বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এমি ও পাখির বন্ধুত্ব

 মো. আরিফ হোসেন : এমিদের ঘরের দরজার উপর একটি চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছে । পাখিটি প্রতিদিন এখানে বসে থাকে । মাঝে মাঝে খাবার খেতে বাহিরে যায় । আবার জলদি করে বাসায় ফিরে আসে । এমি প্রতিদিন তা খেয়াল করে । সব সময় ওর প্রতি নজর রাখে । ওকে কেউ কষ্ট দিলে, এমি খুবই রাগান্বিত হয় এবং দুঃখ পায় । এমির চোখের সামনে ওর বাসায় কেউ হাত দিতে পারে না, ঢিল মারতে পারে না । নইলে তাদের হাত ভেঙে দিবে, একদম এ কথা বলে দিয়েছে । 

এমি পরিবারের ছোট মেয়ে তাই সবাই ওকে আদর করে । খুব ভালোবাসে । মাঝে-মধ্যে ওর কথা শুনে সবাই মুচকি হাসে । ও নাকি বনের সিংহকেও ভয় পায় না । বাঘমামা ওকে দেখলে সালাম দেয়, ওস্তাদ ওস্তাদ বলে পালিয়ে যায় । এমন পাকনা পাকনা কথার কারণে ওর আম্মু ওকে বুড়ি বলে ডাকে । 

ওর কথামতো পাখিটির বাসার কাছেও কেউ যায় না। ওর কারণে পাখিটি খুব নিরাপদে বসবাস করে। দিনের বেলায় পাখিটি কোথাও ঘুরতে গেলে, ও গোপনে গোপনে বাসার মধ্যে খাবার রেখে আসে। সন্ধ্যায় পাখিটি বাসায় ফেরার পর খাবার দেখে খুবই আনন্দিত হয়। আর খুশির ঠেলায় গাপুসগুপুস করে খেয়ে ফেলে। তবে মনে মনে ভাবতে থাকে, কে প্রতিদিন এখানে খাবার রেখে যায়?

পরের দিন পাখিটি গাছের ডালে বসে পাহারা দিচ্ছে, বাসা থেকে সামান্য একটু দূরে, আজকে নিজ চোখে দেখবে কে প্রতিদিন খাবার রেখে যায়, কে তাকে এত ভালোবাসে । সকাল ঘনিয়ে বিকেল হল। সূর্যটা পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে । প্রতিদিনের মতো আজকেও খাবার দিতে বের হল এমি, বাসার মধ্যে খাবার রাখার সাথে সাথেই পাখিটি ওকে দেখতে পেল। জলদি করে ওর কাঁধে এসে বসল। ওর কপালে বার বার চুমু খাচ্ছে । আনন্দের জোয়ারে মনটা যেন দিশেহারা। ওকে এতো ভালো লাগলো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না। বহুদিন পর একজন মনের মতো একজন সঙ্গী খুঁজে পেয়েছে। এমিও খুব আনন্দিত। অন্তরে খুশির জোয়ার। পাখিটিকে কাঁধে করে ঘুরছে সারা গাঁয়ে । আজ থেকে দু'জন দু'জনার বন্ধু। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ