বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গত চার বছরেও সরেনি খুলনার পাঁচ আবাসিক এলাকায় ৫২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

খুলনা অফিস : খুলনার পাঁচ আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিতে ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল চিঠি দিয়েছিল কেডিএ। চিঠিতে ছয় মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। তাতেও কেটে গেছে চারটি বছর, তবুও আবাসিক এলাকা থেকে সরেনি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কেডিএ’র চার বছর আগের হিসেবে-সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার প্রথম ফেজে ১৯টি, দ্বিতীয় ফেজে সাতটি, নিরালা আবাসিক এলাকায় নয়টি এবং মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় সাতটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল। তারপর আরও বেড়েছে ডজনখানেক। তাছাড়া নতুন সংযোগ-হাইভোল্টেজ বৈদ্যুতিক পাওয়ারের ইজিবাইক রিচার্জ পয়েন্টগুলো। এসব অপসারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরস্পর ঠেলাঠেলিকেই দায়ী করছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। কেডিএ সূত্র জানান, নগরীতে কেডিএ’র সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা প্রথম ও দ্বিতীয় ফেজ, খালিশপুর লো-কস্ট হাউজিং এলাকা, নিরালা এবং মুজগুন্নী এই পাঁচটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। নিয়ম না মেনেই এসব আবাসিক এলাকাগুলোতে গড়ে উঠছে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন ও কোচিং সেন্টার। আর আবাসিক বাড়িগুলো ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার দপ্তর, ব্যবসায়িক কার্যালয়, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা এমন ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সালে তাদের দপ্তর সরিয়ে নিতে নোটিশ দিয়েছিল কেডিএ। আবাসিক এলাকার অধিবাসীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাগুলোর বাসাবাড়ীতে হাইভোল্টেজ বৈদ্যুতিক পাওয়ারে ইজিবাইক রিচার্জ করা হচ্ছে। যাতে যেকোন সময়ে ঘটতে পারে অপূরণীয় দুর্ঘটনা। এদিকে, অনুমোদনহীনভাবে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ায় বেড়েছে যানজট, বায়ু ও শব্দদূষণ।
সার্বক্ষণিক বহিরাগতদের আনাগোনায় আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু সব কিছু জেনেও কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না পদক্ষেপ। কেডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে সরে যেতে নোটিশ দিয়েছিলাম। কিছু প্রতিষ্ঠান নোটিশের জবাবের সময় চেয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকেও এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল।’ অন্যদিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। তবে ওয়াসা, ওজোপাডিকো এবং বিটিসিএল তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। এদিকে কেডিএ ও কেসিসি ওইসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে আর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে বহাল তবিয়তে। কেডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্ল্যান পাস করার কাজ তাদের, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা নয়। অপর দিকে কেসিসির দাবি, ট্রেড লাইসেন্স বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কেডিএ’র জায়গায়, তাই উচ্ছেদের ব্যাপারে তারাই (কেডিএ) ব্যবস্থা নেবে। কেসিসি’র সিনিয়র লাইসেন্স কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান বলেন, তালিকা অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের নবায়ন বন্ধ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করবে কেডিএ। ওিজোপাডিকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিক উদ্দিন বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নিয়মনীতি মেনে ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ