বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নীল সাগরে ভূতের বাড়ি

সাজজাদ হোসাইন খান : জাহাজটির নাম ছিল মেরী ক্যাসেল। নিবাস মার্কিন মুল্লুকের নিউইয়র্ক বন্দর। বড়সড় জাহাজ। সাগর মহাসাগর পাড়ি দেয়, পাহাড়-পর্বতের মতো ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে করে। সেদিনও খোশমেজাজে সাগরে ভেসেছিল মেরী ক্যাসেল। যেনো ধবধবে এক রাজহাঁস। পানির ঢেউ কেটে আগে বাড়ছে। বিশাল বিশাল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে জাহাজে। আর ঢেউয়ের ভাঙ্গা পানির কণাগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে উড়ে যাচ্ছে এদিক সেদিক। হিরার টুকরার মতো। সাগরের একটু গভীরে ঢুকতেই আবার অন্যরকম ছবি, দৃশ্য। জাহাজের চারপাশ ঘিরে হাঙ্গর চলছে ঝাঁকে ঝাঁকে। তিমিরা উঠছে-ডুবছে। ঢেউয়ের ফাঁকফোকরে। দূরে দেখা যাচ্ছে নারিকেল গাছের সারি অজানা কোন দ্বীপে। পাখিদের ওড়াউড়ি। বইছে হিম হিম হাওয়া। এক মনলোভা ছবি আর কি। জাহাজের যাত্রীরাও কেউ এসব দেখছে। কেউ কাজে-কামে ব্যস্ত, কেউ গানটান গাইছে মনের আনন্দে। সূর্য ডুব দিচ্ছে পানিতে। পরদিন একই জায়গা থেকে উঠে আসছে লাল-গোলাপি চাকতির মতো সাগর ফুটা করে। এদিকে মেরী ক্যাসেল চলছে বিরামহীন, গন্তব্যের দিকে। শোঁ শোঁ আওয়াজ আর ঢেউয়ের মাতামাতির সাথে হেসে খেলে।

সপ্তা দেড়েক পরের ঘটনা। বেশখানিকটা তফাতে যাচ্ছিল আরো একটি জাহাজ। নাম দ্যায় গর্সিয়া। এটিও বিশাল জাহাজ, লোকলস্করে ভরপুর। মোরহাউজ দ্যায় গর্সিয়ার কাপ্তান। সাগর পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা তার অনেক। আপদে-বিপদে মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবনা-চিন্তা করার মানুষ মোরহাউজ। আর চেহারা সুরতে এমন হাবভাবই লটকে আছে। সাগরের বেলাভূমিতে মৎস্যকন্যাদের নাকি শুয়ে থাকতে দেখেছে কেউ কেউ। আর দেও-দানবরা সাগর উথাল-পাতাল করে চলাফেরা করে। এমনি আরো কতো ভয় ভয় গল্প সাগর নিয়ে, জাহাজ নিয়ে। জাহাজের ভাঙ্গা মাস্তুল নিয়ে। ডেকে দাঁড়িয়ে এমনি সব নানান কথা ভাবছে মোরহাউজ। ভাবছে ফেলে আসা জীবনের ঝলমলে দিনগুলোর কথা। আর নজর মেলে দিচ্ছে সামনে। হঠাৎ চোখে আটকে গেলো একটি জাহাজ। দ্যায় গর্সিয়া থেকে বেশখানিকটা দূরে। তাই পড়া যাচ্ছিল না নামধাম। এমনকি জাহাজের মানুষজনদের চলাফেরাও ধরা পড়ছিল না। সবকিছুই আবছা আবছা। শুধুই ঢেউ আর বাতাস, বাতাস আর ঢেউ ঘুরপাক খাচ্ছে-দুই জাহাজের মাঝখানটায়। এরিমধ্যে আরো দু’একজন এসে দাঁড়িয়েছে মোরাহাউজের আশপাশে। তাদের চোখও নাম না জানা জাহাজটির দিকে। কোথায় যাচ্ছে জাহাজ, জাহাজের মানুষজনই বা কারা, হালসাকিনই বা কোথায়? নানান প্রশ্ন মোরহাউজের মগজে উড়ছে আলবাষ্ট্রা পাখির মতো। সাথের লোকদের হালতও একই রকম। সাগরে দুই জাহাজের মোলাকাত নতুন কোন ব্যাপার নয়। এমনটা হামেশাই ঘটে। এসব নিয়ে বেচইন হবারও কোন কারণ থাকে না। কিন্তু দ্যায় গর্সিয়ার কাপ্তান মোরহাউজ কতকটা বেচইনই হয়ে পড়লেন যখন জাহাজটির নাম তার নজরে স্পষ্টভাবে ধরা দিল। চোখে আটকানো দূরবীণটি আগপাছ করলেন বার কয়েক। ডাইনে-বায়ে ঘুরালেন। তারপর স্থির হয়ে এলো। স্থির হয়ে এলো আঙ্গুল দূরবীণ। স্থির হয়ে গেলো চোখও। চেহারায় এসে জমা হচ্ছে অজানা শংকা, আশংকা। কারণ মোরহাউজ দেখলেন জাহাজটির নাম মেরী ক্যাসেল। যতই দূরত্ব কমছে ততই বড় হচ্ছে কাপ্তান মোরহউজের শঙ্কা-আশঙ্কার ঘরবাড়ি। মেরী ক্যাসেলের চলাফেরা তাঁর চোখে ভাল ঠেকলো না। মন্থর গতি, সাড়া শব্দ নেই জাহাজের লোকজনদের। নানান সংকেত টংকেত পাঠানো হলো। কোন জবাব এলো না। সময় যাচ্ছে আর মোরহাউজের কপালের ভাঁজের সংখ্যাও বাড়ছে। বড় হচ্ছে চিন্তা-ভাবনার সীমাও। দুই জাহাজের মাঝখানটায় এক অজানা রহস্যের গন্ধ ঘুরাঘুরি শুরু করেছে ততক্ষণে।

মোরহাউজ ভেবে-চিন্তে ঠিক করলেন মেরী ক্যাসেলে লোক পাঠাবেন। সরেজমিনে দেখা দরকার আসলেই কি ঘটলো মেরী ক্যাসেলে। সময় যাচ্ছে আর দ্যায় গর্সিয়ার কাপ্তানের হৃদকম্পন বাড়ছে দ্রুত। বাড়ছে, কারণ মেরী ক্যাসেলের কাপ্তান তার অন্তরঙ্গ বন্ধু। সাগরে ভাসার আগে দু’বন্ধু মিলে একসাথে দুপুরে খাবার সেরেছে নিউইয়র্কের এক হোটেলে। যাত্রাও করেছে একই সময়ে। কিন্তু মাঝখানে এমন কি ঘটনা? জাহাজের বিপদ আর বন্ধুর বিপদ তো সমান কথা। দ্যায় গর্সিয়ার একজন কর্মকর্তা এবং তার সাথে আরো কয়েকজন জাহাজের বাজুতে ঝুলে থাকা একটি নৌকা নিয়ে রওয়ানা করলো মেরী ক্যাসেলের উদ্দেশে। আসলে জাহাজটিতে কি ঘটলো কাছ থেকে না দেখলে তো কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। তাই মোরহাউজের এই আয়োজন। আপদ-বিপদ ছাড়াই নৌকাটি পৌঁছে গেল মেরী ক্যাসেলের কাছাকাছি। সাগর ছিল শান্ত। তাই গুটানো ছিল বিপদের হাত-পা। মাথার ওপর উড়ছে পাখির ঝাঁক, সাথে সাগরের শোঁ শোঁ আওয়াজ আর কুসুম গরম বাতাস। নৌকার লোকেরা অনেক ডাকাডাকি করলো কিন্তু কোন উত্তর পাওয়া গেল না। দৌড়ে এলো না কেউ জাহাজের ডকে। জাহাজটির জানালায়ও কোন উঁকি ঝুঁকি নেই। এমন দুঃসময়ে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এর কিছুই ঘটলো না। নৌকা থেকে মোরহাউজের লোকেরা মেরী ক্যাসেলের ভাবসাব দেখে অবাকই হলো। তাই জাহাজে উঠার সিদ্ধান্ত নিল তারা। দু’একজনকে নিচে রেখে কর্তাব্যক্তিটি তার সঙ্গী-সাথী নিয়ে মেরী ক্যাসেলে গিয়ে উঠলো। এ ব্যাপারে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া গেল না। যে কারণে বেশ কষ্ট করেই তারা মেরী ক্যাসেলের পাটাতনে পা রাখলো। তাদের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিল আরো অবাক সব দৃশ্য গন্ধ। জাহাজটি ঘুরে-ফিরে দেখলো তারা, সব সুনসান। লোকজনদের দেখা-সাক্ষাৎ পাওয়া গেল না, জীবিত না মৃত। যতই হাঁটাহাঁটি করছে ততই অবাক হচ্ছে দ্যায় গর্সিয়ার কর্তাটি এবং সঙ্গী-সাথীরা। এতবড় জাহাজ তাতে একজন মানুষও থাকবে না এ কেমন আলামত! তাদের চোখ সব রসগোল্লা। মেরী ক্যাসেলের আজব ব্যাপার স্যাপারের কোন কূল কিনারা না করতে পেরে কর্তাব্যক্তিটি লোক পাঠালেন দ্যায় গর্সিয়ার কাপ্তান মোরহাউজকে আনার জন্যে। বন্ধুর চেহারা লটকে আছে চোখের পর্দায়, মনের দেয়ালে। তাই আচানক সব গল্প-কাহিনী শুনে চটজলদি রওয়ানা দিলেন মোরহাউজ। মেরী ক্যাসেলে পা রেখে তিনিও লা-জবাব। বিশ্বাসের ঘোর যেন কাটতেই চায় না। সবাই মিলে আবার জাহাজটির কোণা কামছায় খোঁজাখুঁজি করলো। না, কোথাও কেউ নেই! এতগুলো মানুষ গেল কই? গেল তো সব দল বেঁধে! পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে যদি আত্মহত্যাও করতো তাহলে দু’একটা লাশ তো পানিতে ভাসতো। তারও কোন চিহ্ন নেই। আত্মহত্যাই বা কেন করতে যাবে? মোরহাউজ দেখছে রহস্যের শীতল বাতাস মেরী ক্যাসেলের এক দরজা দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। মোরহাউজ এবং তার লোকেরা রহস্যময় জাহাজটির প্রতিটি এলাকার খোঁজখবর নিতে শুরু করলো নতুন করে। কিন্তু কোন জনমানুষের চিহ্নমাত্র পাওয়া গেল না। এতগুলো লোকের জাহাজ ত্যাগ করার জুতসই কোন কারণও তাদের মগজে ধরা দিল না। যতই সময় যাচ্ছে রহস্যের নীল পানি ততই যেন বড় হচ্ছে। তারা আবিষ্কার করলো মেরী ক্যাসেলে প্রচুর খাদ্য এবং খাবার পানির মজুদ। ইঞ্জিন ঘরের কলকব্জাও সব ঠিকঠাক। কোথাও কোন খুঁত নেই। লড়াই-টড়াইয়ের কোন নাম নিশানা পাওয়া গেল না। জাহাজের কোথাও ভাংচুরও হয়নি। তবে মেঝেতে দু’এক ফোঁটা রক্তের চিহ্ন পেল তারা। আঙুল-টাঙুল কাটলে এমনটা হতেই পারে। জাহাজ ভর্তি মানুষ এদের কোন একজন কাজটাজ করতে গিয়ে হয়তো এই কাটাকুটি। যতই ঘুরছে ততই আচানক সব কা--কারখানার দেয়ালে তারা ঢুঁশ খাচ্ছে। মাথাম-ু কিছুই বুঝে আসছে না। আসবেই বা কি করে, জাহাজ ভর্তি মানুষ হঠাৎ হাওয়া, তাও আবার মাঝ সাগরে! তারা দেখল পাঁচ পাউ-ের একখানা ব্যাংক নোট পড়ে আছে ডেকে। আর একপাশে কিছু কাপড় কেউ হয়তো ধুয়েছিল। সাফছুতর কাপড়গুলো পড়ে আছে অযতেœ। নেওয়া হয়নি সাথে। তাড়াহুড়া করে জাহাজ ত্যাগ করলে এমনটা হতেই পারে। কেন এই তাড়াহুড়া! এই ভরসাগরে তাড়াহুড়ার বা কারণ কি? ভাবনায় ফেললো সাবইকে।

ঘুরতে ফিরতে পাওয়া গেল একখানা চিঠি। তাও আবার অসমাপ্ত। আর একজন কুড়িয়ে পেল আরো একখানা কাগজের টুকরা। এতে তারা দেখতে পেল কিছু লেখাজোখা, তারিখ এবং জায়গার নামসমেত। মোরহাউজের লোকেরা গুনেটুনে দেখল কাগজে যে সময় লেখা তা আজ থেকে দশদিন আগের। তারা হিসাব করে দেখলো এই তারিখে মেরী ক্যাসেলের অবস্থান থাকার কথা সাতশ পঞ্চাশ মাইল পিছনে। জাহাজ মেরী ক্যাসেল কি এই সাড়ে সাতশ মাইল পথ একা একা পাড়ি দিলো! নাবিকবিহীন, যাত্রীবিহীন? মোরহাউজের দু’কানের লতি বেয়ে নামছে আগুন, পলকহীন চোখ। বিদ্যাবুদ্ধি সব গুলিয়ে যাচ্ছে। আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। শোঁ শোঁ বাতাস জাহাজের এক দরজা দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে চলে যাচ্ছে হো হো হাসতে হাসতে। বাতাস আর পানিতে যেন রহস্যের লোনা গন্ধ। মোরহাউজ এবং তার লোকেরা জনমানবহীন হাল ছেঁড়া জাহাজটি যতই দেখছে চোখ উলটানো নতুন নতুন জালে আটকে যাচ্ছে। এই জালের একটি সূতাও তারা ছিড়তে পারছে না। কেবল অবাক দৃষ্টিতে দেখাটাই যেন তাদের কাজ। মোরহাউজের অভিজ্ঞতা-টবিজ্ঞতা সব ফেল। মোরহাউজ হাঁটছে আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তার বন্ধুর ফেলে যাওয়া জাহাজ মেরী ক্যাসেলের রগরেশা। কোথাও কোন ঝামেলা নেই। খুঁত নেই। তকতকে ঝকঝকে। তারপরও পর থাকে। তেমনি আরো একটি বিস্ময় দাঁড়িয়ে ছিল মোরহাউজের জন্য। মোরহাউজ দেখলো মেরী ক্যাসেলের সামনের দিককার একটি বিরাট কাঠ কারা যেন কেটে নিয়ে গেছে। পেছনে এসে দেখা গেল এদিককার একখানা কাঠও একইভাবে কাটা হয়েছে। এই কাঠ কারা কাটলো, কেনই বা কাটতে গেল, এই প্রশ্নের জবাব কারো মগজে এলো না, না মোরহাউজ, না তার লোকজনদের। এর জবাব আজও পাওয়া যায়নি। কখনো এই রহস্যের জাল ছেঁড়া যাবে এমন ভরসাও নেই। কারণ ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে প্রায় দেড়’শ বছর। অকূল পাথারে ভাসছে বুদ্ধিবিবেচনা, বিজ্ঞান-ফিজ্ঞান ।

ফুলে ফুলে উঠছে সাগর। আর কাগজের নৌকার মতো মেরী ক্যাসেল হেলছে দুলছে এক অজানা কষ্ট নিয়ে কি যেন বলতে চাইছে কিন্তু মুখের ভাষা আটকে থাকছে বুকে। মোরহাউজের বুকেও ব্যথা চিনচিন ওঠানামা করছে। বন্ধুর শোক বন্ধুর জাহাজের অবাক করা বিষয়-আশয় তাকে হতবাক করে তুললো। তাই দ্যায় গর্সিয়ার কাপ্তান সাব্যস্ত করলো মেরী ক্যাসেলকে চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে তারা যেখানে যাচ্ছে সেই পর্যন্ত, আপাতত। এমন ব্যবস্থাই করা হলো। কয়েকজনকে মেরী ক্যাসেলের দায়িত্ব দিয়ে মোরহাউজ ফিরে গেলেন দ্যায় গর্সিয়ায়। পাশাপাশি চলল দুই জাহাজ মেরী ক্যাসেল আর দ্যায় গর্সিয়া তীরে ভিড়ার আগ পর্যন্ত।

এরিমধ্যে জানাজানি হয়ে গেল মেরী ক্যাসেলের ভূত ভূত কাহিনী। এই কান থেকে সেই কানে। এই জন থেকে সেই জনে চালাচালি হলো। কেউ বিশ্বাস করলো আবার কেউ বলল কাল্পনিক। যে যাই ভাবুক মেরী ক্যাসেল কিন্তু নীল সাগরের ভূতের বাড়ি হিসেবেই রয়ে গেল আজ পর্যন্ত। এই রহস্য জালের সুতা ধরে টানাটানি করলো এখানকার মানুষ। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা তদবির মাঠে মারা গেল। জালের একটি সুতাও তুলে আনতে পারেনি তারা। অন্ধকার আর অন্ধকার বাদে। মেরী ক্যাসেলের যারা যাত্রী হয়েছিল সেদিন তাদেরকে আর দ্বিতীয়বার কেউ দেখেনি পৃথিবীর কোথাও। তারা কোন দিন বাড়ি ফেরেনি। ফেরেনি আপনজনদের টানেও। এতগুলো মানুষ একসাথে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ে মরে যাবে তাও তো বিশ্বাস হতে চায় না। তাহলে কি ঘটলো তাদের ভাগ্যে। এরকম প্রশ্নের জবাব এখানো বাক্সবন্দি। লটকে আছে সাগরের ঢেউয়ের পর্বতের মতো চূড়াগুলোতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ