বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফাল্গুনের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য আশির্বাদ হলেও আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি

খুলনা অফিস : কালবৈশাখী ঝড়ে মংলা বন্দরের পশুর নদীতে একটি ড্রেজার ডুবে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়াঘাট এলাকায় থাকা বাদল আনলোডিং নামের ড্রেজারটি প্রচ- ঝড়ে কাত হয়ে যায়। এ সময় ভেতরে পানি ঢুকে ড্রেজারটি ডুবে যায়। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ড্রেজার মালিক মো. মাসুম। ড্রেজার ডুবে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে ডুবে যাওয়া ড্রেজারটি উদ্ধারে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোন তৎপরতা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ রায়। ড্রেজারটি পশুর নদীর কূলের দিকে ডোবায় মূল চ্যানেল দিয়ে নৌ চলাচল ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা।

অপরদিকে খুলনায় বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে এ বৃষ্টিপাত। এরপর দুপুর ১২টার আবারো বৃষ্টিপাত শুরু হয় যা শেষ হয় আড়াইটায়। এরপর থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হয়। সারাদিন সূর্যের কোন দেখা পাওয়া যায়নি। ভোর থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও ৯টার দিকে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে। শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। সঙ্গে পড়েছে শিলও। ফাল্গুনের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য আর্শিবাদ হলেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে আমের মুকুল গাছের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও গাছপালার। 

এদিকে মাত্র এক ঘণ্টায় মহানগরীর রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলও থমকে গিয়ে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ব্যস্ততম রয়্যালের মোড়, শামসুর রহমান রোড, পিটিআই মোড়, শান্তিধামের মোড়ে বৃষ্টির পানিতে ভোগান্তিতে নগরবাসী। এমনিতেই বৃষ্টি, তার ওপর রাস্তায় পানি জমে থাকায় বেশ অসুবিধা হয়েছে অফিসগামী মানুষের।

একটু বৃষ্টি হলেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে খুলনা নগরী। স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় পানিবদ্ধতা। সকাল থেকে হালকা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ নগরী। আর নতুন সমস্যা যুক্ত হয়েছে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি। এভাবে চলতে থাকলে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে খুলনা নগরী।

খানজাহান আলী রোডের এক ব্যবসায়ী জানান, সকালের বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুপানি। বাইরে বেরুতে (বের হতে) পারছি না। ছেলে মেয়ের স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাগুলো উপরে উঠে পানিতে মিশে একাকার। এর পানি সরতে না সরতে সকাল থেকেই পানিবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে যানবাহনগুলোকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার বৃষ্টি ও পানি ঠেলেই ছুটছেন গন্তব্য। তবে এ ক্ষেত্রে তাদেরকে রিক্সায় কয়েকগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে।

দৌলতপুরের বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী ওয়েজুল হক বলেন, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি। বজ্রপাত তো আছেই। গোলকধাম থেকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ছোট বড় গর্তে পানি জমে চলাফেরায় ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। মশার উৎপাত আগে থেকেই ছিল বৃষ্টি যেন তাতে ঘি ঢেলে দিয়েছে। কর্মব্যস্ত শিল্প এলাকা দৌলতপুরের মানুষ বছর শুরুর বৃষ্টিতে ঘরে আটকা পড়েছে।

ইউনিভিশনের নির্বাহী ব্যবস্থাপক হেলাল হোসেন বলেন, পানিতে সয়লাব খুলনা শহরে ভোগান্তিতে শহরবাসী। তার উপর ওয়াসার খুঁড়ে রাখা গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী নাসির হোসেন বলেন, খোলা নর্দমার কারণে রাস্তার নোংরা পানি পার হয়েই অফিসের যেতে হচ্ছে। ভাড়াও গুনতে হচ্ছে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, হালকা শিলবৃষ্টিতে বোরো ধানের উপকার হবে। আমের মুকুলের সামান্য ক্ষতি হলে হতে পারে।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, কালবৈশাখী ঝড় আসবে এমন প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ছিলো ৫৬ কিলোমিটার। হালকা শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ