মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভুয়া ডাক্তার, ভেজাল ওষুধ, ভেজাল খাবার, দুর্নীতি, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স থাকবে

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাসহ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক রোধের পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার ও স্বাস্থ্য সেবার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের সকলকে এসব বিষয়ে আন্তরিক ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ ঘাতকব্যাধি ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য ও ভুয়া-ভেজাল ওষুধের ব্যবসাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুয়া ডাক্তাররা ছোট-বড় ফার্মেসিতে বসে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এখন থেকে ভুয়া ডাক্তার, নকল ও ভুয়া ওষুধসহ ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান চলবে। সংশ্লি¬ষ্ট জেলা প্রশাসকগণকে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। সমাজ থেকে ভুয়া ডাক্তার, ভেজাল ওষুধ, ভেজাল খাবার, দুর্নীতি, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স থাকবে। কোন ধরনের ছাড় নেই ও এর কোন ব্যত্যয় ঘটবে না।
গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৃথকভাবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের সভা, বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, জেলা প্রশাসক সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস পৃথক সভাগুলোর আয়োজন করেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণের পর সড়ক পথে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার হ্রাস পেতে পারে। সড়ক পথ বাদ দিয়ে নৌপথে মাদক পাচার হতে পারে। আবার কোন কোন চক্র মাদক পাচারে নতুন রুট ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশি¬ষ্ট সকলকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে খুন, ছিনতাই, দস্যুতা, ইভটিজিং, রাহাজানি, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হবে। সামাজিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যা ও হত্যাকা-ের ঘটনা যাতে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুর্ঘটনারোধে চট্টগ্রাম, কুমিল¬া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীসহ অন্যান্য জেলা মহাসড়কে বিদ্যুৎ খেকো ও ব্যাটারিচালিত রিক্সাসহ থ্রি-হুইলারগুলোর ব্যবহার রোধ করতে সংশি¬ষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চোরাচালান নিরোধ কমিটির সভা ফলপ্রসূ হওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকগণেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেল যাতে পাচার না হয় সে বিষয়ে সীমান্তবর্তী জেলা প্রশাসকগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ফিলিং স্টেশনের মালিকদের সাথে এ ব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, মাদক রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে থাকবে জিরো টলারেন্স। অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালানরোধ, জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য গাড়ির চালক-হেলপার এককভাবে দায়ী নয়। সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এজন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কোন ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় চাঁদাবাজি করার চিত্র চোখে পড়লে কিংবা সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়লে তা উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) আমেনা বেগম বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভাল। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধ, যানজট নিরসনে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, বিজিবির চট্টগ্রামের রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম সিকদার, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) আমেনা বেগম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), তন্ময় দাস (নোয়াখালী), মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), আবুল ফজল মীর (কুমিল¬া), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), একেএম মামুনুর রশিদ (রাঙামাটি), মো. কামাল হোসেন (কক্সবাজার), মো. শহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), হায়াত উদ-দৌলা খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী (উপ-সচিব) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ, চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা।
বিগত সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জুবায়ের ও মোহাম্মদ জাকারিয়া। পৃথক সভাগুলোতে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ