবাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধু মাত্র একজন পিয়ন রয়েছে। চর-ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধু মাত্র একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আছে। 

শিলখূড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ থাকলেও তারা কোন দিনও এখানে বসেন না বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ পানি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আহসানুল হক জানান সব সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত এর সমাধান হবে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবু সায়েম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে তিনি প্রতি সপ্তাহে দুই দিন সোনাহাট ও শাহিবাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগী দেখছেন। সব সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ