শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কোন্ গণতন্ত্রের পথে দেশ

এম. কে. দোলন বিশ্বাস : ‘ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।’ বহুল আকাক্সিক্ষত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের এমন মধুর স্লোগান আওয়ামীবাদী ক্ষমতাসীন মহাজোট চারিদিকে চাউর করলেও ভোটের ‘খাস খবর’ ঘোমরে মরছে বিবেকের কাঠগড়ায়। বিশেষ করে যারা ভোটগ্রহণে নিয়োজিত ছিলেন, তারা খুব ভালোভাবেই জানেন কী রূপে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে আশঙ্কার বাণী হচ্ছে, ‘জানলেও সব বলা যাবে না। দেখেও সব দেখা যাবে না। তথ্যপ্রমাণ থাকলেও সব লেখা যাবে।’ কারণ একটাই ‘বিবেক’ বন্ধী। ডিজিটাল আইন নামক বেড়ি তো আছেই।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপির অসংখ্য অভিযোগ করছেন নির্বাচনে অংশ নেয়া সরকার বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ খোদ ভোটাররা। যদিও ক্ষমতাসীনরা বলছেন, এসব প্রশ্ন ওঠার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু নির্বাচনের পর ব্রিটেনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে? দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা ভোটের আগের রাতেই বাক্স-ভর্তি করে রাখা, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা এবং কেন্দ্র জবরদখল করা।
২০১৪ সালে একতরফা বিনা ভোটে ‘বিতর্কিত’ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ আরেকটি বেশি ভোটে ‘অস্তি’ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অর্জন করলো বাংলাদেশ। দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা ভোটে ১৫৪ জন গণতন্ত্রের ক্লাবে প্রবেশ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর একাদশ সংসদের সদস্যদের ‘বেশি ভোট’ পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার আরেক দফা নয়া কিসিমের নির্বাচন দেখল ডিজিটাল বাংলাদেশ। এ নির্বাচনে অস্বাভাবিক হারে বেশি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সারা বিশে^ রেকর্ড অর্জন করেছে আওয়ামীবাদী নৌকার যাত্রীরা।
এবারের নির্বাচনে যে চিত্র দেখা গেছে, সেটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এমনটাই মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নিবার্হী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পর্যাপ্ত পেয়েছে এটা বলা যাবে না। এ প্রশ্নটা থেকেই যাবে সবসময় যে, সত্যিকার অর্থে এটা কতটা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। যদি এ ধরনের নির্বাচনটা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে বড় দুঃসংবাদ আর কিছু হতে পারে না।’
বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ৫০টি আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর এক পরিবীক্ষণের ফলাফলে ৪৭টিতেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে টিআইবি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্দলীয় সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে পরাজিত দল বরাবরই অভিযোগ তুললেও সাধারণভাবে সেসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল সবার কাছে। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে কি না, এমন প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে। সর্বশেষ নির্বাচনের পর এ প্রশ্ন আরো জোরালো রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম সমালোচনা করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে সিএনএন এ নির্বাচনকে ‘বিতকির্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিপজ্জনক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। ‘বাংলাদেশ কি গণতন্ত্র থেকে ছিটকে পড়ছে?’ এমন প্রশ্নবোধক শিরোনামে বিবিসি সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করে ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন কোনো দেশের গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। এ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘টেস্ট কেস’ ছিল। কারণ গত ২৭ বছরের মধ্যে এবারই ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অধীনে ভালো নির্বাচন হতে পারে, এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
যদিও নির্বাচনের পর ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপ এবং আমেরিকা ততোটা সমালোচনা করেনি, যতোটা আশঙ্কা করা হয়েছিল। এ নির্বাচনের ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কীভাবে দেখা হবে? এমন প্রশ্ন এখন সামনে। এমন প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ গণমাধ্যমে জানিয়েছেন,  ‘গ্লোবাল ইমেজটা দুইভাবে নির্ধারিত হয়। একটা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সিভিল সোসাইটি কিভাবে ইমেজটা নিধার্রণ করছে, আরেকটি হচ্ছে সরকারগুলো কিভাবে দেখছে। গ্লোবাল সিভিল সোসাইটির কাছে নির্বাচন নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ।’ তবে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচনের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার অবকাশ নেই। এমনকি ক্ষমতাসীনরা তাদের নিজেদের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে চাউর করা হচ্ছে, ‘এটা অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে একটি অভিনব বিষয় হলো ভোট জালিয়াতি করতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ক্ষমতাসীনদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ অভিযোগ বেশ জোরালো। টিআইবি’র নিবার্হী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে জানান, ‘এ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চর্চায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় অনেক অনৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া, সে প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়মের সাথে জড়িত থেকেছে। এটা কোনো দেশের গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।’
অতীতে বিভিন্ন সময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও বাংলাদেশ যে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হয়েছে সেটি বলার খুব একটা সুযোগ নেই। কারণ সবসময়ই ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য গণতন্ত্রের ধারাকে শক্তিশালী হতে দেয়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই পূরণ করতে পারল না বাংলাদেশ।
আমরা মনে করি, সর্বশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ার দশা হয়েছে। ফলে গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই পূরণ করতে পারছে না আওয়ামীবাদী স্লোগান কম্পিত এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ। বলাবাহুল্য যে, ‘নির্বাচনের বদলে এখানে কাযর্ত হয়েছে সিলেকশন।’ এটা গণতন্ত্রের জন্য শুধু ক্ষতিকর নয়। বরং খুবই লজ্জাজনকও বটে।
মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাই যদি গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় হয়। এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করার জায়গাটি ক্রমশ যোজন যোজন দূরে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে কার্যকরী গণতন্ত্র আছে কি না, এ নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যমে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে, ‘বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদ- পর্যন্ত মানা হচ্ছে না। সবের্শষ নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে ‘গণতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। তারা বাংলাদেশকে ‘হাইব্রিড রেজিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাইব্রিড রেজিমের কিছু বৈশিষ্ট্য তারা তুলে ধরেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. নির্বাচনে বেশ অনিয়মের ঘটনা ঘটে। ২. বিরোধী দল এবং প্রার্থীর ওপরে সরকারি চাপ খুবই সাধারণ ঘটনা। ৩. দুর্নীতির বিস্তার প্রায় সর্বত্র। ৪. আইনের শাসন খুবই দুর্বল। ৫. দুর্বল সিভিল সোসাইটি। ৬. গণমাধ্যমকর্মীরা হয়রানির শিকার ও চাপের মুখে জিম্মি। ৭. বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয়। (তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা-যায়যায়দিন- ১৯.০১.২০১৯) 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘অবশ্যই সঠিক’ ছিল না বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মতে, সেই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না। তাই ইতিবাচক সমাধান পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশীজনদের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সংস্থাটি। জাতিসংঘ সদর দফতরে গত ১৮ জানুয়ারি নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস একথা বলেন। বাংলাদেশী এক সাংবাদিক জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের কাছে প্রশ্ন করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। আর বিরোধীরা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন কি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বাগত জানায়নি। বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৭টি সংগঠনকে অনুমোদন  দেয়নি। তাই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? আপনি কি সার্বিক বিষয় তদন্ত করতে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায়  কোনো দূত বা বিশেষ কোনো টিমকে পাঠাচ্ছেন? : জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে তার মুখপাত্র বলেন, ম্যান্ডেট ছাড়া এ রকম তদন্ত করার অধিকার জাতিসংঘের নেই। তবে অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না। তাই আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন  ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ একটি সংলাপের জন্য উৎসাহিত করি, যাতে যতোটা সম্ভব বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক শৃঙ্খলা আনা যায়।
অপর দিকে টিআইবি  নির্বাচন পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০টি আসনে মধ্যে ৪৭টিতেই কোন না কোন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২টি আসনের একাধিক কেন্দ্রে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিলো নীরব। ৪১টি আসনে জাল ভোট দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগের রাতে সিল মেরে রাখা হয় ৩৩ আসনে। বুথদখল ও জালভোট পড়ে ৩০ আসনে। পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয় ২৯ আসনে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয় ২৬ আসনের। ভোট শেষ হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায় ২২টি আসনের একাধিক কেন্দ্রে। এ সব অনিয়মের ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করেছেন টিআইবি। (তথ্যসূত্র : দিনকাল- ২০.০১.১৯)। তবে টিআইবির প্রতিবেদন নাকোচ করে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে মর্মে দাবি ক্ষমতাসীনদের।
নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন- এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যজনক। তারা সুষ্ঠু পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটকে বিজয়ী করেছে। এ বিজয় আওয়ামী লীগের একার নয়, এ বিজয় গোটা দেশবাসীর। তিনি বলেন- বিশাল বিজয়ের কারণে দেশবাসীর প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, জনগণের জন্য কাজ করে সেই বিজয় রাখা কঠিন, সেই কঠিন কাজটি আমাদের করতে হবে। আমরা এই দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো।
আমরা বলতে চাই, কে কি বললো সেটা বড় কথা নয়। নির্বাচনের মান কতোটা ভালো সেটির ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। ‘যখন আমাদের এক-এগারো সরকার এলো তখন আমাদের ওরা আর ডেমোক্রেসির ভেতরে ধরেনি।
আবার ২০০৮-এর নির্বাচনের পরে আমরা ঢুকে ছিলাম। তারপরে আবার ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং এবারের নির্বাচন এমন হয়েছে যে তখন আমরা আবার প্রশ্নের সামনে পড়ছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত একটা ক্রেডিবল ইলেকশন করতে না পারবো, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমরা আবার ডেমোক্রেসির ক্লাবের মধ্যে ঢুকতে পারবো না।’
এখন নিশ্চিন্তে বলা যায়, প্রথমে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দ্বিতীয়তে উপজেলা, তৃতীয়তে সিটি, চতুর্থ ইউপি, পঞ্চমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর গণতন্ত্র থেকে ছিটকে পড়ে আওয়ামী নয়া কিসিমের গণতন্ত্রের পথে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে আওয়ামী স্লোগানে উন্নয়ন মুখরিত ডিজিটাল তথ্য এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ।
আশার কথা কথা হচ্ছে, গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব নয়। বরং সদিচ্ছা থাকলেই সব সম্ভব। এমন নয় যে গণতন্ত একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে দাঁড়ানোর অহরহ উদাহরণ আছে। এ প্রসঙ্গে উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের সমস্যা কাটিয়ে দেশটিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়েছে। এখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসাই হবে সব পক্ষের ‘সঠিক’ কাজ।
লেখক : দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক,
dulonbiswas@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ