রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মেলায় আমাদের নতুন বই

রহিমা আক্তার মৌ : ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের অস্তিত্ব, ফেব্রুয়ারি মানেই মায়ের ভাষা, ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের মুখের বুলি অ আ ই ঈ। বছর জুড়ে নতুন বই প্রকাশ পেলেও অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত প্রায় সব বই । বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি নতুনদের বইয়ের প্রচার হয় কম। অধিকাংশ পত্রিকা প্রবীণ ও সিনিয়ারদের বইয়ের আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত। কিছুটা তেল্যার মাথায় তেল দেয়ার মতো। তাই চেষ্টা করছি নবীন প্রবীণ সিনিয়ার জুনিয়ার ব্যক্তিদের নতুন বই নিয়ে কিছু লিখতে। মেলায় ঘুরেছি ৮ ফেব্রুয়ারি, হতাশা নিয়ে ফিরেছি। সেসব না হয় পরেই লিখি। প্রাতিষ্ঠানিক + প্রকাশক + লেখক + পাঠকের এই মিলনমেলা সেই ৫/৬ বছর আগেই ভালো ছিলো। এখন জায়গার পরিধি বেড়েছে, প্রকাশনী বেড়েছে, লেখক বেড়েছে। আসলে লোকসংখ্যা বেড়েছে বলেই লেখক বেড়েছে, লেখক বেড়েছে বলেই সব বেড়েছে। কিন্তু পাঠক বেড়েছে কতখানি তাই দেখার বিষয়, যারা বই কিনছেন তারা কি বই পড়ার জন্যেই কিনেছেন। যারা কিনেছেন তারা কি আনন্দে কিনছেন নাকি বাধ্য হয়েই কিনছেন। থাক সেসব পরের ইতিহাস হয়ে। মেলায় যাদের বই আসছে তাদের কয়েকজনের বই নিয়ে কিছু কথা-
অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ রহিমা আক্তার মৌ এর কয়েকটি বই আসছে। অনুগল্পের বই ‘অল্প স্বল্প গল্প’,  শিশুতোষ গল্পের বই ‘প্রিয়ন্তির সারাবেলা’ এই বই দুইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, প্রচ্ছদ করেছেন মৌমিতা কর মৌ। ‘বেলা শেষের গদ্য’ বইটি ১৪টি গল্পকে একমলাটে পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছে  ঊষার দুয়ার প্রকাশনি, প্রচ্ছদ করেছেন রাজিব চৌধুরী। শিশুতোষ গল্পের বই ‘গল্পগুলো তুলতুলির’ বইটি প্রকাশ করেছে দাঁড়িকমা প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন ফকির আল মামুন। দ্বীপজ পাবলিকেশন্স থেকে ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’ নামে দুইটি চিঠির বই সম্পাদনা করেছি আমি। বই দুটিতে রয়েছে ৮৫টি চিঠি। নিজের বই নিয়ে রহিমা আক্তার মৌ বলেন, ‘বই প্রকাশ করব বলে লেখালেখি শুরু করিনি। দৈনিক পত্রিকায় লিখব বলেই লেখা শুরু। এক সময় দেখি প্রকাশিত অনেক লেখা জমা হয়ে আছে আলমারির শাড়ীর ভাঁজে, ওয়্যারড্রবের ড্রয়ারে ড্রয়ারে। তখনি ভাবলাম বই করি। প্রতিটি বইয়ের লেখাগুলো জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া মানে লেখার একটা শক্ত অবস্থান তৈরি হওয়া। এবং লেখাগুলো মান সম্মত হওয়া, কারণ এক একজন বিভাগীয় সম্পাদকের হাত ঘুরেই পত্রিকায় প্রকাশ পায় লেখাগুলো। অনুগল্পে রয়েছে আমাদের বাস্তবতার কথাগুলো, শিশুতোষ বই ‘প্রিয়ন্তির সারাবেলা’ বইতে রয়েছে বর্তমান ডিজিটাল সময়েও বড় হয়ে প্রিয়ন্তির অন্যরকম সময় কাটানোর গল্প, মোট সাতটি গল্প আছে যা আমাদের পরের প্রজন্মকে কিছুটা হলেও বাস্তবমুখী করবে। তুলতুলির বইতে রয়েছে ১২টি গল্প তুলতুলিকে নিয়ে। এই শহরের অস্থায়ী শিশু তুলতুলির জীবন যাপনে কি ভাবে ছায়া হয়ে দাঁড়ায় গৃহকর্ত্রী নীলাঞ্জনা, কিভাবে তুলতুলি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে সেসব। আশাকরি পাঠকের ভালো লাগবে।
জাতীয় পত্রিকা ও শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা নবারুণ এ প্রকাশিত মোট আটটি গল্পের সমন্বয়ে ‘ওদের পাশে আমরা’ নামে বই আসছে ফারিহা আহসান অভ্র’র। পাতা প্রকাশনীর বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আলেয়া বেগম আলো। নিজের বই নিয়ে অভ্র বলে, ‘গল্পের বই পড়তে পড়তে লিখতে ইচ্ছে করে। স্কুল ম্যাগাজিন এ লিখছি ২য় শ্রেনী থেকে। মজার কিছু সময়কে নিয়ে লেখা আমার গল্পগুলো। প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে, আপুর সাইকেলের আফসোস নিয়ে, দাদাকে নিয়ে, আছে নানা (মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান মতিন) কে নিজে ভিন্ন ধরণের গল্প। অসহায় শিশুদেরকে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ নিয়ে লেখা ‘ওদের পাশে আমরা’ গল্পের নাম দিয়েই বইয়ের নামকরণ। মা আর আপু মিলে কুঁড়িটি অসহায় শিশুকে আমরা শিক্ষা সামগ্রী ব্লাকবোর্ড, চক, আদর্শলিপি বিতরন করি। আশাকরি ছোট বড় সবার ভালো লাগবে বইয়ের গল্পগুলো।’
কালান্তর থেকে প্রকাশিত হয়েছে মোজাম্মেল হক নিয়োগীর বই ‘টুনির গল্প’ বইটি। প্রচ্ছদ করেছেন উজ্জ্বল কুমার মজুমদার। নিজের বই সম্পর্কে মোজাম্মেল হক নিয়োগী বলেন, ‘শিশুদের গল্প বা ছড়া লিখতে গিয়ে শিশুদের ভাষাই খুঁজি। তাদের অনুভূতি ও অভিব্যক্তিকে চিত্রিত করার চেষ্টা করি। কখনও খুব সফলভাবে হয় আর কখনও সফলভাবে হয় না। আসলে গল্প লেখা শিখতে হয়, বিশেষ করে শিশুদের জন্য লেখার জন্য। আমি ৩ বছরের শিশুর যেভাবে ভাষায় লিখি ১২ বছরের শিশুদের জন্য সে ভাষাতে লিখি না। আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে, আমাদের দেশের ৩-৫ বছরের শিশুদের সাহিত্য সম্পর্কে সচেতন নয় বলে এরকম বইয়ের মর্যাদা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হালে মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে, শিশুদের শেখার জন্য পড়ার আগে পড়তে শেখার বই দিতে হবে। অনেকের ধ্যান-ধ্যারণা পাল্টাচ্ছে-এটি একটি আশার বিষয়। বই মেলার ৭০৭-৭০৮ নং স্টলে পাওয়া যাবে বইটি।’
একজন লেখকের জীবনের দ্বন্দ্বমুখর গল্প নিয়েই সোহেল নওরোজের প্রথম উপন্যাস ‘গল্পটি শুনতে চেয়ো না’ প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ এ। প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ করেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত। বইটি সম্পর্কে সোহেল নওরোজ বলেন, ‘মানুষের জীবনের সব গল্প কি বলা যায়? বোধহয় না। কিছু গল্প এতোটাই ব্যক্তিগত যে তা কেবল ব্যক্তির ভেতরেই সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। সেসব গল্প কখনো-কখনো উসকে উঠে মনের ভেতর হাহাকারের ঝড় তোলে। বাড়িয়ে দেয় আক্ষেপ, বিষণœতা। মনে হয়, এ গল্পটা জীবন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হলে বেশ হতো। কিন্তু জীবনের গল্প মুছে ফেলার মতো কোনো ইরেজার নেই। গল্প বলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া তেমন একটি গল্প, যা তিনি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন; সেটিই হঠাৎ সামনে চলে আসে। তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। লেখকের সামনে তার একমাত্র কন্যা আর বলতে না পারা গল্প। এ দুটোকে পাশাপাশি রাখতে না পেরে তিনি অন্য এক জীবনের সন্ধানে নামেন। যে জীবনের গল্প তিনি তার বন্ধুর মুখে শুনেছিলেন। চেষ্টা করেছি তা পাঠকের সামনে তুলে ধরতে। বইমেলায় ৩৮৮-৩৮৯ নং স্টল থেকে পাঠক বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।’
বসলে মাছি নাকের ওপর/রাগ ওঠে যায় টাকের ওপর/জোরসে মারি হাঁচি/ছিটকে পড়ে মাছি। (রাগ) সেদিন রাতে/ ইঁদুর দেখে/বললো হেসে বিলাই-/‘আয় না তোরে কিলাই।’ ইঁদুর বলে, ‘চুপ/সেদিন ঘরে চুরি করে/ খেয়েছিলি স্যুপ।/মনে কি তা আছে?
বলে দেবো কিন্তু আমি/খালামণির কাছে।’
নত হয়ে বললো হেসে বিলাই-/‘ঝগড়াঝাটি বাদ দিয়ে ভাই/আয় না দু’হাত মিলাই।’ 
(সমঝোতা) এমনি মজার মজার অনেকগুলো ছড়া দিয়ে সাজানো হয়েছে ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক শামীম খান যুবরাজের ছড়াগ্রন্থ ‘যুবরাজের ছড়া ১’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন চিত্রশিল্পী উত্তম সেন। অলংকরণ করেছেন উত্তম সেন ও মির শামীম। লেখককে নিয়ে পরিচিতি লিখেছেন শিশুসাহিত্যিক এমরান চৌধুরী। নিবেদন করা হয়েছে ছড়াকার জগলুল হায়দার ও কাদের বাবুকে। বইটি প্রকাশ করেছে শব্দশিল্প প্রকাশন। এটি পাওয়া যাবে বইমেলার ৬৬৯-৬৭০ নম্বর স্টলে ও চট্টগ্রামের বইমেলার ৩ নম্বর স্টলে।
সমসাময়িকদের মধ্যে জনপ্রিয় তরুণ কবিও ছড়াকার আবিদ আল আহসানের উপন্যাস ‘কেউ আছে কেউ নেই’। বিগত বইমেলায় কবিতা ও গল্পের কয়েকটি আসার পর এটি তার প্রথম উপন্যাস। বাবুই প্রকাশনীর এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ওয়ালিউল ইসলাম, নামলিপি করেছেন আল মামুন। বই নিয়ে
আবিদ আল আহসান বলেন, ‘ফাইজার ডাকে পেছনে তাকাতেই হয়। ওর দিকে তাকিয়ে এমন ভাব করি যেন ও এসেছে আমি মাত্রই টের পেয়েছি। ‘কি বলবে বলো’ সৌজন্যসূচক হাসি। মনে হচ্ছে ফাইজা এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজছে। তারপর এক পা দু’পা করে সামনে এসে বলে ‘ভাইয়া, আজ দুপুরেও স্বপ্নটা দেখেছি’। কোন স্বপ্নটা যেন? ওই যে বলেছিলাম স্বপ্নের মধ্যে কেউ একজন এসে আমাকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়..
অমর একুশে বইমেলার ৪৬২ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি।’
‘বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর’ রিক্তা রিচির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ‘অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানী’ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সারাজাত সৌম। চার ফর্মার এই বইটিতে রয়েছে ৬৪টি কবিতা। প্রতিটি কবিতায় জড়িয়ে রয়েছে গভীর জীবনবোধ। রয়েছে প্রেম, দুঃখবোধ, বিরহ, আনন্দ, দেশপ্রেম, ইতিহাস, প্রকৃতি প্রেম, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত কবিতা এবং আত্মাকে শুদ্ধ করার আহবান। নিজের বই নিয়ে রিক্তা রিচি বলেন, ‘চেয়েছি প্রতিটি কবিতায় যেন যাপিত জীবনের কথা উঠে আসে। ছোটবেলা থেকেই কবিতা পছন্দ, নিয়মিত কবিতা প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাহিত্য পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোতে। তাছাড়া ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিনেও গণমাধ্যমে ফিচার রাইটার হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছি। এবার কবিতা গুলোকে মলাটে বন্ধি করতে চেয়েছি, আশাকরি পাঠকের ভাল লাগবে।
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ৫৮৮ নং স্টলে পাওয়া যাবে রিক্তা রিচির বইটি।’
রানী সিদ্দিকা ইয়াসমিন পেশায় একজন মানুষ গড়ার কারিগর(শিক্ষক), শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেন। ‘বৃত্তভাঙা চাঁদের জোছনা’ উনার গল্পগ্রন্থ। মহাকাল প্রকাশনী বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। নিজের বই সম্পর্কে ইয়াসমিন বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে সামাজিক প্রেক্ষাপট পাল্টেছে, কিন্তু আমাদের মন ও মানসিকতা তেমন একটা পাল্টায়নি। আর এই দুর্বল মানসিকতার জন্য আমরা নিজেরাই যেন কিছুটা দায়ী। আমরা প্রতিবাদ করতে শিখিনি। কেউ কেউ প্রতিবাদ করে উঠলে সমস্বরে তাকেই দোষী সাব্যস্ত করার জন্য উঠিপড়ে তার পেছনে লাগি। “বৃত্তভাঙা চাঁদের জোছনা” গল্পের বইটি, সমাজের সেই সব ঘটনার প্রতিচ্ছবি। বইটির গল্পগুলো যেন, আমাদের-ই কোনো না কোনো ঘরের ঘটে যাওয়া ঘটনা। যেখানে নারীর ইচ্ছের কোনো দাম নেই। নেই দাম প্রেম ভলোবাসার। তবুও নিরন্তর স্বপ্ন দেখছে মানুষ, জীবন গুছাতে জীবন সাজাতে।
রম্যলেখক তারেকুর রহমানের দ্বিতীয় বই জ্যামিতিক হাসি। বইটি প্রকাশিত হয়েছে দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ করেছেন ফকির আল মামুন। নিজের বই নিয়ে তারেকুর রহমান বলেন, ‘হাসতে কার না ভাললাগে? শত কষ্টের মাঝেও মানুষ একটু হাসতে চায়। সেই চাওয়াকে পূরণ করার জন্য আমার ছোট্ট প্রচেষ্টা “জ্যামিতিক হাসি” বইটি। সর্বমোট ২২টি রম্যগল্প নিয়ে জ্যামিতিক হাসি বইটি লেখা। গতানুগতিক রম্যের বাহিরে আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার চেষ্টা ছিল। রম্যের ছলে নানান বিষয়কে সামনে নিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। প্রতিটি গল্পের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কিছু শিক্ষনীয় ব্যাপার। যা সত্যিই পাঠককে অনেক আনন্দ দিবে। আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া নানা অসংগতিগুলোকে রম্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। যারা বই পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্যই বইটি। বইটি পাবেন ২৩৪ নং স্টলে দাঁড়িকমা প্রকাশনীতে।’
তৃপ্তি প্রকাশ কুঠি থেকে প্রকাশিত হয়েছে আনজানা ডালিয়ার কাব্যগ্রন্থ ‘রংধনু বিকেলে’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন এইচ.এম.নূর। কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আনজানা ডালিয়া বলেন, ‘সবুজ প্রকৃতি, পাহাড় চূড়ায়, ঝর্নায় ঘুরে বেড়াতাম ছোট বেলা থেকে। প্রকৃতির খুব কাছে গিয়ে অনুভব করি প্রকৃতি আর কবিতা যেন একসুতোয় গাঁথা। তারপর থেকেই পাহাড় চুড়ায় বসে, ঝর্নায় ভিজতে ভিজতে, চলতে চলতে শব্দগাঁথি। হয় কবিতা। আমার কাব্যগ্রন্থের বেশীরভাগ কবিতায় প্রকৃতি নিয়ে লেখা। একুশে  বইমেলার ৫৫৮-৫৫৯ নং স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা-
২০১৯ এর  অরণ্যমন প্রকাশনীর ৪৪৫ নং স্টলেও বইটি পাওয়া যাচ্ছে।’
তাহমিনা তানি পেশায় সাংবাদিকতা, পাশাপাশি নাটকের স্ক্রিপ্ট ও চিত্রনাট্য লিখেন। উনার গল্পগ্রন্থ, “নীলরঙ ভালোবাসা” বইটি প্রকাশ করেছে প্রিয়মুখ প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন মো. রায়হান উদ্দিন ফকির। নিজের বই নিয়ে লেখক তানি বলেন, “নীলরঙ ভালোবাসা” আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ, লেখক হয়ে উঠার প্রথম স্মারক বলা যায়। গল্প লিখতাম, তবে আমি আসলে ভাবিনি, বই বের করবো। ‘লিখব যা বলতে চাই’ নামে একটা গ্রুপে লিখতাম,  সেখানেই আমার পাঠক তৈরি হয়। গ্রুপের এডমিনসহ অন্যান্য সদস্যরা বেশ পছন্দ করেন আমার গল্পগুলো। পূর্ব ঘোষিত গ্রুপে  বছরের সেরা গল্পকারের এবং সেরা কবির বই বের করবে ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’। প্রকাশকের ঘোষণায় নিজের নাম দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। যাক আল্লাহর অশেষ রহমত, আর পাঠকদের ভালোবাসায় সম্ভব হলো বইটি প্রকাশ করা। কৃতজ্ঞতা প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদ ফারুক ভাইকে।’
শব্দের জাল ফেলে আহরণ করে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ। সাহিত্য সাগরের একজন তরুণ মাঝি রাহাত রাব্বানী। জীবন ও বোধের সমান্তরালে যার পদচারণ। বিগত সময়ে কবি রাহাত রাব্বানীর দুইটি কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত হলেও এবার প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বলতে এলাম ভালোবাসি’ নব সাহিত্য প্রকাশনীর এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন হিমেল হক। প্রবন্ধগ্রন্থ নিয়ে রাহাত রাব্বানী বলেন, ‘স্কুলগন্ডি পেরুতে না পেরুতেই মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ সহ বাংলা সাহিত্যের জীবিত কবিদের সাথে গভীর এক সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়। তাদেরকে দেখার, জানার সুযোগ হতে থাকে আরও কাছ থেকে। এছাড়া ধীরেধীরে বাংলা সাহিত্যের প্রয়াত-জীবিত লেখক ও কবিদের সাহিত্যকর্ম, জীবন আবিস্কার করতে থাকি। যা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে লিখে রেখেছি; নানান কাগজেও এসেছে তার কিছু। একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম সর্বদা আমার বালক হৃদয়কে আলোড়িত করে। যুদ্ধদিনের নানান স্মৃতি; বিজয়ের গল্প শুনতে ছুটে গেছি মুক্তিসেনাদের কাছে। তাদের সাহসীকতা, অবদান আমার পরবর্তী প্রজন্মকে জানানোর উদ্দেশ্যে লিপিবদ্ধ করেছি; যা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল করবে। নিজের এলাকার মুক্তিসেনাদের জানাতে পারবে। সেইসব লেখার পাশাপাশি একান্ত প্রিয়জনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েও লিখেছি বেশ। এইসব লেখা কখনো বই আকারে প্রকাশ হবে তা ভাবনায় ছিলোনা। অমর একুশে বইমেলার ৩০৬ নং স্টলে বইটি পাওয়া যাবে।’
অমর একুশে বইমেলা ২০১৯-এ ‘লিখন প্রকাশন’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ফাহমিদা ইয়াসমিনের তিনটি গ্রন্থ। এর মধ্যে ‘বিদ্রোহী বিক্ষোভ’ কবিতা গ্রন্থ, ‘ফুল ফুটে পাখি উড়ে’ শিশুতোষ গ্রন্থ এবং ‘ডায়েরির শেষ পাতা’ উপন্যাস। তিনি সহজ ভাষায় কবি মনের কল্পনাকে সাজিয়ে তোলেন পাঠ উপযোগী করে। উপমা এবং অলঙ্করণের মাধ্যমে গঠন করেন কবিতার শরীর ও আত্মা। কবি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, পত্রিকা ও সংকলনে অনবরত লেখে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় রেখে যাচ্ছেন পদচিহ্ন।উল্লেখ্য, গ্রন্থ তিনটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আদিত্য অনিক প্রকাশনীর ৫৯৮ স্টলে এবং লিটলম্যাগ চত্বরের ৯০ নং স্টলে।
আমরা বই কিনবো পড়ার জন্যে, অন্যকে খুশি করানোর জন্যে নয়। বই কিনবো বই পড়ুয়াদের উপহার দেয়ার জন্যে, বই কিনবো জ্ঞ্যানের পরিধি বৃদ্ধি করার জন্যে, ঘরের কোনার ছোট লাইব্রেরী ভরার জন্যে নয়। আরেকটি কথ, বই এখন সবাই ফ্রি চায়, ব্যক্তিগত ভাবে দেখেছি বই ফ্রি পেলে সেই বইয়ের গুরুত্ব থাকেনা। তাই বই ফ্রি চাইবী না। বই কিনে পড়বো, বই কিনে পড়া মানেই লেখককে সম্মান জানানো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ