বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

টি-টোয়েন্টি লিগে সবার আগে শেষ চারে শাইনপুকুর

স্পোর্টস রিপোর্টার : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শাইনপুকুর। প্রথম দিনে জয় দিয়ে শুরু করা শাইনপুকুর গতকালও জয় পেয়েছে। আর টানা দুই জয়ে সেমিফাইল নিশ্চিত করেছে দলটি। গতকাল শাইনপুকুর ২২ রানে হারায় মোহামেডানকে। বিজয়ী দলের পক্ষে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন শুভাগত হোম। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১৬ বলে পঞ্চাশ রান করেন শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের এই ব্যাটসম্যান। তিনি ভেঙেছেন মুমিনুল হকের ১৯ বলে ফিফটির রেকর্ডকে। তার এই দুর্দান্ত ইনিংসে মোহামেডানকে ১৯৩ রানের টার্গেট দেয় শাইনপুকুর এবং ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ২২ রানে। গ্রুপের দুটি ম্যাচই জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৯২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল শাইনপুকুর। জবাবে ৯ উইকেটে ১৭০ রানেই থামে মোহামেডানের ইনিংস। শাইনপুকুরের এমন সহজ জয়ের নায়ক শুভাগতহোম চৌধুরী। প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টিতে রীতিমত আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইলদের মতো তাণ্ডব চালাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আগের ম্যাচে করেছিলেন ১০ বলে ৩২ রান। এবার শুভাগত খেললেন ২২ বলে ৫৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। হার না মানা এই ইনিংসে ৪টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। ১৬ বলে ফিফটি করে গড়েছেন বাংলাদেশী কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও। শুভাগতর বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে তৌহিদ হৃদয়ও তুলেন ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়। এছাড়া ২১ বলে ২৫ রান করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। জবাবে ওপেনার আবদুল মজিদের ২০ বলে ৩৩ আর সাত নাম্বারে নামা ইরফান শুক্কুরের ২৯ বলে ৫২ রানের ইনিংসের পরও জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি মোহামেডান। মোহাম্মদ আশরাফুল খেলতে পারেননি টি-টোয়েন্টি স্টাইলে, ২০ বলে ২ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ২১ রান। শাইনপুকুরের সোহরাওয়ার্দি শুভ, সুজন হাওলাদার আর হামিদুল ইসলাম নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ম্যাচের ১৬তম ওভারে ক্রিজে নামেন শুভাগত। ওই ওভারের শেষ বলে নিহাদুজ্জামানকে চার মারেন। শুরু হয় তার বিস্ফোরক ব্যাটিং। পরের ওভারে আলাউদ্দিন বাবুর বলে মারেন একটি করে চার ও ছয়। এরপর কাজী অনিককে হতাশায় ভাসিয়ে তিনটি বিশাল ছয় মারেন শুভাগত। ইনিংসের শেষ ওভারে মোহামেডানের এই বোলারের ওপর আবারও চড়াও হন তিনি। চতুর্থ বলে লং অনে ছয় মেরে রেকর্ড নিজের করে নেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১৮ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছয়ে শুভাগত ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শুভাগত। আগের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে মাত্র ১০ বলে ৩ ছয়ে ৩২ রান করেন তিনি।  বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আগের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন মুমিনুল ‘এ’ দলের হয়ে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরে জাতীয় দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন তিনি। শুভাগতর ঝড়ো ৫৮ রানের ইনিংসের সঙ্গে তৌহিদ হৃদয়ের ৪১ বলে ৬৬ রানের কল্যাণে শাইনপুকুর করে ৪ উইকেটে ১৯২ রান। ফলে টানা দুটি ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্টে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন শাইনপুকুর।

দুই রনিতে গাজীর জয়

ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজী গ্রুপ ২ রানে হারায় বিকেএসপিকে। দলের পক্ষে ব্যাট হাতে রনি তালুকদার তাণ্ডব চালায়। যাতে ভর দিয়ে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৩ রানের পাহড় গড়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এরপর বল হাতে আক্রমণ শানান আরেক রনি। তিনি আবু হায়দার রনি। ফলে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান পর্যন্ত করতে পারে বিকেএসপি। আর দুই রনির এমন কীর্তিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ডিভিশন টি-টুয়েন্টি লিগের ম্যাচটি ২৭ রানে জিতে নিয়েছে গাজী গ্রুপ। গতকাল দিনটা শুরুই হয়েছে বৃষ্টির মধ্য দিয়ে। যার ফলে ডিপিএলের এই ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ১০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বিকেএসপির অধিনায়ক আবদুল কাইয়ুম। মেঘের আধিপত্যে আকাশে সূর্য না হাসলেও হেসেছে গাজী গ্রুপের দুই ওনোরের ব্যাট। রনি তালুকদার ও ওয়ালি করিমের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারেই আসে ৬২ রান। এরপর অবশ্য ব্যক্তিগত ২৫ রান আউট হয়ে যান ওয়ালি করিম। ১৮ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক শামসুর রহমান (১) অবশ্য ফিরে যান দ্রুতই। এরপর রনির সাথে যোগ দেন সাজ্জাদুল হক। তিনিও মারমুখী খেলতে থাকেন। এই ফাঁকে আউট হয়ে যান রনি। ১৬ বলে ৪১ রানের এক তাণ্ডব চালান তিনি। মেরেছেন ৪টি ছক্কা ও ২টি চার। অপরপ্রান্তে সাজ্জাদও কম যাননি। ৮ বল খেলে তুলে নিয়েছেন ২০ রান। এছাড়া মিশুকুর রহমান ১১ বলে অপরাজিত ১৯* ও তৌহিদ তারেক ৬ বলে অপরাজিত ১১* রান করেন। জবাবে বিকেএসপি ব্যাট করতে নামলে বল হাতে আবু হায়দার রনি আসেন দৃশ্য পটে। প্রথম ওভারেই তুলে নেন বিকেএসপির ওপেনার ফাহাদ আহমেদকে (০)। পরের ওভারে বল করতে এসে আউট করেন তিন নম্বরে নামা শামিম হোসেনকে (৪)। মোট দুই ওভার বল করে ২ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন তিনি। আর তাতেই পিছিয়ে পড়ে বিকেএসপি। এরপর অবশ্য আমিনুল ইসলাম ও আকবর আলী প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু আমিনুলের ২৪ বলে অপরাজিত ৩৪* ও আকবরের ২০ বলে ৪৩ রানের তাণ্ডব সত্ত্বেও জয় থেকে ২৭ রান দূরে থেকে যায় বিকেএসপির ইনিংস। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন রনি তালুকদার।

জয়ে শুরু করল উত্তরা স্পোর্টিং

জয় দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে যাত্রা শুরু করেছে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলে  উত্তরার জয়ের নায়ক তানজিদ হাসান। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী  স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ১৭ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৫ রানে মধ্যে তিন উইকেট হারায় খেলাঘর। এরপর রাফসান ও মুমিনুল ইসলাম পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন। রাফসান ২৮ ও মুমিনুল ২০ রান করে আউট হন। উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ তোলে খেলাঘর।  বল হাতে ২ ওভারে মাত্র ৫ রান খরচে ২ উইকেট তুলে নেন উত্তরার সাজ্জাদ হোসেন। সমান ওভারে মাত্র ৬ রান খরচে ১ উইকেট নেন নাইমুল ইসলাম। এছাড়া ২ উইকেট নেন আব্দুর রশিদ আর ১টি করে উইকেট যায় নাহিদ হাসান ও মোহাইমিনুল খানের ঝুলিতে। ১১০ রানে টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। তবে চতুর্থ উইকেটে তানজিদ ও মিনহাজ সেই ধাক্কা সামাল দেন। ৮৩ রানে জুটি গড়ে ম্যাচটিকে হাতের নাগালে নিয়ে আসেন তারা। তবে তানজিদ বেশি মারমুখী ছিলেন।  দলীয় ১০৫ রানে মিনহাজ ২৮ রান করে আউট হন। তবে তানজিদের ৫৭ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেন ৫ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকানো তানজিদ। বল হাতে ৪ ওভারে ২৩ রান খরচে ৩ উইকেট নেন খেলাঘরের রবিউল হক। বাকি উইকেটটি নেন ইরফান হোসাইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ