বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ষড়যন্ত্রকারী খুনিরা আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই  পারবে না ---- শেখ হাসিনা 

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তুলে ধরেছিলেন বাঙালি জাতির অধিকারের কথা। ত্যাগ স্বীকারের মহান প্রেরণা পাওয়া যায় তার এই ভাষণে। যে কারণে তার নেতৃত্বে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামে। মুক্তিকামী সব মানুষের জন্য প্রেরণা ছিল ৭ মার্চের এই ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ যুগের পর যুগ চলছে, চলবে। তার ঐতিহাসিক ভাষণ এখনও মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগায়।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা, খুনিরা আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই, পারবে না। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

এছাড়াও সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বাঙালির মুক্তির সনদ। বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। 

তিনি বলেন: ভাষণটি তিনি যখন দিতে যাবেন অনেকে অনেক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবী তারা পয়েট লিখে নিয়ে আসছেন; অনেকে চিন্তাবিদ তারাও প্রস্তুতির কাজ করে যাচ্ছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা আসছেন .বিভিন্ন দাবি দাওয়ার চিরকুট তুলে দিচ্ছেন, তখনকার সময়ে যারা পাকিস্তান সরকারের কর্মরত বাঙালি ছিলো তারাও তালিকা করছে। প্রফেসর-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সবাই বক্তব্যের জন্য একটি খসড়া তৈরি করছিলেন, আমাদের ছাত্র নেতারা এসে বলছেন: এটা বলতে হবে, ওটা বলা না হলে মানুষ হতাশ হয়ে যাবে। তাদের এমন বহু কথায়-কথায়, কাগজে কাগজে, বস্তায় বস্তায় আমাদের বাসা ভরে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে আছে ওই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে যাওয়ার আগে মা বাবাকে ডেকে নিলেন। দুপুরের খাবার শেষে বাবা সব সময় একটা পান মুখে নিতে। মা তাতে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে যেতে বললেন। বাবা যখন শুয়ে ছিলেন মা মোড়াটা টেনে নিয়ে বাবার সামনে বসলেন। আব্বার মাথার কাছে আমার জন্য ছোট্ট একটু জায়গা ছিলো। আমি তার মাথার কাছে বসে চুলে হাত বুলিয়ে দিতাম। এটা আমরা অভ্যাস ছিলো। সেদিনও ওই একই জায়গায় বসে ছিলাম।

তিনি বলেন, মা বাবার হাতে পান তুলে দিয়ে বললেন: আজকে ময়দানে হাজার হাজার লোক এসেছে, এসব মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে। অনেকে অনেক কথা বলবে, তুমি এ মানুষগুলোর জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছো; তুমি জানো দেশের মানুষের কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা প্রয়োজন না। তোমার থেকে বেশি এটা আর কেউ জানে না। তোমার কারো কথা শোনার দরকার নেই, তোমার মনে যে কথা আসবে, যেটা বলার প্রয়োজন মনে করবে তুমি সেটাই বলবে। সেটাই এদেশের মানুষের জন্য সত্য বলে প্রতিভাত হবে।

 শেখ হাসিনা বলেন, বাবা সমাবেশস্থলে রওনা হলেন কোন কাগজ নয়, কোন নোট নয়। তিনি সেদিন যে বক্তৃতাটা দিয়েছিলেন পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বজ্রকন্ঠে তা বারবার বাজানো হয়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময়টাতে, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- এ কথাটা অনবরত বাজতে থাকায় আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা অনুপ্রেরণা পায়। পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে ভাষণটি কেন নিষিদ্ধ হয়েছিলো তা বিবেচনার ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে, একটি জাতিকে যুদ্ধে এনে বিজয় করতে পেরেছিলেন— যা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। তার এই ভাষণ সর্বশ্রেষ্ঠ। ’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার। আজ সেই ভাষণ অমূল্য বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তা সংরক্ষণ করার এবং বিশ্বকে জানানোর দায়িত্ব নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেসকো)। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সত্যকে কেউ অস্বীকার করে মুছে ফেলতে পারে না। জাতির পিতা যে কথা বলে গিয়েছিলেন, “আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না”। ষড়যন্ত্রকারীরা, খুনিরা এখনও আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই, পারবে না। ’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ