শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

খণ্ডিত মানুষদের প্রতাপে বাড়ছে সংকট

রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা আগে গণ-বিস্ফোরণের কথা শুনেছি। এখন শোনা যাচ্ছে বোমা-বিস্ফোরণ, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আরডিএক্সসহ নানাবিধ বিস্ফোরণের কথা। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ কাউকে মনের কথা জানাতে এখন আর কলম-কাগজের আশ্রয় নেন না, স্মার্টফোনেই লেখা ও বলার কাজ সেরে নেওয়া যায়। অর্থাৎ মননের বদলে মস্তিষ্ক তথা বুদ্ধির চর্চাটাই এখন হয় বেশি। মানুষে-মানুষে, সমাজে-সমাজে, রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিংবা মত পার্থক্যের বিষয়ে সুরাহায় এখন উচ্চতর দার্শনিক মূল্যবোধ কিংবা যৌক্তিক বিবেচনার চর্চা হয় না; চর্চা হয় অপকৌশল ও মারণাস্ত্রের। কারণ বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এই যুগে মস্তিষ্কের চর্চাটাই বেশি হচ্ছে। হৃদয় বা আত্মার আহ্বান শুনতে আমরা এখন অভ্যস্ত নই। ফলে বর্তমান সভ্যতার চলতি হাওয়ায় সরব অসংখ্য খণ্ডিত মানসিকতার মানুষ, পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেখা মেলা ভার। খণ্ডিত মানুষের সিদ্ধান্তে এখন মানুষের সুখ বাড়ে না, বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অসুখ বাড়ে। না চাইলেও এমন বাস্তবতাই এখন আমাদের ঘিরে রেখেছে।
খণ্ডিত মানুষদের চিন্তা-ভাবনা, সিদ্ধান্ত ও কর্ম সুসম ও ন্যায়ানুগ হয়না। ফলে তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণপ্রদ বলে বিবেচিত হতে পারে না। দেশ-বিদেশের ঘটনা প্রবাহে আমরা তেমন চিত্রই লক্ষ্য করছি। তেমন একটি ঘটনার নাম এনআরসি তথা জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন। ভারতের আসাম রাজ্যে এনআরসির বিরুদ্ধে গণ-বিস্ফোরণের পর এখন আবার পাশের রাজ্য অরুণাচল অশান্ত হয়ে উঠেছে কিছু খণ্ডিত মানুষের পিআরসি (স্থায়ীভাবে বসবাসের সনদ) নিয়ে। এর জেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাংলোয় আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া জেলা প্রশাসকের দপ্তর ও রাজ্য সরকারের বনমন্ত্রীর মালিকানাধীন বিপনিবিতানে আগুন দেওয়া হয়েছে। গুলি ও সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন চারজন। অরুণাচল রাজ্য সরকার রাজধানী ইটানগর ও এর আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। সড়কে নেমেছে সেনাবাহিনী।
অবশ্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় পেমা খান্ডুর সরকার পিছু হটেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পিআরসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বলেন, রাজ্যবাসীর আবেগকে মর্যাদা দিয়ে বিধানসভার চলতি অধিবেশনে পিআরসির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্ষমতা ও ভোটের স্বার্থে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খণ্ডিত মানসিকতার কখনো নাগরিক নিবন্ধন, কখনো বসবাস সনদ নিয়ে রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছেন। এ খেলার পরিণতি কেমন হবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ