রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

স্বদেশের প্রেরণায়

মোর্সেদা সম্পা : দেশপ্রেম মানুষের ভিতর একটি স্বভাবজাত গুনাবলী। আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সমগ্র  সৎগুনাবলী বিরাজমান তন্মধ্যে দেশপ্রেম অন্যতম। স্বদেশপ্রেম যা নিজ জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসার স্পৃহা জন্ম নেয়।মানুষ মাত্রই তার পরিবার-পরিজন-আত্মীয়স্বজন সর্বোপরি জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অন্যদেশে অবস্থান করলেও নিজ দেশের প্রতি মায়া - মমতা কোনক্রেমেই ভুলতে পারে না।মাতৃভূমি এবং নিজ জন্মভূমির প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকে দুর্নিবার।
সায়্যেদুল মুরসালিন (সা.) তার জন্মভূমি মক্কা - পবিত্র ভূমিকে তিনি অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন।স্বদেশের জনগনকে শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্মবাণী সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানিয়ে তাদের হেদায়াতের জন্যে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছিলেন।
৬১৫ খ্রিঃ রাসূল (সা.)  কাফেরদের  নির্মম অত্যাচার অবস্থান থেকে তার সাহাবীদের আবিসিনিয়া হিযরত তথা দেশত্যাগের অনুমতি দিলেও তিনি তার স্বদেশে অবস্থান করেন।একপর্যায়ে কাফেরদের চক্রান্ত্র- ষড়যন্ত্র - ও নির্মম নির্যাতনে স্বজাতি কর্তৃক বিতাড়িত অবস্থায় আল্লাহতায়ালার নির্দেশে রাসূলে কারিম। (সা.) তার প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করেছিলেন।
৬২২ খ্রিঃ মদিনায় হিযরতকালে তিনি মক্কার দিকে বারবার ফিরে কাতর কন্ঠে আফসোস করে বলছিলেন,“ হে আমার স্বদেশ!  তুমি কতইনা সুন্দর। আমি তোমাকে ভালোবাসি,আমার আপন গোত্রের লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র  না করত,আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতাম না। -(তিরমিযি-৩৯২৬)
স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা : ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে সেই সঙ্গে অপর মুসলিম দেশের প্রতিও হীতাকান্ড থাকা প্রয়োজন। নিজ দেশের মুসলিম ভাইদের আপন মনে করা এবং অমুসলিম নাগরিকেদের ও হক্ক আদায় করা।ভ্রাতৃত্ববোধ দেশের ভেতরে যেমন দেশের বাইরেও তেমন সব মুসলমানদের প্রতি সহানূভুতি থাকা।
আফসোস, যেদিন থেকে মুসলিম উম্মাহরা নিজেদের ভৌগোলিক পরিচয়কে আসল পরিচয় মনে করতে শুরু করছে সেদিন থেকে এ জাতির উপর দুর্ভোগ নেমে আসছে। আজ আমরা ভৌগোলিক অবস্থানে ভংকুর হয়ে পড়ে আছি,অথচ পার্শ¦বর্তী রাজ্যের মুসলিম জাতির উপর নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হলেও আমরা“ সে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে দায়মুক্ত থাকার চেষ্টা করছি।”
অথচ হাদীসে এসেছে, সব মুসলিম এক শরীরের ন্যায়, একটি অঙ্গ আক্রান্র হলে অন্য সকল অংশ তার ব্যথা অনূভূত হয়।
নবী কারিম (সা.) বিদায়ে হজ্জের ভাষনে বলেছিলেন, হে লোক সকল! জেনে রেখো তোমাদের প্রতিপালক একজন তোমাদের পিতা একজন, জেনে রেখো অনারবদের উপর আরবের, আরবের উপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার উপর কালোর, কালোর উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তবে তাকওয়ার ভিত্তিতে একজন আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্য লাভ করতে পারবে। -(মুসনাদে আহমদ)
মাতৃভূমিকে ভালোবাসা,  মানসম্মানসহ সম্পদ রক্ষাসহ এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের ঈমানের দাবী।
রাসূল (সা.) মক্কার পাহাড়ে বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, হে মক্কা আমি তোমাকে ভালোবাসি। রাসূল (সা.)  এমন আচরন থেকে মাতৃভূমির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি প্রতীয়মান হয়।
দেশরক্ষায় সদা প্রস্তুুত : দেশ রক্ষা কল্পে সদা প্রস্তুুত থাকা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনা।একজন দেশপ্রেমির নিকট স্বদেশ তথা মাতৃভূমি সর্বাদিক মূল্যবান বস্তুু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজ জীবনকে বিসর্জন দিতে কুন্ঠাবোধ করে না। এ ক্ষেত্রে আমরা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদগণসহ অনেক সেনা সদস্যের কথা স্মরণ করতে পারি যারা দেশকে শত্রু মুক্ত করার  লক্ষ্যে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।
 আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগন! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।” (সূরা আল মায়েদা - ১)
“অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে”।
দেশপ্রেমি শাসকদের কর্তব্য : দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে  প্রত্যেককেই প্রচেষ্টা চালানো অতি জরুরি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একজন নেতার বিশেষ ভূমিকা রাখা একান্তই দায়িত্ব।
আল কুরআনে বর্নিত: তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি সামর্থ দান করলে তারা নামায কায়েম করবে,যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিশেদ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিমান আল্লাহর এখতিয়ার ভুক্ত। (সূরা হজ্জ্ব)
আল্লাহ তায়ালা একজন দেশপ্রেমিক শাসকের জন্যে প্রধান চারটি কাজ নির্ধারন করে দিয়েছেন।
# সালাত কায়েম
# যাকাত আদায়
# সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান।
# অন্যায়-অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা।
সর্বোপরি দেশের কোন শাসক যদি আল্লাহর নির্ধারিত এই চার কর্মসূচী আন্জাম দিতে না পারে তাহলে তাকে কখনো সত্যিকার দেশপ্রেমিক শাসক বলা যায় না।
তাই মহান রবের দরবারে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেনো আমাদের সার্বভৌমত্ব দেশের মাটি থেকে সকল  অন্যায় - অত্যাচার, যুলুম, সন্ত্রাস-দুর্নীতি, দেশের স্বার্থ বিরোধী অপশক্তির মূলোৎপাটন করে, একমূখী শাসন-শোষণ  থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বি স্বদেশ  গঠনের তাওফিক দান করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ