বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কবিতা

সময় শেষে

মাহমুদুল হাসান নিজামী

 

শেষতক এলে তবে সময় শেষে

এলে প্রিয় কবি কবিতা হয়ে অবশেষে

বিবর্ণ গোধূলি বেলায় ধূসর মরুমেলায়

বিদায়ী সাঁঝে অধরা নীলিমায়

কে তুমি প্রিয়তম

শেষ বিকেলের অনন্ত স্বপন

নব দিগন্তে স্বপ্নীল সাজে তবে নব পরাগ

অনুভবের নীলে নব মনজিলে অযুত অনুরাগ।

 

 

কোন এক শুভ বিকেলে

শাহিদ উল ইসলাম

 

প্রতিটি বিকেলে বিষন্নতায় নেয়ে উঠি

মনাকাশ ঢেকে যায় এক বিদায়ের রঙে এবং

বিরহের সেতারা নোঙ্গর ফেলে হৃদে। 

কেন বিকেল এমন হয়; কে জানে? 

প্রতিদিন বিদায় ক্যান এমন করে কড়া নাড়ে

বিকেল কেন এতো বেদনার এক বিউগল বাজায়!

চলে যাবার আগে দাগ কেটে যায়; কেবলই যায়।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে আমি আঠারো

হাজার দুইশত পঞ্চাশটি বিকেল দেখেছি

এমন একটি বিকেল খুঁজে পাইনি যা রোদনহীন।

বিকেল এমনই হয়; চলে যাবার আগে সে যে

সুরমা আতর গোলাপজলের সুবাস নিয়ে আসে। 

প্রত্যহ বিকেল আসে আর বিকেলেরা চলে যায়

বিদায়ের সুর মূর্ছনায় মূর্ছিত হয়ে এবং

ভিন্ন ভিন্ন রঙে বেদনার ভারাক্রান্ত মন নিয়ে।

বয়সের ঢেউ ভেঙ্গে কাল আমাকে পৌঁছে দিলো

এমনই এক বিকেলে; যেখানে

বেদনা মিশ্রিত ভয় ও শঙ্কার সহযোগে

কেবলই পরজগতের ডাক ভেসে আসে আজানের মতো!

জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে 

আমিও সুর বাঁধি দাদাজানের মতো; নত হই আর

মাটি বুকে নিয়ে কেঁদে উঠি ;

যে মাটি থেকে আমি একদিন দাঁড়িয়েছিলাম

কোন এক শুভ বিকেলে।

সে মাটির টানে আমিও ছুটছি অবিরাম অবিরত

আমিও চাই আমার প্রস্থান হোক

কোন এক শুভ বিকেলে।।

 

স্বপ্ন দেখতে জানি

আহসান হাবিব বুলবুল

 

একান্ত আপনজন যখন মিথ্যাচার করে,

তখন নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি।

 

বন্ধুত্বের গভীরতা কোনদিন মেপে দেখিনি,

শুধু ভালোবাসার ফুল দিয়ে মিনার গড়ি।

 

এত সহজে কেমন করে বদলে যাও তুমি;

অর্থ বন্ধু প্রতিপত্তি-এসব কী এত মহার্ঘ্য!

 

আমি আমার বিশ্বাস থেকে

সরে দাঁড়াবো না।

আমি হৃদয় ভাঙবো না; কেননা

আমি স্বপ্ন দেখতে জানি॥

 

শুধু একবার

জয়নব জোনাকি

(কবি আল মাহমুদকে নিবেদিত)

 

আর একবার জাগো কবি! 

শুধু আর একটিবার!

আমি দেব তোমায় ভালোবাসায় মাখা 

আমার কিছু কবিতার ভার।

কবি উঠো! দেখো অপেক্ষায় আছে

তোমার ভক্তকূল হাজার,

দিগন্তের আবীর মেখে- তুমি ওঠো,

তুমি ওঠো.. শুধু আর একবার।

অর্ধফোটা কলির মিছিল 

তোমায় দেখতে আবার,

শপথ করেছে তোমার আবহে

তাড়াবে রাতের আঁধার, 

তুমি কবিতার সরোবরে 

মুদিত নয়ন মেলে,

ধুমকেতুর মতো চমকে দিয়ে

জ্বলে ওঠো,

জ্বলে ওঠো.. শুধু আর একবার।

জোনাকির দল ঝাঁকে ঝাঁকে দেখো

আকুল তিয়াশে ঘ্রাণ খোঁজে-

তোমার কাব্যসুধার, 

আলোতে আলোতে ভরেছে শরীর

নিশুতিরাতের তারার।

বীণার তারে সুরের রাগ তুলে-

গেয়ে ওঠো কবি! গেয়ে ওঠো,

গেয়ে ওঠো.. শুধু আর একবার।

ফাগুনের মৃদুলা হাওয়ায় 

বসন্তের দোলা চারিধার, 

কোকিল বিমুগ্ধ কন্ঠে- 

দেখো ফুলেরাও তোমায়

ডাকছে বারংবার।

কৃষ্ণচূড়ার লাল পাপড়ি হয়ে

তুমি জেগে উঠো কবি!

জেগে ওঠো,

জেগে ওঠো.. শুধু আর একবার!

 

 

বিধ্বস্ত চকবাজার 

রুদ্র সাহাদাৎ

 

ধোঁয়া ধোঁয়া চারিধার, বিধ্বস্ত চকবাজার

কংক্রিটের দেয়াল -একের পর এক দালান -বাতাসে পোঁড়া গন্ধ।

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা -আহত স্বজন, কিছু কিছু মুখ অগ্নিময়।

কিছু কিছু হাত অগ্নিময়, কিছু কিছু দেহ নিথর  -যেনো পোড়া কাঠ কয়লা।

 

আমরা যেনো মৃত্যুকূপে হাওয়ায় হাওয়ায় ঘুরছি আমৃত্যু -বারেবারে প্রাণ হারায় প্রিয় স্বজন

রাজপথে মৃত্যুর মিছিল, দু’চোখে কেবলই -অগ্নিদগ্ধ মানুষের কালো ধূলিবালি মিশ্রিত মুখমন্ডল

ধোঁয়া ধোঁয়া চারিধার, বিধ্বস্ত চকবাজার, সব হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ, অসহায় জোড়া জোড়া চোখ....

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ