বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কুরআন বুঝার বিকল্প মাধ্যম ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা

খুলনা অফিস : সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের মাঝে কুরআনের শিক্ষা পৌছে দিতে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় বিশ্বের একমাত্র ব্যাতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা’। এটি পরিচালিত হয় সোস্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে। যে টি প্রতিষ্ঠা করেন এক তরুন যুবক ডা. হাফেজ মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ মানসুর। প্রতিযোগিতাটি মূলত পর্ব ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হয় যার প্রতিটি পর্বে থাকে ৪টি করে রাউন্ড। ১ম রাউন্ডে থাকে ২৫টি তাফসীর আর ২য় রাউন্ডে থাকে ২৫টি প্রশ্ন ৩য় রাউন্ডে থাকে একটি বিষয়ের উপর ২৫০০ শব্দের একটি আর্টিকেল এবং ৪র্থ পর্বে থাকে অডিও কুরআন তেলাওয়াত। প্রতিযোগিদের চার রাউন্ডের সবগুলো তাফসীর, প্রশ্নে, আর্টিকেল ও অডিও কুরআন তেলাওয়াতে অংশগ্রহণ করতে হয়। এভাবে দুই বছরে ৪টি পর্ব সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে ৫ম পর্ব। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কুরআন বুঝার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৩২টি জেলার প্রতিযোগীসহ সৌদি আরব, লন্ডন, আরব আমিরাত, কুয়েত, মালোয়েশীয়া, সাইপ্রাস, দক্ষিণ করিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০০০ (বিশ হাজার) মানুষ যুক্ত আছেন এই প্রতিযাগিতার সাথে। আর সরাসরি মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে প্রায় ১৫০ জন প্রতিযোগীর অধিক যাদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। এছাড়াও এখানে প্রতিযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বি মানুষেরাও। তার মধ্যে অন্যতম হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বি সৌকত রায় শৈশব (সিলেট) যার প্রতিযোগী রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ৪১। আর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বি প্রিন্স পোনুয়েল বিশ্বাস (ঢাকা) যার প্রতিযোগী নং ৬২। কেন কুরআন প্রতিযোগীতায় যুক্ত হলেন ? এমন প্রশ্ন করলে সৌকত রায় শৈশব বলেন, আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল কুরআন পড়বো তার মধ্যে কি আছে তা জানবো কিন্তু সুযোগ হয়নি। সে সুযোগ করে দেয় ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগীতা। খুবই ভাল লাগছে। তিনি বলেন, আসলে সকল ধর্মগ্রন্থই জানা দরকার তাহলে এক ধর্মের প্রতি অন্য ধর্মের প্রতি ভুল ধারনা ভেঙে যাবে এবং সঠিক পথ কোনটা তা জানা সহজ হবে। তিনি ২য় পর্ব থেকে এখানে যুক্ত হয়েছেন ৪র্থ পর্বে পেয়েছেন বিশেষ পুরষ্কারও।

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বি প্রিন্স পোনুয়েল বিশ্বাস বলেন, খুবই ভাল লাগছে যে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কুরআন জানতে পারছি। আমি সকল ধর্মকেই শ্রদ্ধা করি আর সেজন্যই এ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে কুরআনের তাফসীর পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এর চেয়ারম্যানকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বে নাম্বারের উপর ভিত্তি করে ১ম, ২য, ৩য় সহ বিশেষ ও সান্তনা পুরষ্কার দেওয়া হয়। সেই সাথে নির্ধারণ করা হয় প্রতিমাসে একজন করে চ্যাম্পিয়ন। পুরষ্কার হিসেবে থাকে ক্রেস্ট, সনদ, কুরআন-হাদিস, ইসলামী সাহিত্য ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরষ্কার। শুধী শুভাকাঙ্খিদের আর্থিক সহযোগীতা ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের নিজস্ব আয়ের একটি অংশ দিয়ে এই পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা হয় ।

এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বের ১ম বিজয়ী ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মামুন পল্লাবন বলেন, মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এজন্য যে তিনি আমাদেরকে আল কুরআনের একটি অনলাইন ভিত্তিক ফ্লাটফরমে জড়ো হবার সুযোগ দিয়েছেন। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মুহতারাম হাফেজ ডা. সাইফুল্লাহ মানছুরকে যিনি এ অবিস্মরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কম্পিটার সভ্যতার এ যুগে ইন্টারনেট ভিত্তিক ফেসবুক, টুইটার সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শক্তিশালী মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে। আজ হাতে হাতে স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট। বিশ্বের প্রায় ৪০% মানুষ নেটে কানেক্টেড আছেন। মানুষ সারাদিন ব্রাউজিং, ফেসবুক ট্যপিং করে সময় নষ্ট করছেন। এমনি এক সময় আমার নজরে পড়লো ‘ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগীতা।’ আমি জয়েন করে তাফসিরটি পড়লাম। যা বুঝলাম তা লিখলাম। পেশায় আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। জীবনে সে ভাবে কুরআন হাদীস পড়ার সুযোগ পাইনি। অথচ আল কুরআন অধ্যয়ন মানুষের সারা জীবনের বাধ্যতামূলক বিষয়। সেই কুরআন অধ্যয়নে আমার জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ। আমি কাজের ফাঁকে, অবসরে আল কুরআন অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছি। যা আগে পড়ার সুযোগ হয়ে উঠতো না। 

কুরআন প্রতিযোগিতার উপদেষ্টা সৌদী মুবাল্লিগ, খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মুনাওয়ার হোসাইন আল মাদানী বলেন, আমার বিশ্বার বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে একটি মাইল ফলকের ভূমিকা পালন করছে। যুব সমাজকে কুরআনের দিকে আকৃষ্ট করার এক বিরাট মাধ্যম এটি। আমি এর উত্তরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।

প্রতিযোগিতা সার্বিক বিষয়ে এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তরুণ উদ্যোগতা ডা. হাফেজ মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ মানসুর বলেন, আজ তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের কারনে আমাদের কল্যাণ যেমন হচ্ছে ঠিক তেমনি এর অপব্যবহার, নোংরা অপসাংস্কৃতি এবং পশ্চিমা নীল সাংস্কৃতির ফলে তরুন যুব সমাজের নৈতিক চরিত্র তার চেয়ে বেশি ধ্বংশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যারা প্রযুক্তিতে বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়া কেন্দ্রীক ঘন্টার পর ঘন্টা অযথা সময় নষ্ট করছে তাদের কে টার্গেট করেই মূলত এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। যেহেতু বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ মানুষ এই প্রযুক্তির সাথে যুক্ত সেহেতু তাদের মাঝেও কুরআনের দাওয়াত পৌছানো এখন ঈমানের দাবি। সেই ঈমানের দাবীতেই এ প্রতিযোগীতার আয়োজন। সমাজ যেন চরিত্র ধ্বংসের বিপরীতে কুরআনের শিক্ষা পেয়ে নিজের জীবনকে গড়তে পারে এবং একজন আদর্শ নাগরীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে তার একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আর এটি সৃজনশীল পদ্ধতির প্রতিযোগীতা হওয়ার কারণে এখানে কুরআন বুঝাটা খুবই সহজ। শুধু কুরআন বুঝাই শেষ না, এখানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলে একজন আদর্শ মানুষের তৈরির পাশাপশি ভাল মানের লেখক তৈরী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজয়ীদের জন্য আমরা যদি মান সম্মত উপহার ঘোষণা করতে পারি এবং পুরষ্কারের মান ও সংখ্যা যদি আরো বাড়াতে পারি তাহলে আমার বিশ্বাস লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এ প্রতিযোগীতার দিকে আকৃষ্ট হবে এবং কুরআনের ছায়াতলে আশ্রয়ই নিবে ইনশাআল্লাহ। সমাজের বিত্তবাণ কুরআন প্রেমিক, সচেতন নাগরীকরা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এ আয়োজনের পাশে এসে দাড়াই তাহলে আমার বিশ্বাস, অচিরেই এ প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিক একটি প্রতিযোগীতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদেও সকলকে কবুল করুন। আমিন। যোগাযোগের ঠিকানা-হেড অফিসঃ ৩২,শামসুর রহমান রোড, শান্তিধাম মোড়, খুলনা মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭২৭-৩৩১৩৮৬ ঢাকা অফিসঃ ২২৩/এ তেজকুনি পাড়া, তেজগাও, ঢাকা মোবাইল নাম্বার: ০১৭৯৪-৩৪১৬৮৫। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ